হোম কবিতা তীব্র ৩০ : সৈয়দ তারিকের বাছাই কবিতা

তীব্র ৩০ : সৈয়দ তারিকের বাছাই কবিতা

তীব্র ৩০ : সৈয়দ তারিকের বাছাই কবিতা
643
0

সৈয়দ তারিক আশির দশকের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি। এ যাবৎ তার প্রকাশিত কবিতার বই পাঁচটি। আজ তার পঞ্চান্নতম জন্মদিনে পরস্পরে মুদ্রিত হলো কবি-নির্বাচিত তিরিশটি কবিতা। কবিকে পরস্পরের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা…


কড়িকাঠে দোলে পাকানো দড়ি
            মটকানো ঘাড়
                        ঠান্ডা শরীর

রেললাইন ডাকে
              খণ্ড শরীর
                        রক্তের স্রোত
                                 চর্বিমাখা

নাইট্রাজিপাম
            ধারালো ছুরি
                     দাউ দাউ জ্বলা
                              আগুন আগুন

মরফিন
         আহ্ মরফিন
                  আহ্ মরফিন
                           আহ্ নিমজ্জন

ভূতুড়ে চাঁদের ছড়ানো কাফন
            গোরস্থানের অন্ধকার
                        শীতল ঘুম
                              নদীর অতল গভীর জল

রেললাইন ডাকে
         কড়িকাঠে দড়ি
                  রেললাইন ডাকে
                           স্টেনলেস ছুরি
                                    রেললাইন ডাকে
                                             সিডেটিভ বড়ি

শাদা জ্যোৎস্নায়
          ছড়ানো কাফন
                    ভূতুড়ে চাঁদের
                              হিংস্র ইশারা

রেললাইন ডাকে
         হেরোইন ঘুম
                  রেললাইন ডাকে
                           এনড্রিন ঘুম
                                    রেললাইন ডাকে
                                             সায়ানাইড ঘুম

রেল-রেললাইন
        রেল-রেললাইন
                  রেল-রেললাইন…

 

জীবনানন্দের বাড়ি ভরপেট খাওয়া-দাওয়া সেরে
অতিথিরা তুলেছে ঢেকুর।
খাবারের স্বাদ তারা ভুলতে পারে নি কিছুতেই;
এমনকি বংশানুক্রমে
তাদের সন্ততিগণ হাতের তালুতে আজও ঘ্রাণ পায় তার।

সকলেই জেনে গেছে কী তার রেসিপি ছিল, তাই
এখন অনেক ঘরে নিত্যকার শাকে,
ভাজিতে, ডালে ও মাংসে অবিকল সে-রকম স্বাদ;
তিন বেলা খায় তারা এবং অতিথি ডেকে পাতে তুলে দেয়।

ধন্য জীবন বাবু, চমৎকার বাবুর্চি ছিলেন :
বাঙালির মাছ-ভাত জীবনানন্দ নামে ডাকা সম্ভব।

 

দ্রুত কাঁপে
দেয়াল দরজা শেল্ফ জানলা ও ছাদ
কেঁপে ওঠে বিছানার পায়া
টেবিল টেবিলে গ্লাস
সিরিঞ্জের নীল বাক্স
সুচ
ভাঙা অ্যাম্পুল

দেয়ালের চুনকাম ধূসরাভ হয়
দেয়ালের কোণগুলো
ত্রিভুজ অনেকভুজ ভুজহীন হয়
দেয়ালের কোণগুলো অর্ধেক ঘুম হয়ে যায়

দেয়ালে কিসের ছায়া
ছায়ার ভিতর থেকে উঠে এসো তুমি
মাথার ভিতর থেকে রশ্মি বের হয়
আঁকা-বাঁকা তরঙ্গ বেরোয়

তুমি এসো
কম্পমান বিছানার দুলুনিতে বসো
মাথাটিকে কোলে তুলে নাও
চুমু খাও
নাগরদোলায় দুলে গান গাও
ঘুমপারানিয়া গান
তোমার গানের সুর মখমল চাদরের মতো
ঢেকে দিক শরীর আমার

শরীর গলিত হয়ে যায়…

 

কাবুলিঅলার ঢঙে ঝুলি নিয়ে বসে আছে শিবু সদাগর
বাগানের সমস্ত টগর
শুধু তাকে ডালা ভরে অর্ঘ্য দিতে হবে।

আমার গোপন অভিমান :
অনায়াসে সমস্ত বাগান
উজাড় করেছি অপচয়ের মহার্ঘ্য উৎসবে।

 

