হোম কবিতা তুলনামূলক বিজ্ঞান

তুলনামূলক বিজ্ঞান

তুলনামূলক বিজ্ঞান
560
0

তুলনামূলক বিজ্ঞান


ঘাস। সবুজ ঘাস।
ঘাসের ওপর বসলেই মানুষেরা
ঘাস ছেঁড়ে দু’হাতে।
আচ্ছা,
ঘাসেদেরও কি কখনো ইচ্ছে
হয় না দু’একটা মানুষ ছিঁড়ে দেখতে?
মানুষের ভেতরে মানুষ কতটুকু
ঘাস? কতখানি বদমাশ?


জার্নি


একটা রুম। একটা খাট। একটা বালিশ। একটা পানির
বোতল। একটা চেয়ার। একটা টেবিল। কয়েক শ বই।
কয়েকটা মাকড়শা। একটা সিলিং ফ্যান। একটা টেবিল
ল্যাম্প। একটা নম্র অ্যাশট্রে। কিছু আলো। কিছু বাতাস।
একটা জানালা। মধ্যে আমি। বাইরে আকাশ। তিন বছর
আট মাস বাইশ দিন। আমার আগে রুমটায় কে থাকত
জানি না। আমার পরে রুমটার কী হবে জানি না।


দক্ষিণ এশিয়ার একটি গ্রাম


১৯৪৭-এর পরে বাজারে চাঁদ উঠলে, আমাদের গ্রামটাকে মনে
হয় আলোর ঢিবি। চোখের ওপরে রাতভর একটা কলহ নির্ভর
পাখি ঘুরে ঘুরে—’ব্যাঙ ডাকে’ । ব্যাঙের ডাকে আমাদের ঘুম
খুলে উঠে দেখি—বিভিন্ন রঙের রং উঠেছে গ্রামের সবার গায়ে।
কাউকে সবুজ লাগছে, কেউ পড়েছে জলপাইরং শাড়ি, কারো
গায়ে ধরফরে চাদর, কয়েকজন পাহাড় রঙের কার্ডিগান । আর
শত্রু শত্রু মানুষগুলোকে দেখলে মনে হয়—কালো রঙের আলো।
এই গ্রামেই আমার বাবার জম্ম।


মঙ্গলরোগ


আমার দরকার ছিল বুধবার। আজকে কেন জানি
‘বুধবার বুধবার’ লাগছে। কিন্তু বুধবার আজকে না।
আগামীকাল বুধবার। যদিও আগামীকাল আমার কাছে
বুধবারের কোনো দরকার নাই।

আজ মঙ্গলবার—আমি চাই তোমার মঙ্গল হোক।
তুমিও আমার মতো মঙ্গলরোগে ভুগতে থাকো যে কারো সাথে
অন্তত পরবর্তী যে কোনো বুধবার পর্যন্ত!


এক প্রকার গাছ


মানুষটা আসলে এক প্রকার গাছ। অপেক্ষা করে
আছে।
কোনো এক কাঠুরে এসে। তাকে হাত ধরে নিয়ে
যাবে করাতকলে।
তারপর তার হাত কাটবে। পা কাটবে। চোখ থেকে
রোদ খুলে নিবে।
শাখা ভাঙবে। প্রশাখা ভাঙবে। পাতা ছিঁড়বে। এবং
শেকড় কমাবে।
এভাবে ভাঙতে-ভাঙতে। বা ছিঁড়তে-ছিঁড়তে। বা
কাটতে-কাটতে
পর্যায়ক্রমে একদিন মুখ থেকে বেসামরিক জিভটাও
কেটে নিয়ে
ঠিকঠাক এই পৃথিবীর বসবাস উপযোগী করে
তুলবে তাকে।

মানুষটা আসলে এক প্রকার গাছ। অপেক্ষা করে
আছে।

হাসিবুল আলম

জন্ম ৬ আগস্ট, ১৯৯৪; জয়পুরহাট। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘কৃষি প্রযুক্তি’ বিষয়ে অনার্স শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত।

প্রকাশিত কবিতার বই—
৪১টি গুঁইসাপ [চৈতন্য, ২০১৭]

ই-মেইল : hasibul.a94@gmail.com

Latest posts by হাসিবুল আলম (see all)