হোম কবিতা পাণ্ডুলিপির কবিতা : মিস্টার টী ও প্রেমময় বুলডোজার

পাণ্ডুলিপির কবিতা : মিস্টার টী ও প্রেমময় বুলডোজার

পাণ্ডুলিপির কবিতা : মিস্টার টী ও প্রেমময় বুলডোজার
2.86K
0

পাণ্ডুলিপির নাম শুধু নয়, কবিতার ভাষাভঙ্গিও বুলডোজারের উপস্থিতি জানান দেয়। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে লেখকের উইট। সব মিলিয়ে অবদমিত এক জনভাষ্য হয়ে উঠতে চায় কবিতাগুলি—রাজনীতি-সংশ্লিষ্টতার ভিন্নমাত্রায় নিজেকে ব্যঞ্জিত ক’রে।

‘মিস্টার টী ও প্রেমময় বুলডোজার’-এর কবিকে অভিনন্দন।


ইলিশ পুলিশ ও মা পদমা বিরিজ


ট্রাপিজিয়মের বাক্সে বসে হাসছে পুলিশ
আমি তাকে ইলিশ মাছের দুটো টুকরা দিয়ে বললাম, খাও
কিন্তু সে খায় না, কয়, ইলিশ মাছ ট্যাকা দিয়া বানাই দেও
আমি তেখন মা পদমার কাছে গেলাম
গিয়া তার পাদুকাতলে সুন্নতমতো জবাফুল রাখলাম
এবঙ বললাম, আম্মা গো, পুলিশ তো তুমার ইলশা মাছ খায় না
মা পদমা কিশোরীর ন্যায় খিল খিল কইরা হাসে আর কয়, হাছাই?
আমি কই, হ হাছাই। ইনফ্যাক্টো খায়ও না পানও করে না
মা পদমা কয়, ক্যা?
কই, ইলশা মাছ ট্যাকা দিয়্যা বানাও নাই দেইকা
মা পদমা এইবার গুস্বা করে, কিশোরীর ন্যায় গাল ফুলায়
আর কয়, আমারে কি তরা ট্যাকা দিয়া বানাইছত?
কই, তা বানাই নাই, কিন্তকু তুমার উঁচা দিয়্যা তো ম্যালা ট্যাকার বিরিজ বানাইতাছি?
মা পদমা হাসে আর ক্ষ্যাণে ক্ষ্যাণে কান্দে
আর কয়, একদিন আমিও তগো নিগ্যা ট্যাকা দিয়্যা ইলশা মাছ বানামুনে…হেইদিন ইলশা খাইছ…

 


পিথিমি একটা নীল রঙের নিগার সুলতানা


পিথিমি একটা নীল রঙের নিগার সুলতানা
যাকে ভালোবেসে আর ভালো লাগে না।
তাই আরো বেশি নিগার সুলতানা এসে
আমাদের ভালোবাসুক
হাসুক কিটিকিটি মিটিমিটি
কখনও গম্ভীর জলতরঙ্গ ভড়ংয়ের সুড়ঙ্গে
কখনো সাক্ষাৎ ফণীমনসা ধমক
ধামকে কান ম’লে শাসাক, বাসাক আরো বেশি ভালোবাসা
বসাক সামনে, চোখের আড়েঠারে বুঝাক ভালোবাসা কত মধুরসা
খসাক পয়সা। পকেটের টকেট খেয়ে প্যাকেট ফেলে দিয়ে
দূরে হাত ধুয়ে নদীজলে। বলুক, অযথা এত ভালাবাসা ঠিক না।
ফলে জানি, ভালোবাসা ঘনীভূত নিরীহ এক তীব্র যন্ত্রমা
মন্ত্রণার মাকে পেয়ে শাসিয়ে যায় গভীর সব অনুশাসনা
বাসনা পুষে তাই কী ফল হায়।
পিথিমি এক নীল রঙের নিগার সুলতানা
যাকে ভালোবেসে আর ভালো লাগে না।

 


প্রসূন ফুটেছে একা একা হায়, মনের গহিন বনে


এই ক্লেদকর জীবনের কোনও ভাগীদার নেই
এই ক্লেদকর জীবনের কোনও প্রিয়তমা নেই
অথচ আজ প্রসূন ফুটেছে এই বিরহী মনে
একা একা, প্রাণের সুবাস নিয়ে
আমি তার সুগন্ধ শুঁকি মনের গহিন বনে।

 