বলেছি অনেক গল্প, কাহিনি অনেক বলা হবে :
মুখেও আনি না নাম তোর—
মনে-মনে জানি শুধু, আমি কত অসহায় চোর।

মাদুলিতে ভরে তোকে লুকিয়ে রেখেছি জলাশয়ে,
ধমনীতে ছলকে ওঠে ঢেউ—
কোনোদিন জানবে না তোর কথা কেউ।

 

গ্রহণ করেছি জল—চুপিচুপি—যদি বলো চুরি
তবে তাই, তবে টের পায় নি কোটাল;
তা ছাড়া বইছে ঠিকই, যে-রকম বইছিল খাল।

স্রোতও কি পায় নি টের? ভগবান জানে।
আমি হাত এগিয়ে দিতেই
ভিজে গেল করতল… হয়তো-বা… হয়তো স্রোতেই।

 

আমার কলম নিয়ে শয়তান পদাবলি লেখে
দেখে বেশ আনন্দ পেলাম,
‘কিন্তু বাছা’, বলি তাকে, ‘মনে করে চুকিয়ো কালির পুরো দাম।’

এ-কথা শুনে সে হো হো হেসে উঠে টেপে এক চোখ,
তারপর শূন্যে মিলে যায় :
আমার স্বাক্ষর দেখি কাগজের পাতায় পাতায়।

 

খোয়াজ খিজির, তুমি সবুজ ঝোলায় ভরে নীল কাকাতুয়া
পালিয়ে বেড়াচ্ছ কাছে দূরে—
কানামাছি খেলা শেষ হবে না কি কোনোদিন প্রচণ্ড দুপুরে?

ঠোঁটের পিপাসা যদি বিজুরির এইসব হাসি ঠাট্টায়
কেবলই চমকে যেতে থাকে
পালকের লোভ আর কতদূর টেনে নিতে পারবে আমাকে?

 

অ্যাশট্রের বর্ণনায় মুগ্ধ হয়ে আছি। মনে হয়
জীবনে অন্তত একবার
এ-রকম ছাইদানে ভস্ম রাখা জরুরি বিষয় :
সিগারেট পুড়ে ছারখার।

মাঝে-মাঝে বিদুষীর শিল্পময় মুখে
মৃদু টোল খেলে যায়; জগতের তীব্র ছাইদান
পরোক্ষে লুকিয়ে রাখে কে জানে কী সুখে!
অসফল মনে হয় সব ধূমপান।

 

১০

মিকিমাউসের খোঁজে তুমি যাও বিপনীবিতানে,
আর আমি চুপচাপ ক্যানাবিস ফুঁকে
মাসির গোঁফের কথা ভাবি; শহরের মাঝখানে
হরিণ দাঁড়িয়ে থাকে মসৃণ কৌতুকে।

হাতব্যাগ খুলে তুমি তুলে আনো রেশমি রুমাল,
রাখো ফের থলের ভিতরে,
তারপর চলে যাও; পড়ে থাকা সুচারু বিকাল
ডোনাল্ড ডাকের মতো হেসে ওঠে প্যাঁকপ্যাঁক করে।

 

১১

আমার শরীরে ওরা ঠেসে দিতে অ্যাট্রোপিন তেড়ে বেড়াচ্ছিল;
জৈববোধে ছুটে গেছি ঊর্ধ্বশ্বাসে পাগলা কুকুর;
পৌর-সভ্যতার যত দেয়ালে-দেয়ালে সেঁটে ছিল
আলখাল্লা পরা কুলপুরোহিত শ্রীযুক্ত ঠাকুর।

তার চোখে বইছিল সুদূর পাড়ের গাঢ় নদী,
জ্যোৎস্নাময় হাত তুলে বরাভয়মুদ্রা আঁকলেন;
আমি ফের দৌড়ালাম : ওরা এসে ধরে ফেলে যদি!
গুরুদেব ফ্যাল-ফ্যাল চেয়ে থাকলেন।

 

১২

লাল খরগোশ
তোমাকে বলল :
তুমি আর আমি
ধিক ধিতাং।

লাল খরগোশ
আমাকে বলল :
তুমি আর আমি
ধিক ধিতাং।

দুচোখে দুচোখ
তুমি আর আমি
লাল খরগোশ
ধিক ধিতাং।

 

১৩

আমি ছিলাম মগ্ন আঁধারের বস্তুপিণ্ড;
তুমি আমাকে তুলে আনলে আলোয়
আর সঞ্চার করলে প্রাণ :
প্রভু, তোমাকে প্রণাম।

