হোম কবিতা তীব্র ৩০ : ফল্গু বসুর বাছাই কবিতা

তীব্র ৩০ : ফল্গু বসুর বাছাই কবিতা

তীব্র ৩০ : ফল্গু বসুর বাছাই কবিতা
3.86K
0

ফল্গু বসু পশ্চিম বাংলার সত্তর দশকের কবি। এক সময় নকশাল আন্দোলনে জড়িয়ে বেশ খানিকটা সরে ছিলেন কবিতার জগৎ থেকে। তবে কবিতা থেকে নয়।
কলকাতা-কেন্দ্রিক সারস্বত সমাজের বাইরে তাঁর বেড়ে ওঠা। এ যাবৎ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ৭টি।
পরস্পরের ‘তীব্র ৩০’-এ মুদ্রিত হলো তাঁর স্বনির্বাচিত ৩০টি কবিতা…


নাচ


প্রথামত আমি মাথা বাঁ দিকে হেলিয়ে পুনরায়
সম্মতি দেবার মতো ইচ্ছে জানালাম। নিত্যকাল
ঘোরায় যেদিকে তাকে, সেও ঘোরে সেই অভিমুখে।
বন্ধুর সুবাদে আজ তার সঙ্গে পরিচয় হয়।

কোমর ঘুরিয়ে নাচো, উচ্ছ্বাসে প্রবল ভেসে যাই।
ছোট বা বড়রা যেন এই নাচ কখনো না দেখে
সামনে দাঁড়িয়ে, দর্শক দরকার নেই। নেচে নেচে
নিজেকে পাগল করো, থামতে হবে না কোনোদিনও

আমার বিরুদ্ধে নাচো, আমাদের বিরুদ্ধেও নাচো
হৃত জন্ম ফিরে পেলে সুর নিজে সঙ্গী হবে এসে
নাচো প্রেত নাচো নীল রঙ দৃশ্যের সামনে এসে নাচো
নৃত্যরত নৈঃশব্দ্যের কামনা বাসনা কিছু নেই।

 


অশ্বারোহী


লটারির টাকায় আচমকা পেয়ে যাওয়া
সূর্যের আটটা ঘোড়া নিয়ে
কী করব ভেবে পাচ্ছিলাম না।
সান্তনাদির ঘর তাক করে
ছুড়ে দিলাম একটা ঘোড়া
সান্তনাদি খুব চটপট ঘোড়াটাকে
লুকিয়ে ফেলল মেয়ের ফ্রকের ভেতর।

অন্য পাঁচটা ঘোড়া
ছেড়ে দিলাম মাইকের প্যাণ্ডেলে
মাইক শোরগোল না করে
এমনভাবে বেঁধে রাখল তাদের, যাতে
প্যাণ্ডেলটা দেখতে অবিকল রাজবাড়ির মতো হয়।

বাকি দুটোকে কোথায় পাঠানো উচিত ভাবছি।
এমন সময় হাঁফাতে হাঁফাতে এসে
ক্ষুদিরাম বলল: একটা তোর, একটা আমার
ঝটপট উঠে পড় আর দেরি করলে পৌঁছতে পারব না
ফাঁসির সময় পার হয়ে যাবে ।

 


বালিমূর্তি


আবার সম্ভব হোক উপস্থিত দর্শক সমীপে
সেই অবিস্মরণীয় ইন্দ্রজাল থেকে উঠে আসা
সমুদ্রপানের দৃশ্য, অবয়বহীন জনপদ

পুনর্বাসনের ক্রোধে আত্মহারা দেবদেবীগণ
কোথায় যে যাবে তার ঠিক নেই, পাতাল ভরসা।
কাঁধে সোয়েটার নিয়ে গণদাবী ঘুরে দাঁড়ালেন

আগুননিঃশ্বাস থেকে নিজেকে বাঁচাতে ডুব দেবে
সমুদ্র কোথায়? লতাপাতা সাপ হয়ে গেল।
সারি সারি হেঁটে আসছে চন্দনভূমির লোকজন