ডাইনোশুয়ার


মানুষ ক্রমশ ডাইনোশুয়ার হয়ে যায়
পেটে পাথর বেঁধে ডাইনোশুয়ার হয়ে যায়
গভীর প্রেমময় পৃথিবী মাঝে
একেকজন বেদুইন যেমন
প্রেমের নদী পার হয়ে আসে অবলীলায়
তেমনই লীলাময় মানুষের জীবন
যৌবন
কৃষ্ণ কৃষ্ণময়
রাধা চুলবাঁধা রাধা
গাধার পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়ায়
প্রেমের রশিতে বেঁধে
যখন চরাচর প্লাবিয়া যায় শশীর বিচ্ছুরণে
আলোয় আলোকময় কৃষ্ণগহ্বর
অন্ধকারে কাঁদে
তখন ফাঁদে পড়া মনুষ্যসকল কেবলই ডাইনোশুয়ার হয়ে যায়
আলোময় ঘাস খায় আর ডাইনোশুয়ার হয়ে যায়

 


ডানহিল পর্বতে প্রেম নিবেদন কালে


ডানহিল পর্বতের ধারে একটা বাসা ভাড়া নিলাম
সামনে ফুলের বাগানসহ
অথচ সেখানে কুনো বাসা ছিল না
ছিল না কুনো ফুলের বাগান
একটা নির্জন ফলের বাগান ছিল কিনা
তাও তো জানি না ঠিকমতো
তারপরও আমার ফল খাওয়ার তেষ্টা পায়
তেষ্টায় মরে যেতে ইচ্ছা করে ফুলের বাগানে শুয়ে
একটা নিঃসঙ্গ গোলাপ ফুলের কাছে
প্রেম নিবেদনের পর তাকে ডানহিল পর্বতের বাসায় নিয়ে যেতে ইচ্ছা করে
কিন্তু ডানহিল পর্বতে কুনো বাসা ছিল না
ছিল না কুনো ফুলের বাগান ফলের
বাগানে নির্জনতা ছিল কিনা তাও তো জানি না ঠিকঠাক
তবে গোলাপফুল…. তুমি তো ছিলে?
নাকি তুমিও ছিলে না ডানহিল পর্বতে প্রেম নিবেদন কালে?

 


আজ পিস্তল কুড়াবার দিন


ছহি ছালামতে বাড়ি ফিরে আসার পর
মনে হলো কী যেন ফেলে রেখে এসেছি
ভয়ে হাত পা কাঁদিতে থাকে
আবার সেই দূর যাত্রাপথে?
ককটেলের বন, সমুখে পেট্রলবোমা-নদী
নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ
জঙ্গলে ঘাপটি মেরে বসে আছে বিএনপি
জামাত জামাতা সাজিয়া বসিয়া রহিছে উভয়েরই কোলে
এমনতাবস্থায় ফিরে যাওয়া দুষ্কর জানি
তবু কী যেন ফেলে রেখে এসেছি
পকেটে হাতড়াই, পাই না
মনের গভীরে ডুব দেই, পাই না
কোথায় যেন ফেলে এসেছি
তাই ফের পাদুকা গ’লে
নিজেকে নিজে কাঁদিয়ে
রাস্তায় নামি
ডানে ককটেলের বন
বাঁয়ে পেট্রলবোমা-নদী

 


