হোম কবিতা পলিয়ার ওয়াহিদের কবিতা

পলিয়ার ওয়াহিদের কবিতা

পলিয়ার ওয়াহিদের কবিতা
777
0

যশোর জংশন


এই সব পাতাঝরা দিনে
মায়ের স্নেহের স্মৃতি সাঁতরাই মনে
কত কত শীত খেয়ে গেছে
বয়ে গেছে দক্ষিণা সময়—
কবে থেকে ঝরে পড়ে আছি!

জামের পাতার মতো জড়ো;
শীতের রসের মতো গাঢ়
ভোরের আগুনে পোড়ে নাড়া
কোকিলের মুখে মুখে সাড়া

আমি তো ভুলেই গেছি প্রতিবেশী নাচ
আমার গতরে মাখা শহরের কাচ!
দাদির শিয়রে বসে স্বজনেরা আজ
পাড়ার মহিলা ফেলে রেখে সব কাজ
আমার মুখের কথা—
আমার চোখের ভাষা
বুঝে ফেলে তারা
কতদিন দেখি নাই অন্ধকার!
মিটিমিটি জ্বলে থাকা আকাশের তারা

কই মাছ দুধ-দই
আমন ধানের খই
সরু পিঠের নকশাগুলো
চাল কোটা ঢেঁকি-কুলো
পড়ে আছে বড় অবহেলা
যশোর জংশন শুয়ে
আমার অপেক্ষা গুনে কাটায় সে বেলা!

 


রোহিঙ্গা


সমুদ্রে-ডালায় টলটল করে ভাসে
নিষ্পাপ ফুলেলগুচ্ছ। তুচ্ছ ফুলেরই
নাম হতে পারে মানুষ। যেন-বা কাটা’র
নাম—মানবতা! কথা বলা অভিবাসী
এক-পাখি ডেকে ওঠে। ছোটে
সকালের সূর্য হায় হুমড়ি খেয়েই কাত!
তবু দেখি—পৃথিবীর সবখানে রাত!

 


মহুয়া মাতাল—ছয়


সেই কবে চিরবসন্তের উজ্জ্বল উদ্যান থেকে বিতাড়িত হবার পর পুনরায় পৃথিবীময় ক্ষমা নিয়ে আমি আর মহুয়া ভয়ে-ময়ে স্বর্গে ঢুকি। দেখি নয়নাভিরাম জান্নাত দাঁড়িয়ে অবিকল মায়ের মুখের মতন সচ্ছল।

ছুটে যাচ্ছে অফুরান মধুক্ষেত। মৃত্যু থেকে পালিয়ে-মালিয়ে তাড়াচ্ছে পিপাসা। চুমুক আটকে আছে মাকামের ঠোঁটে। কারার থেকে ভেসে আসছে দুধের নহর। আর অদূরে জান্নাতুল ফেরদাউসের গুণগানে ভরে উঠছে সবুজ বয়ান। তাকে ঘিরে মৌমাছি বিতরণ করছিল আগর কাঠের সুঘ্রাণ। আর সেখানে লটকানো জননী ও জায়ার ছবি।

যে কোনো আয়াতলোচনা মাওয়া হয়ে উঠতে পারেন জ্যোতিষ্কের সোনার চিরুনি।

 


মহুয়া মাতাল—সাত


আঁধারের ভেতরে যেতে যেতে আমি আর মহুয়া একটা কয়লার ব্রিজ পেরিয়ে যাচ্ছি আর দেখছি পৃথিবীর সকল মানুষ শীতকাল অতিক্রম করতে করতে কুয়াশা হয়ে যাচ্ছে বাট মুখে কাঁচা হলদি মাখতে মাখতে মহুয়া বলছে—এই তুমি কি কোকিলের ভাষা বোঝ?

মধ্যফাল্গুনে জন্ম নিয়েও আমি কেন জানি কখনোই বসন্তের মুখোমুখি হতে পারি নি অথচ বিরোধের চৌরাস্তায় পৌঁছে দেখি মেঘ ছাড়া আমাদের কোনো অর্জন নেই তবু প্রশ্ন জাগে—ঝরা পাতার প্রাপ্তি ও বিসর্জন নিয়ে কোনো কৌতূহল আছে কিনা?

ফাল্গুন এলেই কোকিলের সাথে সুমধুর ঝগড়া হয় কিন্তু সঙ্গীকে কাছে পেতে কি অপার বেদনা তার! আর আমি ভাবি আহ! কত পাখির ভাষা আমার হলো না জানা! আচ্ছা, পৃথিবী থেকে যদি একদিনের জন্য সব পুরুষ হাওয়া হয়ে যায়! তাহলে আমাদের প্রেমিকারা কোন সুরে মাতন করবে? কুহু কুহু রচন কি কেবল সঙ্গীকে কাছে পাওয়ার জিকির?

 


সুন্দরবন ম্যাজিক


ম্যাজিশিয়ানের হাতের মুঠোয় বাঘ চলে এল
অথচ দর্শকসারিতে বসা একটি বিড়ালও অবাক হলো না!
জাদুকর ঘোষণা করলেন—আরো জোরে হাততালি হোক
আর সবাই সাবধানে রাখো অণ্ডকোষের ইতিকথা।

কিছুক্ষণ নীরবতা শেষে একটা কুমিরের কঙ্কাল দেখালেন
আর নসিহত করলেন—এটা সিদ্ধ করলে পাবেন মূল্যবান মর্দন
এতে কমে রাষ্ট্রীয় ব্যথা, বাড়ে ষড়যন্ত্রের কৌশল!
আর জাতীয় কৌমার্য বহুগুণে বর্ধিত হবে

অট্টহাসি দিতে দিতে ম্যাজিক মশাই হাওয়া বনে গেলেন
আর আমরা মাছি ঢোকার মতো একটা হাঁ নিয়ে বসে আছি!

পলিয়ার ওয়াহিদ

জন্ম ২৬ ফাল্গুন, ১৩৯২; যশোর।

মনোবিজ্ঞানে মাস্টার্স শেষে একটি জাতীয় দৈনিকে সাংবাদিকতায় নিয়োজিত।

প্রকাশিত বই :
পৃথিবী পাপের পালকি [কবিতা; ম প্রকাশন, ২০১৫]
সিন্ধ ধানের ওম [কবিতা; দোয়েল প্রকাশনী, ২০১৬]
হাওয়া আবৃত্তি [কবিতা; ষোলপৃষ্ঠা প্রকাশ, ২০১৬]

ই-মেইল : mohua442044@gmail.com

Latest posts by পলিয়ার ওয়াহিদ (see all)