অবস্থার চাপে পড়ে মানুষ কঠোর হলো আরো
দর্শক নির্বাক। যেন যুদ্ধের পরের কথা জানে
ভাঙা অস্ত্রে লেগে থাকে পিপাসার্ত নীল শস্যদানা।

সন্দেহ থেকেই শুরু… অবশেষে জানা গেল
আঙুল ছিল না যার সে শুধুই আংটি জমাত।

 


কুঞ্জবন


আবার অশান্তি হলো এই কুঞ্জবনে
এখানে রাধাকে নিয়ে যতটা ঝঞ্ঝাট
বিশাখাকে ঠিক রাখা তারচে কঠিন
কেবলই তমালতলে চিঠি রেখে আসে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল দক্ষিণের
লোক উর্বশীর হাট দেখে চমকে গিয়েছে
ভেবেছে সত্যিই হাট, নিজেদের সাথে
নিজেদের লীলাবন বুঝতে পারে নি।

অন্তরের ব্যথা নিয়ে কোমলাঙ্গী শ্যামা
জল ভরে রোজ, জলের সঙ্গেই ভরে
ভবিতব্যে লিখে রাখা অশান্তির বীজ
গোপেদের মাথা জ্বলে অকারণ রাগে।

দোলপর্ব চুকে যাক, পরে দেখা যাবে
নজর রাখতে গিয়ে শান্তি চলে যায়
আশ্চর্য কোমলপ্রাণ আয়ান ঘোষের হাতে।
শুধু শুধু মার খায় কৃষ্ণের বন্ধুরা।

 


কাজরী


অধীরা ব্রজের মেয়ে আদরের সোয়াদ পেল
সুরসিক নাগর দেখে না বুঝে খেলতে এল।
এ খেলায় পাথর গলে তুচ্ছ কুহকনারী
না জেনে খেলতে এল সাহসের বলিহারি।

বিপথে উড়তে মানা চিত্ত চঞ্চলা হয়
মজলে আপনভোলা নয়নে থাকে না ভয়।
নজরে নজর রেখে হেসেছেন নাগর কানাই
শরীরে গানের জোয়ার, এ প্রেমের উপমা নাই।

চক্রে খড়ম ঘোরে দুঃখে প্রহর গুনি
পারলে ডুব দিয়ে খাও—বলেছেন কপিলমুনি।

 


যুগলসেতু


অভিমানরাত্রি শুরু হলে পাতা ঝরে
রূপান্তরিত অসময়ে, অন্ধকার তখন
আলোর ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী।

ধারণার চিত্ররূপ দেখে অনেক সময়ে খুুব
ভয় পাই, ক্লান্ত হই, উদ্দেশ্য বিধেয়
কিছুই বুঝি না।

খালি বাটি উল্টো করে হাওয়া ফেলে দিই
কেউ দ্যাখে কেউ দেখেও দ্যাখে না।

গভীর জঙ্গল ধরে যেতে যেতে নদী
হঠাৎই বোঝে ইলেকট্রিক আলোর মহিমা

মাঝির উৎসাহ নেই, তীরে পৌঁছানোর
ফলে স্রোত ভিন্ন পথে চলে।

অনুভবপত্রে লেখা… বন্ধুরা অনেকে একান্তই
বন্ধুদের জন্য
মনে মনে রণবীর সেনা পুষে রাখে।

 


চিঠি


বাতাস নির্জন হবে অনুভবতরঙ্গ মেশালে
এবং তোমার দিকে কম্পাসের কাঁটা ঘুরে গেলে
উন্মাদ ভ্রমর ফের ফিরে আসবে সমস্যার কাছে
এখনও এমন গল্প চালু আছে মানবসমাজে।

নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে অনায়াসে চেয়ে নিতে পারো
জানাও কী চাও তুমি, মেঘ কিংবা অভিজ্ঞতা, আরো
চাইলে পাঠিয়ে দেবো দুতিনটে মার্ভেলাস বাড়ি
চাইলে পাঠিয়ে দেবো হাতে ঠ্যালা আইসক্রিম গাড়ি