তাইগ্রিস নদীতীরে পাওয়ার বিষয়ক বাহাস


তাইগ্রিস নদীর তীরে বসে হাসছি
আর দেখছি, একটা উদবিড়াল মাছ ধরছে আর খাচ্ছে
আমি তেখন উদবিড়ালকে জিজ্ঞাসিল্যাম, এই যে মাছ ধরছ
আর খাচ্ছ…এই পাওয়ার তুমাকে কে দিয়েছে?
উদবিড়াল মাছ খায় আর হাসে, কিন্তু কুনো টকিঙ করে না
তেমু আমি জিজ্ঞাসিয়্যা যাই, বলো…কে তুমাকে পাওয়ার দিয়্যাছে?
তেমু উদবিড়্যাল টকিঙ করে না, মাছ ধরে আর মাছ খায়
আর হাসে ফিকফিকিয়্যা
আমার রাগ লাগে, আমি তাহাকে একটা ঢিল মারিয়্যা বসি
উদবিড়্যাল জলের গভীরে ডুব দ্বারা ঢিল প্রতিহত করে
নগে একটা বড় মাছ ধরিয়া আনে আর হামাক জিজ্ঞাস করিয়্যা বসে, আমাকে ঢিল মারিলে ক্যানে?
এইবার আমি কোনও রা কাড়ি ন্যা
তদুপরি সে ফিকফিক করিয়্যা হাসে
রাগে আমার পিত্তি জ্বলে
তাই বলিয়াই ফেলি, বেশ করিয়্যাছি, তুমাকে আরও মারব, আরও মারা উচিত
তেখনও উদবিড়াল মাছ খায় আর ফিকফিকিয়্যা হাসে
আর কহে, তা না হয় মারলে, কিন্তু কেন মারা উচিত তাই তো বললে না?
তেখন আমি উত্তর করি, আমার রাগ লাগিয়াছে, তাই মারিয়াছি, কেন তুমি উত্তর করিলে না?
তেখন উদবিড়াল আর হাসে না, খালি কহে, যাহার উত্তর নাই, তাহা কী করিয়্যা করি?
আরও কহে, এই যে তুমার ঢিল মারিবার পাওয়ার এই যে আমার মাছ মারিবার পাওয়ার, এইসব কেউ কাহাকে দেয় না, অটো হইয়্যা যায়। তাই পাওয়ারের মালিক আল্লাহ, তার কাছথন যে যেভাবে পারে পাওয়ার ছিনিয়্যা নেয়, তুমি ঢেল মারিয়্যা আমি মাছ ধরিয়্যা। এখন যুদি তুমি হামাক পোশনা করো, আল্লাহ কে? তাহালে নিরুত্তর থাকা ছাড়া আর কীইবা করিবার আছে?
তেখন আমি বুঝিতে পারি, আল্লার পাওয়ার নিয়্যা মানুষ ছিনিমিনি খেলে এবং আল্লাহ বিষয়ক পোশনো করলেই তারা গভীর নীরবতা পালন করে

 


আপা


স্বপ্নে আমি আপার বোন হয়ে গেলাম।
অপৃথিবীর কোনও এক গ্রামে আপা পাটি পেতে বসে আছে
আপাকে খুব সুন্দর লাগছে। আমি হাসতে হাসতে আপাকে কী জানি বললাম
কিন্তু আপা হাসল না, দুইটা গ্রামের লোক আমাদের পাটির পাশেই বসে কী জানি ভুলভাল আলাপ করতে ছিল
আমরা তার কতক শুনছিলাম, অথবা শুনছিলাম না আমাদের পাশে আরও কে কে যেন ছিল
কে যেন আমাদের ভাত বেড়ে দিল আমি খেতে বসলাম আপার ভাই হয়ে।
আপাকে বললাম, তুইও খা। আপা খেতে বসে ঘুমে আমার কোলে ঢলে পড়ল।
আমি আপাকে কোলে লয়ে কোথায় যেন হাঁটতে থাকলাম।
আর এঁকেবেঁকে নাচতে থাকলাম, কোনও এক মধুর গানের সুরে সুরে।
বনানী ঘেরা সেই পথ আমাকে একা একা নিয়ে গেল ইট কাঠ পাচিলে ঘেরা এক সুন্দর বাড়ির দিকে।
আমার ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর দেখলাম
পেটের নিচে পড়ে থাকা হাতটাকে আমি টেনে বের করছি
আর আপার প্রতি এক সুগভীর দরদ অনুভব করছি।

 


ফুটবল এত ব্যথা পেয়েও কাঁদে না


তখন পিযুষ নন্দী আমাগো বাসায় আসে ফুটবল খেলতে
কিম্বা আমরাই তাগো বাসায় যাই ফুটবল খেলা দেখতে
যদিও চঞ্চল নন্দী আমাগো ইমরাজি পড়ায় ভয়েস আর ন্যারেশনে
তেমু আমরা ফুটবল খেলা দেখি শয়নে ও স্বপনে
যদিও আজিবর ভেন্ডরের পুলা স্বপন তখনই হিরোইন খায়
আর লেখে কবিতা
মাটি দিয়্যা বানায় মূর্তি
কাঠ দিয়্যা বানায় পাখি
তারপর সেইসব পাখি ও মূর্তি বেইচা
সে খালি হিরোইন খায়
আর ফুটবল খেলা দেখে পিযুষ নন্দীর
বিক্রি হওয়া সেইসব পাখিরা মূর্তিরা প্রজাপতিরা
স্বপনের জন্য কাঁদে
শয়নে ও স্বপনে
পিযুষ নন্দী কেবলই ফুটবল খেলে

 