আমি ছিলাম আমাতে লিপ্ত অহর্নিশ,
অথচ আমার ছিলাম না আমি;
আমাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছ তুমি :
প্রভু, তোমাকে প্রণাম।

চিরকাল আকুলতা ছিল প্রেমের জন্য,
অথচ কেটেছে দিন নিষ্করুণ অপ্রেমে;
প্রণয়ের যৌবরাজ্যে আজ আমার অভিষেক :
প্রভু, তোমাকে প্রণাম।

 

১৪

পুড়ে যায় রোম নীরোর বাঁশির শব্দ বাতাসে ভাসে,
সীমাহীন দূরে শুধু চেয়ে রয় আকাশে অরুন্ধতী ;
কতটা পুড়লে বিশুদ্ধ হয় বলতে কি তুমি পারো?
ও আগুন, তুমি প্রসন্ন হও ইব্রাহিমের প্রতি।

কোষের দেয়াল পুড়ে পুড়ে যায় কেন্দ্রীণ ওঠে কেঁপে,
স্নায়ুর শিকলে পড়ে টান, বুঝি নামছে জীবনে যতি;
কতটা পুড়লে বিশুদ্ধ হয় বলতে কি তুমি পারো?
ও আগুন, তুমি প্রসন্ন হও ইব্রাহিমের প্রতি।

 

১৫

নারীকে নয়, ভালো নারীত্বকে বাসি,
মর্মশ্বাস তার অপূর্ব;
নারীর প্রেম নয়, প্রেমের প্রেমে মজে
নিজেকে মনে হয় কী উর্বর!

আমার কৃষ্ণজি নিবিড় ভালোবেসে
জড়িয়ে ধরে যেই রাধাকে,
আমার আধখানা গভীর শিহরনে
মিলনে টানে আর আধাকে।

 

১৬

এ এক বিস্ময় ভোগে ও বিরাগে
হাছন রাজা যেন অথৈ জল,
বিলোল ঢেউয়ে তার প্রেমের ফেনা ভাসে
বেদনা পরিণামে সুমঙ্গল।

প্রাণের সীমানায় পরিধিহীনতার
নিত্য পড়ে ছায়া, তার সে টান
জোয়ার এনে দিলে অনন্তের পায়ে
হাছন রাজা করে আত্মদান।

 

১৭

আহমদ ছফা আমাকে বলেছিলেন
পেলে ঈশ্বর যেন করি গিয়ে দেখা,
হায় ঈশ্বর! হায় আহমদ ছফা!
খুঁজব কোথায় আপনার দেহ-রেখা?

মিশে গিয়েছেন আপনি অনন্তে,
অনন্ত জাগে আমার এই কায়ায়;
আমি ঈশ্বর, আপনিই ঈশ্বর :
চিনতে কেবল বিলম্ব হয়ে যায়।

 

১৮

যখন আরতি চলে উতরোল মাধবের ওই মন্দিরে
প্রাণময় মন্দিরা বাজে,
আমার নবিজি এসে দাঁড়ান তখন
ভগবান কৃষ্ণের সাজে।

সমবেত শ্রমণেরা যখন নিবিড় ধ্বনিমায়
বুদ্ধের আশ্রয়ে ধ্যানে মশগুল
মোমের আলোয় দেখি, শ্বেত পাথরের প্রতিমায়
অনাবিল হাসছেন প্রেমময় আমার রাসুল।

 

১৯

ক.
জড়িয়ে রয়েছে ক্লেদ এ-শরীরে, হৃদয়ে বিপুল জঞ্জাল :
স্বপ্নের মতো কাঁপে বোধিবৃক্ষের উঁচু ডাল।

খ.
লটকন গাছে যেন ঝুলে আছে অগণিত গ্রহ,
মগ্ন হয়ে আছে যেন সৃজনের পরম প্রহর।

গ.
আকাশি রঙের সেই রূপবতী শুঁয়াপোকা দেখে তার প্রেমে
উঠেছে হৃদয় নেচে : এলে তুমি, প্রিয়তম, এতদিনে নেমে!

ঘ.
তোমাকে খাচ্ছ তুমি : মাছরাঙা ঝাঁপ দিয়ে জলে
প্রাণের সঙ্গে প্রাণ মেলাচ্ছে আহারের ছলে।

ঙ.
যখন সন্ন্যাসী একা গামলায় বসে বসে রৌদ্র পোহায়
বাদশা সিকান্দার কিরকম অনায়াসে তুচ্ছ হয়ে যায়!