অথবা ওঙ্কারধ্বনি অস্তিত্বের বাস্তব উপায়
চাইলে পাঠিয়ে দেবো যে তোমাকে মনে মনে চায়।
শরীরে পদ্মের পাতা চেনা বা অচেনা কোনো আলো
খুঁজে আনতে ঘূর্ণিঝড় ভ্রমরকে বস্তিতে পাঠালো।

আকাশে রাতের তারা, দিবসে আকাশ ভরা হাওয়া
ঘুমন্ত পাথর ছুঁয়ে উত্তেজিত জলাশয় পাওয়া
সবুজ নদীর স্রোতে নীলবর্ণ মাছের উচ্ছ্বাস
ভ্রমরের সমর্থনে দুলে উঠছে দার্শনিক ঘাস।

 


অধিবিদ্যা


বর্ণনা আভাসমাত্র বোধবুদ্ধি অভিভূত জল
ঘা খেয়ে নিঃসঙ্গ চোখ অসম্ভব ফুল ভালোবাসে
বিশেষত বুনোফুল অযত্নে সুহাস একাকার
নক্ষত্রজাতক প্রয়োজনে দান করে যন্ত্রণার
প্রকৃত জটিল তত্ত্ব, অস্তিত্বের বাষ্পময় স্মৃতি।
দ্রুতগতি মন্থরের বহমান চরিত্রসংকেত
বিশেষ্য ও ক্রিয়ার দৌলতে সাফল্য যথেষ্ট, তবু
উচ্ছ্বাস আড়াল করা আবেগের ধ্রুপদি স্বভাব
মানবমনেও স্মৃতি প্রয়োজনে দৃশ্য বুনে দ্যায়
যখন আদর্শধ্বনি কল্পনাকে কাছে টেনে আনে।

fl


মানসাঙ্ক


ভেবেছিলাম রামকৃষ্ণের ব্রহ্মদারুতেও আগুন লাগাব
কেন ভেবেছিলাম সে কথা আপাতত থাক, বরং
বলি… বৃষ্টির গণিত সযত্নে শিখেও
আমার মেজদা অসুস্থ লিভার নিয়ে
ভুগেছে অনেক

লিখতে বসে তোমার মুখ মনে পড়ার কারণ
জানাশোনা মেয়েদের মধ্যে একমাত্র
তুমিই কেবল উলু দিতে পারো। অথচ জানো না
উটমার্কা দেশলাই তুমি
পছন্দ করো না শুনে মরুভূমি সজোরে হেসেছে।

 


স্পর্শকেশর


পাড়া ও গ্রামের মধ্যে পার্থক্য সামান্য, বস্তুত সূচনাকালে
বৃহৎ বঙ্গের নাম স্পর্শক ছিল কিনা সন্ধান করার কথা ভাবি।
দেখি কী ব্যাপার ঘটে অবশেষে। আমার ভয়, অনুরোধ
এবং ক্ষমা ধারণ করবে কে? শ্বাসরুদ্ধ সবুজ মুক্তোকে
ঝোঁকের মাথাতেও ভোগ্যবস্তু মেনে নিতে বরাবর
নৈতিক আপত্তি প্রকাশ করেছি। পর্বতমালায় এসে ভেবেছি
আবেগের উজ্জল কল্যাণে পৃথিবীতে নৌ-তৎপরতা বৃদ্ধি হলে
মোটামুটিভাবে আমাকেও পলিমাটি মনে হতে পারে।
বলা বাহুল্য, উদাসীন মেঘ দেখলে অনেকেরই মন ভালো হয়
কিন্তু সর্বদাই মেঘের সংসার নিয়ন্ত্রণ করে শূন্য… এইরূপ
অবস্থায় আমি চাইলেও ব্যক্তিগত মালিকানার বিলোপ
ঘটবে কি? কেন জমিয়েছি এতদিন ধুলো? ভাবি
এবং পাড়া ও গ্রামের আশ্রয়ে দাঁড়িয়ে আঙুলের ছাই ঝেড়ে ফেলি।