ফেছবুক ও পুলছিরাত


পুলসিরাত পার হওনের আগে
হবস লককে ডেকে এনে বললাম, একটা দার্শনিক ছক কাটো
যাহাতে আমি কিনো যন্ত্রণা ছাড়াই পুলছিরাত পার হইয়া পারি
হবস লক হাসে, কয়, তর পুলসিরাত পার হওনের দরকার কী?
তুই নদীর এপারেই থাক। ওই পারে আর যাওনের দরকার নাই
তেখন আমি ভাবি, কতা তো খারাপ কয় নাই।
তেমু কহি, কিন্তু চাইল ডাইলের সরবরাহ তো ভালো না
কী খাই কী দাই, বিল্ডিঙে তো ঘুম আহে না?
হবস লক কয়, ধুরু শারামজাদা, ঘুম আহনের দরকারডা কী?
সারা রাইত খালি ফেছবুক গুতাবি…
আমি কই, তা নহে গুতাইল্যাম, কিন্তু যুদি কিনোদিন মইরা যাই?
তেহেলে তো পুলসিরাত সামনে আইসা পড়িবে?
হবস লক কহে, ধুরু শারামজাদা…কে কহিল মরিবি?
তুহু তো ফেছবুকেই রহিয়্যা যাবি…অনন্ট জলিলকাল
যে মরিবে উহাকে লাথি দ্বারা এমনেই পুলসিরাতের নিচে ফালিয়্যা দিবি
কষ্ট পাইলে সে পাইবে তুহু তো আর পাইবি ন্যা…
হবস লকের টকিঙ ভাল লাগে
তাই চোকের সামনে খালি ফেছবুক দেখি।

 


ঝড়ের পাখি


হুদহুদ ছিল পাখির নাম
এহন দেহি এইটা একটা ঝড়ের নাম
তাইলে এহন আমি কারে ভালোবাসুম
ঝড় না পাখি?

 


গুলাপফুল


একটা গভীর গুলাপফুল ফুটিয়া উঠিল আমাদের বাগানে
লেফাফাদুরস্ত হয়ে ফুলের কাছে ছুটি
তনুমন দিয়া ফুলের শরীর শুঁকি
আমাদের ভুলেরা স্মরণ করিয়ে দেয় ফুলেতে কাঁটা থাকে
তবুও আমরা ফুলের কাছে ছুটে যাই
সৌরভে মাতোয়ারা হই
ভুলে যাই ভুলের ইতিহাস
আমোদে জড়িয়ে ধরি ফুল
কণ্টকাকীর্ণ হই
হয়ে বুঝি
আমাদের ভুলগুলি
ফুল হইয়া ফুটিয়া ওঠে আমাদেরই বাগানে।

 


মানুষ একটি মাছখেকো নির্দয় বিড়াল


মানুষ একটি পাজি বিড়াল
সে খালি মাছ খায়
মাছের কাঁটাকুটাও খায়
ফুলকা খায় কচি কচি মাথা খায় বুইড়া মাথা খায় মগজ খায়
কেউ কেউ ঝিল্লিঝুল্লি পর্যন্ত খাইয়্যা ফালায়
খালি ফালিয়্যা দেয় পিত্তথলি আর কিছু চুছা
ওইগলা খাইয়া বিড়ালেরা মূলত বাঁইচা থাকে
আর ম্যাঁও ম্যাঁও করে কাঁদে

 


পাললিক শিলা


একটা গুলাপি পিস্তলের কাছে
আমি আমার মরে যাওয়াকে বেন্ধে রেখেছি
একটা পবিত্র ঘুড়া যখন চিঁহিঁ করে ডেকে ওঠে
আমি তখন আমার মৃত্যুপথযাত্রী দুলাভাইকে বলি
বাগানে নানাবর্ণের ফুল ফুটেছে
পরিরা গান গাইছে
আসুন আমরা বেঁচে থাকি
একটা ক্ষুধার্ত বিকেলের কাছে একটা নিহত গুলাপ ফুলের কী দাম আছে বলুন
তবু এই প্রেমহীন নগরীতে আপনি বেঁচে আছেন একটি পরিযায়ী পাখির মতন
এটা কি কম বড় কথা?
এখনও যে শেগাচিনা আপনাকে গুম করে নাই
এইটাও কি কম বড় কথা?
তবে কেন আপনাকে ইতিহাসের ফাইফরমাশ খাটতে হবে?
আসুন আমরা সবাই আম্লীগ হয়ে যাই
এবঙ বলি পৃথিবী একটি সুন্দর প্রাণী
তাকে অবশ্যই ধর্ষণ করতে হবে
তাই ফুল আর পাখিরা দলবেন্ধে ঘুরে
কিন্তু ধর্ষণ এড়াতে পারে না

