হোম কবিতা ধনুকের দস্যুপনা

ধনুকের দস্যুপনা

ধনুকের দস্যুপনা
329
0

বসন্ত

বসন্ত হাওয়ায় মনের গভীরে 

                   সান্দ্র প্রীতির জানালা

খোলে মণীষা

সহজেই সৌন্দর্যের মৌন বিন্যাসে

                 ফুটে ওঠে কামিনী

মনুষ্য বিহারে 

স্থিতি 

ফুটন্ত প্রকৃতির নিজস্ব নীহার 

 

বন্য বাতাসে তচনচ

নীরবতা

যদি ঘনিষ্ঠ মুঠোর গোধূলি আজ

           বারুদ ভরতি মেঘে মেঘে

তোমাকে

উড়িয়ে নিতে চায় উপেক্ষার রঙে 

তবে কুয়াশামগ্ন সাজ

                            গভীর রাতে

একা একা খুলতে খুলতেই ভেবো

পুনরাগমণে

               রোদের অন্তর্গত 

ধর্মাচারে ভক্তি রসের মায়া নেই 

দেহে 

বিজন নদের ঘুমের ভঙ্গি আছে


ঋতুরঙ্গলেন

বকুল স্বভাবে মুগ্ধ শরীরে আমি রাখিনি হাত, ভোরের সমস্ত শোভা দূরে রেখে, দেখেছি মুখশ্রী—শয়নভঙ্গির বাঁকে ডুবে আছে রোদের জাহাজ। 

ঘন ঝোপের আড়ালে বসে থেকে সবুজ ঢেউয়ে—উড়ে যাওয়া প্রহরে যে পালকগুলি নীড়হারা; ঊষালগ্ন পার হয়ে হারিয়েছে নৌপথের ম্যাপ, তাদের ছলকে উঠা ব্যথার ভিতর আমি আছি। 

অপরিসীম উদ্ভাসিত সৌন্দর্য্যের তীরে এসেই, মুখে লেগে থাকা রক্ত মুছে তাদের পাশে দাঁড়াই, বহুদূর থেকে ভেসে আসা অনেক ফুলের ঘ্রাণে, মৃণ্ময়ীর মুখে ফোটে যে বিস্ময়, সেই মুহূর্তের প্রচ্ছায়ায় কেঁদে ওঠে মাধবীলতার মন সহজিয়া ধ্বনির ব্যঞ্জনে। 

ওই ধ্বনির গুঞ্জনে আজ মধুরিমা ঘর ছাড়া, গম্বুজে ভরা প্রদেশে আমাদের জীবন ফুরাই, দেবতার রক্তচক্ষু খোঁজে মাত্রাপেরুনো বেড়াল, আমি এইসব দেখি একা একা ঋতুরঙ্গলেনে। 


অঙ্গুরী

ঘুমহীন মানুষের বিষণ্ন মুখোশে
যে প্রহর জাগে
তার গহীন প্রান্তরে
সুবাসনায় জেগে আছে স্মৃতিফলক
কফিনবাহকদের মৃদু পদশব্দে
জেগে উঠছে
সন্ধ্যার উপড়ানো খুলি
বন্ধুর মুখের মত
বৃষ্টির ভিতর
দ্বিধার মাস্তুলে স্মৃতির রাতড্রাগন
খুলে দেখছে
সবুজ ঘাসের অঙ্গুরী


দেখা

দেখা হলে শব্দহীন দৃষ্টির বিন্যাসে
পুরনোকালের বৃষ্টি-মুহূর্তের ছবি
ভেসে ওঠে
দেহবাঁকে হাসে সান্দ্রনদ
কাঁপে মেঘ
আরো কাঁপে ঘন কাশবন
মৌন আঁধারে
পদ্ম মুখের কাছে এসে
জঙ্গলের নিজস্ব স্বভাবে টাল খাই
মন ভরে
নদীর উদোম হাওয়ায়
অজস্র সবুজ পাতার মতো উল্লাসে


ধনুকের দস্যুপনা

ডালিম রোদের অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ভিতর
আমার বাঞ্ছাপ্রদেশ
সামন্তদশার ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে
গড়ে তুলেছি সম্পর্ক বিহার।


ক্ষুদ্রক্ষুদ্র সবুজ খেতের এক একটা
দ্বীপে নারী পুরুষ মিলে
তৈরি করছে বসতি
আনন্দ যাপনের গমরঙা মৌন মিনার।


কর্মক্ষম মানুষের মনে
জবা ফুলের মত ঘুমিয়ে থাকে
রাতের আকাশ
আমি খুলে দেখছি তাদের
জীবনযাপনের সূচিকর্মের নতুন সেলাই।


তারা অট্টহাসিতে
সঙ্গোপনে
খসে পড়ে
দিগন্তের বাঁকা চাহনি
ভেসে ওঠে পুরনো আয়নার অন্তর্দেশে
হারানো বন্ধুদের মুখ
তাদের খুঁজতে গিয়েই ভুলে গেছি
ধনুকের সমস্ত দস্যুপনা।

মুক্তি মণ্ডল

মুক্তি মণ্ডল

জন্ম ২২ জুলাই ১৯৭৬, চুয়াডাঙা।

সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
পেশা : গবেষণা।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বই :
ঘড়ির কাঁটায় ম্যাটিনি শো (কৌরব ২০০৮)
পুষ্পপটে ব্রাত্য মিনতি (জোনাকরোড ২০০৯)
উন্মাদ খুলির পৃষ্ঠাগুলি (আবহমান ২০১১)
ভেল্কিবাজের আনন্দধাম (এন্টিভাইরাস ২০১৫)

ই-মেইল : mukte.mandal@gmail.com
মুক্তি মণ্ডল