চ.
আমাকে আমি তো—হায়—করি নাই এখনও আমার,
এখনও হই নি আমি আমাহীন কেবল তোমার।

ছ.
মার্কস বললেন : দুনিয়াকে পাল্টাও
গুরু বললেন : নিজে পাল্টিয়ে যাও।

জ.
সে এক অপরূপ নিপুণ জাদুকর আমাকে করে তোলে শূন্য
আমার কাছ থেকে আমাকে বাদ দিলে আমিই থাকি সম্পূর্ণ।

ঝ.
এ এক আজব খেলা, হেরে যেতে শিখে নিতে হয়,
সকলই হারিয়ে গেলে ঝলমলে শিরোপা-বিজয়।

ঞ.
দারুণ সহজ যেন সবকিছু হয়ে গেছে আজ
যা-কিছু করার নয়, যা-কিছু করার মতো কাজ।

ট.
মায়ের জরায়ু হতে কী ব্যাকুল নেমে আসি এই পৃথিবীতে;
তারপর…তারপর উদ্‌গ্রীব গর্ভে ফিরে যেতে।

ঠ.
রহস্যলোকের কথা কাকে বলি, কাকে-বা বোঝাই!
সবখানে আছি আমি, নিজের ভিতরে শুধু নাই।

ড.
কাফন জড়িয়ে দেহে সাধকেরা ধ্যানে মশগুল
ফোটাচ্ছে মনের সুখে চাঁদ-তারা-ফুল।

ঢ.
যে করে ঈর্ষা করুক, দুয়ো দিক, নিস্পৃহ থাকুক :
ভালোবাসা ছুঁয়ে গেছে—এই হেতু স্পন্দিত বুক।

ণ.
আহ, কত সাবলীল এই বেঁচে থাকা;
কখনও পূর্ণ গ্লাস, কখনও-বা ফাঁকা।

ত.
রুচিকে শ্রদ্ধা করি, হিজড়ার গালে চুমু খাই;
যে-কারো প্রেমিক আমি, সঙ্গবিহীন হেঁটে যাই।

থ.
কী বলি তোমাকে, বলো, কী কথা বোঝাই :
নীরবতা যত বলে, কথা কোনোদিনও বলে নাই।

দ.
আমার ফকিরি শুধু এই :
আমার ভিতরে ফ-ও নেই।

 

২০

আমাকে নামিয়ে দিয়ে নাম ভূমিকায়
ঠোঁটে ঠোঁট মিলছে যখন
ঘোষণা করেন তিনি : কাট্।

আমিও ভুলেই যাই—প্রায়শই ভুলে থাকি—আছি অভিনয়ে;
ভুলি : পরিচালনায় রয়েছেন তিনি;
নায়িকার হাত ধরে চোখে চোখ রেখে মনে হয় :
জন্মান্তর হতে তাকে আমি চিনি।

তারও চোখে জ্বলে প্রেম, তারও ঠোঁটে অবিকল হাসি;
ভুলে যায় সংলাপ পাঠ;
মেঘের ওপার হতে গম্ভীর বজ্রের স্বরে
চেঁচিয়ে ওঠেন তিনি : কাট্।

 

২১

চাঁদে-পাওয়া রাতে ঝিমানো শহরে
হেঁটেছে যুবক কবিতাহত,
বুকে ছিল ব্যথা অবিশ্বাসের
চোখে স্বপ্নের পুরানো ক্ষত।

শীতঘুমে কাটে গ্রীষ্ম-বর্ষা
বেদনাবিধুর কলমদান,
সুবেহসাদিকে ঘুম ভেঙে দিয়ে
কানে কানে তুমি দিলে আজান।

 

২২

থামে না সফর সিন্দাবাদের
আসে না ক্লান্তি তার,
বাইরে সাগর ভিতরে সাগর
সাগরের নাই পাড়।

এই বন্দরে একটু দাঁড়ায়
ওই বন্দর ছাড়ে,
সিন্দাবাদের কিস্তি যাচ্ছে
পাড়হীনতার পাড়ে।

 

২৩

ছায়ার আদরে ছায়া ওঠে বেড়ে
ছায়ার গভীরে নিবিড় ছায়া,
ছায়ায় ছায়ায় ছায়াসঙ্গমে
ছায়া চেয়ে দেখে আপন ছায়া।

ছায়া কেঁদে ওঠে ছায়ার বিরহে
ছায়ারও হৃদয়ে জাগে কি শোক?
ছায়া মরে যায় মগ্ন ছায়ায়
ছায়ার নতুন জন্ম হোক

 

২৪

তন্ময় ছিল অলকানন্দা
সুস্মিত ছিল কামিনী,
তুমি দিয়েছিলে তুমুল সাঁতার
আমি কি পানিতে নামি নি?