 


দিগন্তরেখা


সন্ধান কুড়োতে নেমে হেঁটে যাওয়া খেয়াল করিনি। নিরিবিলি
ভেসে চলেছে অলংকৃত উন্মোচন। বুঝলাম মর্মকথা সঙ্গেই এসেছে
ঝুঁকে রয়েছে সুদর্শন। হঠাৎ মনে হলো, মানুষের কল্পনায় আজ
আকস্মিক পিয়ানো বেজেছে। থমকে দাঁড়িয়ে দেখছি দিগন্তরেখা
আহ্লাদ বিদ্যুৎ খাচ্ছে, পরিধেয় আজানুলম্বিত, আমি বনচর
পাখিদের মনোভাব অনুবাদ করিনি কখনো। নড়ছে বকুলপাতা
শঙ্খখচূড়, মহিষীর ডিঙিনৌকো, ঝকঝকে পালকসুদ্ধু মৃত
পানকৌড়ি এবং করাতের অপব্যবহার। বস্ত্রবিতরণে সক্রিয়
নগরপালকে উৎসাহ জোগাচ্ছে ক্যামেরাম্যান, এই অবস্থায়
জিলিপির দোকানের খোঁজে কৃতকার্য একটু ঝুঁকি নিয়েই
সাইকেল চালাবে। গণিত গোপন রাখলেও পাশের বাড়ির
কিশোরীটি সম্পুর্ণ একার চেষ্টায় ইলেভেনে উঠেছে জানলাম।

 


ছায়ালন্ঠন


ব্যক্তিগত আবেগ তোমার একাকিত্বে বিশ্রামের সাহস দিয়েছে।
অজান্তে জেনেছো, ধাক্কা পবিত্র পাথর। গ্রহ আত্মভুক, উনুন
দিঘির পাশে না মানালে আমার লন্ঠন নিয়ে যেয়ো, আর
সৌজন্যসূচক চিঠি লিখো রেলগাড়িকে। আবিষ্কার করা দিঘি
লোকচলাচল দেখেনি বলেই তুমি তাকে ছায়াসুশীতল নামে
ডাকো। নিজবাসভূমে কখনো সখনো চক্ষুরত্নেও ধাতবখণ্ডের
ছাপ লেগে থাকে। ফলে চৈতন্যজগতে সুযোগ পেলেই
বৃষ্টির পালক উড়ে আসে। তুমি ঠিক তুমি নও। যৌথরাজ্যে
অর্ধেক তরল। থ্যাঁৎলানো সন্ধিৎসায় হেলান দিয়েও সৈকতনগরী
কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখে। বিরক্ত হলেও ধরে নিয়ো সমাধানে
নিশ্চিন্ত হওয়া খুব সহজ নয়। আমি নিয়তির দিদিকে চিনতাম
স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলেকে নিয়ে জনারণ্যে লুকিয়ে আছেন।

 


উপকথা


বাড়িটির কাঠামো বানানো হচ্ছে সবে, অন্যান্য গাছের সঙ্গে
নুয়ে থাকা লেবুগাছ একযোগে রোদ্দুর পোহায়। ঘামে তপ্তপরিশ্রম
মেধাসত্ত্ব আইনের আওতাতে পাখিদের ওড়াউড়ি, শিস… সবকিছু
নিয়ন্ত্রণ হওয়া কি সম্ভব? যেমন তেমন উঠোন একটা থাকবেই
নয়নমনোহর সূর্যাস্তে ধর্মকথার নিঃশ্বাস ফেলার সময়
বয়স্ক বিধবা বলবেন কামরাঙা গাছের নাম, শৈশবে
চৈকত ছিল শোনা যায়। আদত ঘড়িটি তখনো চলছে ধীরে ধীরে।
গণনার ভেতরে পাথর, আগাম নিয়েছি দ্রুত চলবার
প্রতিশ্রুতি, এখন সবুজ রাত্রি… কাঠামোতে থাকবার লোকজন প্রায়
সকলেই পাশের বাড়ির অতিরিক্ত ঘরে ধারণাতীত ঘুমে ঢুলছে
অথবা লন্ঠন জ্বালিয়ে ছেলেবেলার গল্পে জমে আছে।