 


কান্না


সান্টিয়াগো নদীর তীরে বসে কাঁদছি
নিজের অবর্ণনীয় অসহায় দশায়
যদিও কান্নার জন্য একটা গোলাপ-বাগান বেছে নিতে পারতাম
তবু মনে হলো না, কান্নার জন্য সান্টিয়াগো নদীই সেরা
কারণ ও নামে আসলে কোনও নদী নাই

 


সুন্দরবনে কারেন্ট কারখানা


মিস্টার টী ,
তুমি ওই গোলাপি হরিণকে বলো… এই বনে একটা বাঘ আছে
যে কারেন্ট কারখানায় মজুরের কাজ করে
আর মাঝে সাঝে গান গায়… বাংলায়
এই কথা শুনে মিস্টার টী
ফিক ফিক করে হাসে..ইঙরাজিতে
কহে, বন বাঘ কারেন্ট কারখানা ….
এইসব না থাকলে তোদের গান গাওয়া হবে না
কারণ তরা এক গানগাওয়া জাতি
কারেন্টের শট না দিলে ঠিকমতো গান গাইয়্যা পারোস না…

 


রোহিঙ্গা


মিস্টার টী,

পবিত্র গাছের গোড়ায় পানি ঢালা বন্ধ করো

কী ঠ্যাকা পড়ছে তুমার গাছরে বাঁচানির

তার চাইতে আহো পকেট থিক্যা একটা কুঠার বাইর করি

আর গাছের গোড়ায় কোপ দিতে থাকি

গাছটা যখন পইড়া মইরা যাইব

তখন তার ডাইলে বাসাবান্ধা পাখিরা

চিক্যার পারতে পারতে উইড়া যাইব

সে দৃশ্য দেখতে না পারলে এ জীবন বৃথা

 


নিরবচ্ছিন্ন ভাঙচুর ও প্রেমময় বুলডোজার


ধানমন্ডিতে গেছিল্যাম, সেখানেও ভাঙচুর চলতাছে, আর চলতাছে মোবাইলে ভিডু ধারণ, ছেলে বুড়ো মেয়ে বুড়ি সক্কলেই। আর যার ভাঙা যাইতাছে সেও লজ্জার হাসি হাসতে হাসতে জিনিসপাতি সরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। সেসব লজ্জা ফজ্জার তুয়াক্কা না করে বুলডোজার ভাইয়্যা সুমানে গুঁতিয়ে চলছে, ইট কাঠ পাতর…ধুম ধাম ধাম…
হটাশ মনে হইল, আমি যুদিল বুলডোজার হইতাম, তেহেলে একটা বাড়ি দিয়্যা পিথিবিডাই ভাইঙ্গা ফালাইতাম।
আর এইটা জাইন্যাই মুনে হয় আল্লায় আমারে বুলডোজার বানায় নাই।

 


মিতুয়া


মিতুয়া, তুমার ডাইন চোকে ঝিনাই নদী
বাঁউ চোকে আছিম তলা বিল
তুমার নদী ও বিলে ফুইটা রহিয়্যাছে শাপলা ফুলেরা
কত মাছেরা গাবায় ঢোঁড়া সাপেরা করে কিলবিল
তেমু কিলবিলের খুনি মেয়েটা যেখন তরোয়াল দিয়্যা পোছ দেয় আমার সাটের বুতামে
তেখন বুঝি আমার একটা স্যান্ডো গেঞ্জি পরা উচিতাছিল
কিন্তু কিলবিলের মেয়েটা তা মানে না
বুকের আধফোটা শাপলা ফুল দেকায়
আর আমি ধোড়া সাপের ন্যায় কেমনে জানি পেঁচাইয়্যা যাই
তেখন মিতুয়্যা তুমি ফিরে আসো আমার মনে
তুমার ডাইন চোকে ঝিনাই নদী বাঁউচোকে আছিম তলা বিল
তুমার নদী ও বিলে ভালোবাসারা কেবলই কিলবিল করে।

 