সংবৃত ছিল পাহাড়ি ঝরনা
শিহরিত ছিল হরিণী,
তুমি জ্বলেছিলে দীপ্র আলোয়
আমি কি একটু পুড়ি নি?

 

২৫

উদয়সূর্য বিলয়সূ্র্য
সূর্য মধ্যবেলা,
তোমার সঙ্গে কবিতা হলো না
কেবল পদ্য-খেলা।

গৌরচন্দ্র কৃষ্ণচন্দ্র
চন্দ্র কি হয় লাল?
তুমি বলে কেউ ছিলে না কখনও
তুমি আছো চিরকাল।

 

২৬

গুগলের হাত ধরে ছুটে চলি আন্তর্জালে,
কাকে যেন খুঁজে ফিরি সার্চ ইঞ্জিনে;
সে আমাকে চেনে নাকি? সাইবার স্পেসে
পারব কি নিতে তাকে চিনে?

কাকে আমি খুঁজে ফিরি? সে আমাকে খোঁজে?
আছে সে কি সামাজিকতায়?
ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ, আরও অজস্র ডোমেইন…
গুগল, দোহাই, বলো সে আছে কোথায়?

 

২৭

অপরাধ করেছিলাম।
জ্বলে উঠল অনুশোচনার তীব্র তীক্ষ্ণ শিখা।
সদয় মার্জনা ভিক্ষা চাইলে বলল সে,
‘ক্ষমাহীন অনন্ত শাস্তির বুকে আশ্রয় নাও।’
চমকে উঠলাম আমি।
কী ভীষণ অতল গহ্বর!
তারপর সবকিছু ভুলে ঝাঁপ দিতেই টের পাই,
যোনিকোমল পুষ্পটানেলে বয়ে যাচ্ছি আমি
অবিশ্রাম আনন্দবিভায়।

 

২৮

ফকির শব্দটি লিখতে তিনটি অক্ষর লাগে :
‘ফ’, ‘ক’ আর ‘র’;
কাফের শব্দটা লিখতেও ওই তিনটি অক্ষরই লাগে,
একটু অদল-বদল শুধু,
আর এই একটুকুতেই পাল্টে যায় সবকিছু।
তবে মূর্খেরা এই পার্থক্যটুকু ধরতেই পারে না,
তাই ফকিরকে অনায়াসে কাফের ফতোয়া দিয়ে বসে।

 

২৯

জানি, জানি হবে দারুণ ফতোয়া জারি :
কাফের কতল করো;
শুনেছে আদেশ নবিজির অনুসারী :
মরার আগেই মরো।

আমি তো কবেই কাফন পরেছি শরীরে
আমি তো কবেই হয়ে গেছি পুরে ছাই,
আমি তো কবেই জেনে গেছি অন্তরে :
আমার মৃত্যু নাই।

 

৩০

যখন হত্যা করা হয়, তখন অমরতা হয়।

কাফন ঝকমক করে ওঠে রঙধনুর বর্ণিল বিভায়।

নিন্দাগুলো হয়ে ওঠে মেঘমল্লার, যা কফিনের উপরে অবিরল অমৃত বর্ষণ করে।

সমাধিপাথরে ভেসে ওঠে ঝলমলে চেহারা।

শোকের ক্রন্দনগুলো আনন্দস্তোত্র হয়ে যায়।

যখন আমাকে হত্যা করা হয়, আমি তখন আমিহীন অনন্ত অপর হয়ে যাই।

সৈয়দ তারিক

জন্ম ১০ অাগস্ট, ১৯৬৩; বাড্ডা, ঢাকা।

পেশা : মুক্ত।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ—

ছুরি হাতে অশ্ব ছুটে যায় [নিত্য প্রকাশ, ১৯৯৬]
মগ্ন তখন মোরাকাবায় [মাওলা ব্রাদার্স, ২০০৯]
নাচে দরবেশ মাস্ত্ হালে [সাঁকোবাড়ি প্রকাশন, ২০১১]
আমার ফকিরি [সুফিবাদ প্রকাশনালয়, ২০১১]
ঊনসন্ন্যাসী [ঐতিহ্য, ২০১৫]

ই-মেইল : syedtarik63@gmail.com

Latest posts by সৈয়দ তারিক (see all)