 


বর্ষাবাতাস


ঘুড়ি বানানোর আগে আকাশের কথা ভাবি। আমার ঘরের
ছায়া ইদানীং বাইরেই ঘোরে। টেবিল লাগোয়া সাদাসিধে
কাঠের চেয়ারে ছায়ার বদলে অন্ধকার বসে থাকে একা।
আকাশে উড্ডীয়মান পাখিরাও কখনো সখনো ঘুড়িদের
সহচর ভেবে খুশি হয়। পাথরসংক্রান্ত দুর্লভ দলিল পড়ে
জেনেছি, উল্টোপাল্টা সংশোধনে বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়, সুতরাং
সপ্নের ভেতরেও দৌড়ে যাওয়া আদৌ অসম্ভব নয়। নিশ্চিন্ত
হবার প্রধান কারণ প্রত্যাহার করে নিলে মাঝেমধ্যে ধ্বনিকে
ঝিনুক মনে হবে। এরূপ পরিস্থিতির গুরুত্ব বর্ষাবাতাস
বোঝবার চেষ্টাই করে না। ঘুড়ি বানানোর প্রধান উপাদান কাগজ।
বিরোধিতা থাকলেও কেন যেন খুব জানতে ইচ্ছে হয়
প্রতিবেশীদের রোমান্টিক মেয়েটি এখনও কি নাকছাবি পরে?

 


গমনবৃত্ত


সংযম রাস্তায় ফেলে গিয়েছে এঞ্জিন। অসচ্ছল
ব্যাকুল গ্রন্থের ভূমি প্রতিকূল পিপাসায় কিছুটা ঝাপসা
ফলে, প্রতিক্রিয়ার উদ্বেগ আর গোপন থাকে না।
গাছের ছায়ায় গাছ, রাস্তায় রাস্তার ছায়া, বৃত্তে
ক্লান্ত সাদা মেঘ, নগ্ন ধান, বাষ্পরূপসীর ঘুম
বিচিত্রবোধের বর্ণনাও স্থানকালে অর্থহীন।
আসলে সে ছুটে যাওয়া সবুজকে ছোঁবার চেষ্টায়
আজীবন মন্থর চলেছে। নেপথ্যে রূপাবয়ব
মেঘমাখা ঘরেও আকাশছায়া অল্প বিচলিত
চিন্তিত আগামীকাল। অভিজ্ঞতা ব্যবহারে যন্ত্র
নিরুপায়। কেবল পিপাসার পেছনে বেশ দ্রুত
বয়ে চলে ঠাণ্ডা পরিচয়ের আবহমান স্রোত।
ভবানীপুরের নীল ঘোড়া এঞ্জিনের কাছে এসে
আচমকা থমকে দাঁড়ায়। তারপর তীব্রগতি
আকাশছায়াকে অনুমান করাও এখন স্পষ্টত দুরূহ।

 


বাষ্পভোর


সপ্রতিভ আয়ুর উৎসাহে প্রণাম গর্জন করছে। ঘুমন্ত জানে না
কবে কতকাল আগে তার কাজ শেষ হবার পর, শ্রবণের
অর্থবহতাও ভাষাহীন শরীরের পরিত্যক্ত ইঙ্গিত কেবল, ধীরে ধীরে
বদলে যাচ্ছে হেঁটে যাওয়া, বদলে যাচ্ছে কুশল জিজ্ঞাসা
না ফোটা ঘন মালতীফুলের চারপাশে প্রত্যক্ষ আড়াল
চরণসম্বল দগ্ধপথিকের আকাশসম্পর্ক সাধারণভাবে
ভুলে যাওয়া অসম্ভব নয়। শুধু ঘুরে এলে অনুমান লেখে
গ্রহণ স্মৃতির অঙ্গ, আর জানা যায়…কিশোরীর চেয়ে থাকা
ছাপা হলে ঘুমোবে মেশিন। এমনই যুগের ইচ্ছা। পথকে
গাছের কথা জিজ্ঞাসা করার আগে প্রবাহের শান্ত সমর্থন
প্রশংসা বা অভিব্যক্তি দেখে মনে হয়…যেন সে অগত্যা
নিজেই নিজের নৌকো উল্টে দিয়ে সাঁতরে চলেছে।