পুটিন একটি পুঁটি মাছের ছেলে


পুঁটি মাছের ছেলে পুটিন
তার শ্যাওলার বনে ঘর আছে
আমি যখন খুব ক্ষুদ্র ছিলাম তখন বাবার লুঙ্গি দিয়ে পুঁটি মাছ ধরতে যেতাম
জাল ছিল না বলে সেইসব পুঁটি মাছেরা
ঝিলিক দিয়ে উঠত সকালের কোমল রোদে
রোদ ঝলমল সেইসব পুঁটি মাছেরা
বাবার লুঙ্গির ধাওয়া খেয়ে
পালিয়ে যেত শ্যাওলার বনে
যেখানে পুটিনের ঘর আছে

 


আমি ও মিস্টার টী অথবা ভালোবাসাবাসি


আমাকে ও মিস্টার টীকে পিথিবির সকলেই ভালোবাসে

কিন্তু যুক্তি দিয়ে ভেবে দেখি, আমাকে ও মিস্টার টীকে আসলে কেউই ভালোবাসে না

অথবা মিস্টার টীকে অনেকেই ভালোবাসে কিন্তু আমাকে তারা বাসে না

কিম্বা আমাকে কেউ কেউ ভালোবাসে কিন্তু মিস্টার টীকে তারা ভালোবাসে না

এমতাবস্থায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের ভালোবাসুক চাই না বাসুক

আমরা পিথিবির সকলকে ভালোবেসে যাব

 


রক্তের টাইগ্রিস নদী পার হইতে পারে না মিস্টার টী


টাইগ্রিস নদীর তীরে বসে কানছে মিস্টার টী

আমি তারে জিগাই, কান্দো ক্যা?

কয়, নদী পার হইয়্যা পারি ন্যা…

কই, সাঁতার শিখো নাই ক্যা?

কয়, সাঁতার তো শিকছি…

কই, তেহেলে নদী পার না হওনের কী আছে?

কয়, কিন্তু রক্তের নদী পার হওনের সাঁতার তো শিকি নাই…

 


সাইন্টিফিক প্রেমের বাগানে ফুটে ওঠে ফুল..বেহুদা


একদিন চূড়ান্ত বিকেলে নাথিঙনেসের খপ্পরে পড়ে
বাসায় ফিরে এলাম আইল্যা-ঝাইল্যা চুলে
দেখি, চাইল নাই ডাইল নাই, পিঁয়াইজ মইচ তেজপাতা কিচ্চু নাই
আছে কেবল এক নাথিঙনেছ বুড়ো
ড়াবিশ ফালানের বাস্কেট থেকে মস্তিষ্ক উঁচা করে কয়, নিবি?
কই, কী?
কয়, উন্নয়ন…
কই, কীসের উন্নয়ন?
কয়, স্বরবর্ণের উন্নয়ন… ব্যঞ্জনবর্ণের উন্নয়ন… কখগঘ মাথা হেঁটের উন্নয়ন
কই, না…নিমু না।
কয়, নিবি না ক্যা? তর কি উন্নয়ন লাগে না?
কই, না, আমার কিনো উন্নয়ন লাগে না…
ড়াবিশ বুড়ো হাসে, খ্যাক খ্যাক করে হাসে।
কয়, তুই একটি ড়াবিশ, অনুন্নত ড়াবিশ
আমার চোক ফেটে কান্না পায়। হাউম্যাও করে কাঁদি আর কহি, আমে ড়াবিশ আছি ভালো আছি…আমার এই নধো-র (উল্টা কইরা) উন্নয়ন চাই ন্যা, তার বদলে আমারে চাইল দেও ডাইল দেও মইচ দেও পিঁয়াইজ দেও নুন ত্যাল তেজপত্র দেও…জীবনের নাথিঙনেস ছাড়াই

 


সূর্যঘড়ি


সকালে ঘুড়ার ডিম দিয়ে নাস্তা করার পর মনে হলো পৃথিবীকে একটু চকটানো দরকার
বান্দির বাচ্চা আমাকে নানা ধরনের নিউক্লিয়াস সাইটোপ্লাজম ও রাইবোজোম বুঝাচ্ছে
অথচ তার মায়া ও মরীচিকা পান করে এই সেদিনও প্রিজমের ওপারে রামধনু দেখেছি
এখন জমির দালালির মতো কঠিন বিষয় যদি আমাকে দাও
দাগ নম্বর, শতাংশ কাঠা কিম্বা খারিজ সাব কবলা তবে কিভাবে হবে?
কিভাবে হবে হে সুন্দরী জাহ্নবী?
তুমার না হয় জানালা নেই, শতেক দরজাময় সামনে সূর্যঘড়ি খাবি খায়
পৃথিবী সময়ময় তুমার ছাত্রেরা শিক্ষককে মানে না শিক্ষকরা ছাত্রেদের জানে না
ওই যে দক্ষিণারঞ্জন মিত্তির এখনও রূপকথার গান গায়
তাহলে আমাদের পাতে ঘুড়ার ডিম এলোমেলো ঘুরে বেড়ালে আমরা কি তাকে দিয়ে খিচুড়ি খেতে পারি?
তাই হে সূর্যঘড়ি ও সুন্দরী জাহ্নবী
আমাকে দেখাও প্রিজমের সাত রঙ
কল্পনার বোধিবৃক্ষ ও সুরেলা নদী।
নাহলে এ যাত্রা বিদায় দাও
নিজের মতো করে ঘুরি।