 


তিমিপাহাড়


বিকেলে পেলাম খুঁজে সকালে হারানো রহস্যদালান
থমথম শিসের আওয়াজ ভেসে আসে অনুকূল হাওয়ায়
পুনরায় প্রবেশপথকে দেখে সমান বিস্ময় নামে। খাঁজকাটা
কাঠের দরোজা বর্ণবোধসহ ডানা মেলে উড়তে পারে কি?
তাৎক্ষণিক স্পর্ধাকে শ্রদ্ধা জানানো আমার স্বভাব, ফলে
বহুমুখী উৎকর্ষেও ভাঙনের শব্দ শুনে দৃষ্টির উদ্দেশ্য বিবেচনা
করি। দেখি দালানের জীবনযাত্রায় অথৈ জলের দাগ
রোদ্দুরে শুকিয়ে প্রায় খুলনার মানচিত্র। কেবল অজস্র নদীর
কষ্টকর ঝুঁকিতেও তিমিপাহাড়ের সুদূর অস্তিত্ব দেখে বুঝি
আমার খুঁজে পাওয়া সার্থক হয়েছে। এই নিঃসঙ্গ দালান
আসলে আমারই অকপট স্বীকারোক্তি… চারিদিকে নদী সীমারেখা
ভালো না লাগলে আমি বিলম্ব হারালেও ঘটনাসমূহ মনে রাখতে ভুলে যাই।

 


লালছায়া


হাত বদল হতে হতে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়েছে বর্ষার
শ্রাবণসন্ধ্যায় প্রায় খালি ট্রাম মিছি মিছি স্টপেজে দাঁড়ায়।
ওঠবার বা নামবার কেউ নেই, শুধু সাদা ভিজে মেঘ
আবির্ভাবকালীন উপস্থিতি ঘোষণা করেই দিকপরিবর্তন
বৃত্তের ভেতরে দ্বন্দ্ব ছুড়ে দ্যায়। কে বলেছে হাঁটাপথে বারান্দা
থাকে না? বর্ণমালার সঙ্গে কথা বলার সময় লালছায়াকেও
বর্ষার বারন্দায় একা খালি হাতে বেড়াতে দেখেছি।
এখন আমি কি সজোরে ধাক্কা দেব জবাগাছ? কণ্ঠনালী
বিষয়বস্তুকে গিলবে ভেবেও শেষ অব্দি গেলে নি, খেয়েছে
কিন্নরকণ্ঠ মৃত্যুর ভূমিকা। প্রকৃতপক্ষে বর্ষাই আমাদের
পরিচয় প্রকাশের মুদ্রা মনে রাখে। দৃষ্টির আড়ালে ফুটে ওঠে
তথাগত। নদী ক্রমশই সরে যাচ্ছে অবস্থান থেকে, বেচারা
মাঝির সঙ্গে আমার আলাপ কখনই তেমন ঘনিষ্ঠ হলো না, ফলে
মাঝিপরিবারে থাকা নদীর বিগ্রহ আমার অদেখাই রয়ে গেল।

 


পদচিহ্ন


অনর্থক খেলা করো অনর্থক খেলা প্রেম প্রেম
দুরন্ত মাঠের দুঃখ কোনোদিন বুঝে দেখেছ কি?
পদচিহ্ন খুঁজে খুঁজে ভাবো আজ কোথায় এলেম
ময়ূরপুচ্ছের পাশে লুটোপুটি খায় হরিতকী
সঙ্গে থাক শিলমোহর, তুমি থাকো তোমার ভিতরে
সূত্র অত সোজা নয়, নড়ে ওঠে শৃঙ্খলের দাঁত
প্রসঙ্গ চলার জন্য টান থাক আশ্রয়শিয়রে
নত মাথা না ঝুঁকিয়ে বন্দনাও শিখবে হঠাৎ
সুতরাং দুই যুগ চারযুগ পাঁচ যুগ পরে
ভালোবাসা বেছে নেবে রক্তবর্ণ লবণের রেখা
তখনো তোমার মুখ অবিকল তোমার শরীরে
তুমিই তো পদচিহ্ন, মহাকাশে হাতছানি লেখা।
কী করবো সভ্যতা আমি, মৃৎশকট খুঁজে পাচ্ছে বাড়ি
পোড়-খাওয়া লোক, কালাচেরও বিষদাঁত ভেঙে দিতে পারি।

 


বুনোফুল


রাস্তায় পাখির ওড়া, টেম্পোর চলে যাওয়া দেখি
টিউবয়েলের নিচে মাথা পেতে বসেছে বিড়াল
গৃহস্থের পদতলে পাকা ধান গুছোচ্ছে ছেলেটি।
ঘা খেয়ে নিঃসঙ্গ ছেলে শুরু থেকে ফুল ভালোবাসে
বিশেষত বুনোফুল অযত্নে সুহাস একাকার।
বিভিন্ন জাতের ধান সম্ভাবনা তুলনাবিশেষে
সমস্ত বর্ণই এক। বোধ বুদ্ধি অভিভূত জল।
গৃহবধূ দুপুরের ভাত এনে খেতে দিয়ে যায়
নয়ন রজ্জুর চেয়ে কম শক্তি রাখে না নয়নে
অসম্পুর্ণ ধানক্ষেত, ব্যবহার দেখে মনে হয়
কোলাহল থামিয়েছে পৌরাণিক নীল অন্ধকার।

FG


রিক্তস্বর


দৃষ্টিমেঘ কালো গাছ গোল গাছ মাটি ঊর্ধ্বগামী
কারুরই সংকোচ নেই পরমুখাপেক্ষী নয় কেউ।
পুণ্যফলে মহীরুহ ভেতরে অসহ্য টান, তবু

স্রোত গিলে ফেলছে গান, অন্ধকার সংগ্রহ করেছে
শিয়রে পাতার জন্য। অগ্নিকাণ্ডে পাখি উপস্থিত
অবতল লুপ্ত হোক এতক্ষণ সমস্ত অঞ্চল

শান্ত ছিল প্রদক্ষিণরত নীল কাল্পনিক রেখা
কল্পনা করিনি বলে আকস্মিক সংকেত পেলাম
বাঁ দিকে দর্শন যেন প্রয়োজনে তীরচিহ্ন গতি

পুনর্বাসনের আগে একবার অসম্ভব দেখে যাবো
ঝড় নিয়ন্ত্রণ হয় নিজের ইচ্ছায়। চেয়ে দেখি
চূড়ায় কঙ্কাল, কণা অব্দি ক্রোধ অবশিষ্ট নেই

ডানায় শস্যের শব্দ দৃষ্টিতে লবণ দেখে বুঝি
কৃষিকাজ জলভাত বলেই পাখির নাম প্রতিভা হয়েছে।

 


পথমোহনা


উন্মুখ মরুভূমি দেখছো তুমি গ্রহণ আরো ঘনায়মান
চাইছো আকাশ ঘামে বৃষ্টি নামে বিব্রতকে অন্ধ প্রমাণ
আঁধারও যায় ভুলে যায় ধাতুর খাঁচায় একদিন সে আঁধার ছিল
প্রতিমা গলতে থাকে, কলকাতাকে দিনদয়ালই উসকে দিল