 


গরিব মাইনষ্যের খাওয়া দাওয়া


একটা সরীসৃপ ক্রমশ গরিব মানুষের ভাব ধরে আমাদের ঘরে ঢুকে
আমি তারে জিগাই, ভাত খাইছত?
কয়, না খাইলেই কী?
কই, না…কিচ্ছু না…
কয়, তাইলে জিগান চুদাস ক্যা?
কই, না…শাকপাতা দিয়্যা গোটদুই ভাত আছিল…
কয়, দে তাইলে…খাই
শালারে শাকপাতা আর চুকা ডাইল দিয়্যা ভাত বাইড়া দেই, সুনামুখ কইরা খায়…

 


পৃথিবী


পৃথিবী একটা রঙিন বতসোয়ানা নদী
একটা গুলাপফুলের বাগানে ফুটে থাকা প্রজাপতি
একটা নির্মম ভেজা বেড়াল
কেবলই জলে ভিজে কেবলই গান গায় পাখিদের বিরহে
তাই এক সুমহান সন্ধ্যাবেলায়
মানুষ যখন অন্ধকারে ডুবে যায়
তখনও আমি তুমাকে চিনি গুলাপফুলের বাগানে ফুটে থাকা প্রজাপতি
আমি তুমাকে চিনি হে রঙিন বতসোয়ানা নদী

 


নিরিষাভোজীগণ


মানুষ খালি ছাইখুল হাদিস আল্লামা একবালের কাছে মাপ মুক্তি চাহিয়্যা অন্যায় প্রতিরোধে আইগিবার চায়
অথচ তারা সকলে নিরিষাভোজী
তাই আমি তাগের বলিল্যাম শুধু শাক সবজি নহে
এই যে পথে-প্রান্তরে কত গোরু ও ভেড়া বরকি ঘুরিয়্যা বেড়ায় উহাদেরও এট্টু আট্টু খাও
তাইলে তারা আরাম পাবে এবং তাহাগের বোডিতে লাইগা থাকা মাংসরা মুক্তি পাবে
হাড্ডিগণ কুড়মুড়িয়্যা ভাইঙ্গা যাইব তুমার দাঁতের তলে
তুমি একটা নির্দয় কামুড় দ্বারা পান করিবে পিথিবির আমোদ-ধারা
প্রমোদে লুটিয়া পড়িবে বিজ্ঞানের হাজারো ফজিলত
উড়িয়া আসিয়া জুড়াইবে তুমার তনুমন
ভানুমতি তার রশ্মি দ্বারা বৃক্ষের ফল-ফলাদি ও ফুলেরা মধুরসা পাক করিয়্যা তুমার পাতে তুলিয়্যা দিবে
তুমি কেবল দাঁতে তুলিয়্যা কাটিয়্যা নিবে উহাদের সুস্বাদু স্বাদ
শুধু এইটুকু ক্লেশ করো প্রিয়ে,

মানুষের বিফদ আফদে গাও ভাসাইবার জন্য তুমার জর্ম নহে হে পুঙ্গব
তুমার জর্ম কেবলই রতিক্রিয়াদিতে মত্ত থাকিবার পথ্য সংগ্রহে।

 


আইসিস


একটা ডাইহাটসু পাখির বাসায় কোপ দিয়ে দেখলাম সেখানে দুটো ডিম মরে পড়ে আছে

আমি তখন কালেমা শাহাদত পইড়া ফুঁ দিলাম

ডিমেরা ভালো হয়ে গেল এবঙ সেখান থেকে এক ঝাঁক ডাইহাটসু পাখি বেরিয়ে এল

আমি তাদের সহবতের নগে স্যালামালকি দিয়া বললাম, স্যার আপনেরা কুনদিকে যাবেন

তখন তারা আমাকে বললেন, তারা তাইগ্রিস নদীপানে উড়ে যাবেন

আমি তাদের সাবধান করিতে বললাম, কিন্তু সেখানে তো আইসিস বসবাস করে

তখন তারা কিচিরমিচির করে হাসলেন এবঙ বললেন, তুমরাও কি কম আইসিস? বাচ্চা ফুটার আগেই ডিম কোপ দিয়া মাইরা হালাও…?

 


কাশ্মির


ভারতীয় বৃষ্টি নেমে এল বাংলার আকাশে
আমি সেইসব বৃষ্টিফোঁটায়
কাশ্মিরের কারুণ্য দেখি
দেখি লাল অশ্রুজল
কাঁদিছে মুক্তিফৌজ
ওরা সন্ত্রাসী নয়
ওরাও ফোটাতে চায় ফুল
খুব গোপনে একটুখানি হাসি
একটি মুখের হাসি ফোটাতে
ওরা বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে
তোমাদের আকাশে

 


টেস্টটিউব বেবি ও অন্যান্য


একটা সঠিক বিজ্ঞানের কাছে আত্মসমর্পণের হাহাকার ছিল
ছিল একটা সাফসুতরো টেস্টটিউবের ভিতর বেবি সেজে বসে থাকার
একটা মৃতপ্রায় ঘোড়ায় চড়ে বেইদুন নারীকে পিছে বসিয়ে অনেকদূরে যাওয়ার

তৃষ্ণায় ছাতি ফেটে মরে যাবার কালে কেবল প্রেম খেয়ে বেঁচে থাকার

কিন্তু সেসব আর হলো কই

বিজ্ঞান অজ্ঞান পার্টির হাতে ধরা পড়ে গেল

আর আমাদেরকে ধরে নিয়ে গেল দুষ্টু ফরমালিন।

 


মুক্তিযুদ্ধ বনাম আম্লীগগিরি


একটা খেলনা পিস্তলের কাছে শুয়ে আছে পৃথিবীর ফুলের বাগান

চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে একটা ভীতুরে শেয়াল
একটা সাপ হেঁটে যাচ্ছে… আনমনে পাখিরা বসে আছে চেয়ারে কেউ কেউ টেবিলে
গাইছে গান কবিতার

চায়ের কাপ ওড়াচ্ছে

পুষ্পশোভিত কাঁচুলি পরিরা জরির জামা খুলে ফেলেছে
ঠিক সেই সময় একটা ঘুমন্ত বিকাল

চোখ রগড়ে বলে, তুমরা খুব নয়ছয় শুরু করেছ

দেখছ না আমি ঘুমিয়ে আছি

তুমরা ঘরে ফিরে যাও এবঙ তুমরাও ঘুমাও

পিলিজ পৃথিবীর মহাক্ষতি করো না… এইভাবে

তখন বেদনাহত খেলনা পিস্তলটা নড়েচড়ে বসে

আর বিকালটাকে বলে কিন্তু আমরা তো কেবল গানই গাইছি দুষ্টু পাপিয়া বলে পিয়া পিয়া গান

বিকালটা আরও চোখ রগড়ায় আর বলে, কিন্তু তুমরা মুক্তিযুদ্ধের গান গাও নি

গাও নি শেখ মুজিবের গান

শেখ হাসিনার গান গেয়েছ কি?

কিংবা জয় বাংলার জয়?

এইবার চিৎকার করে ওঠে খেলনা পিস্তল

বন্ধ করো তুমার এইসব আম্লীগগিরি

আমরাও মুক্তিযুদ্ধ করেছি…

Abu Mustafiz

আবু মুস্তাফিজ

জন্ম ১৭ অক্টোবর, ১৯৭৬, টাঙ্গাইল। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, সরকার ও রাজনীতি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। পেশা : ব্যবসায়।

প্রকাশিত বই :
গল্প—
লুহার তালা [শুদ্ধস্বর, ২০১০]
একটি প্রাকৃতিক সাইন্স ফিকশন: শিন্টু ধর্মাবলম্বী রাজা, সবুজ ভদ্রমহিলা ও একজন অভদ্র সামুকামী [গুরুচণ্ডা৯, কলিকাতা, ২০১২]
ট্যাকারে ট্যাকা [শুদ্ধস্বর, ২০১৪]

ই-মেইল : abumustafiz@gmail.com
Abu Mustafiz