একাই স্পর্শস্নিগ্ধ দেখতে শিখতো অনুসরণ ভোলার আশায়
অবশ্য অলীকপাঁজর জানতো না ঝড় কী কারণে চিন্তা ভাসায়
সুতরাং পরিব্রাজক তোমায় আজও সালাম জানাই নির্বিবাদে
সমস্যা তপ্তধূসর অনগ্রসর বন্ধুপত্নী সুক্তো রাঁধে

ভাবছো কি ঝামেলা সোন্ধেবেলায় ভুরু কুঁচকে কপাল মোছে
প্রশস্ত পথমোহনায় বন্ধু জানায় স্বচ্ছস্নানে ক্লান্তি ঘোচে
চলেছি বাস্তবে পা প্রকাশ চাপা, আলগা দোলে সোনারকাঠি
যদি না পস্তাতে হয় ফেরার সময়, আবার আমি ছায়ায় হাঁঁটি

 


মাকু


তুমি আমায় ভালোবাসো জানলে গভীর আনন্দ হয়
ঘণ্টাঘড়ি নক্সা পিছু সত্যি বলছি দু টাকা পাই
আয়োজনের অন্ত জেনে এই দুনিয়ার আকাশ দেখি
খুল্লামখুল্লা বলছি তোমায় শোনো আমার মনের কথা
সবুজ সবুজ আরো সবুজ এখন প্রিয় উদাস মাঝি
তাঁতের মাকু নড়তে চায় না, বাবলা ফুলে আঘাত লাগে
তাহলে কি সত্যি তুমি জানতে আমি হারিয়ে যাবো
মন্ত্রে লেখা চিঠির কথা হাওয়া ছাড়া কেউ জানে না
ঝুলন্ত এই বাস্তবতা এমন করে সেজেছে যে
বর্হিদৃশ্য চেনাই কঠিন সমুদ্রগড় শালিখ দেখছে
মেঘমল্লার গাইতে গাইতে তোমার সরল হেঁটে যাওয়া
ভাবলে মধ্যযুগের কথা নক্ষত্রেরও মনে পড়ে
পাকোয়ানের আঁচল বোনে উদ্ভাসিত রঙের ছায়া
রাবেয়ারা সুতো পাকায় চরকা ঘোরে অবিরত
তুুমি কিন্তু গান গেয়ে যাও অসম্ভবের জন্মদিনে
তাহলে কি আলগোছে ফের মৌলিকতা লুকিয়ে রাখব?

 


গবেষণা


বুদ্ধিসুদ্ধি না হারালে গো শকটে চাপা পড়া
আইনসিদ্ধ দণ্ডনীয়, ঘটলে বলতে লজ্জা করে
আলতো ছবি স্নেহভাজন রাখাল ছেলের পাল তোলা মন
স্পষ্ট দ্রুত চোখে পড়ার উপযুক্ত নগ্নলতা
গরুরা কি বুদ্ধিমানের কথায় সবাই ওঠে বসে
মেঘলা সবুজ অভিপ্রায়ের লক্ষ্মীমন্ত ব্যবহারে
খোলামেলা আছড়ে পড়ছে প্রাতঃকালীন ভালো লাগা
অতিরিক্ত হাম্বা ডাকার স্বভাব কষ্টে সামলে নিচ্ছে
পরিস্থিতির আঁচ না পাওয়া জীবনমুখী সাহসী ষাঁড়
গরুর গাড়ির সঙ্গে যাচ্ছে গাড়োয়ানের মালিকপত্নী
অনন্যোপায় উত্তাপে পা টলোমলো, পরিক্রমা
শেষ না হলে ধৈর্য ধরে চলাই গরুর ভবিতব্য
হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি গরুর কোনো
জীবনী নেই। প্রায়ান্ধকার বৃত্তপথে জাবর কাটাই সৌখিনতা

 


এক এ চন্দ্র


আমার ক্ষমতা এবং স্বভাব তোমাকে দিলাম। তোমাকে দিলাম
দুপুরের ঘুম ভেঙে যাবার পর বর্ণময় অলংকারগৃহ। চিন্তার মুখোমুখি
দাঁড়িয়ে থাকার সাহস। আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা বিতরণযোগ্য কিনা
ভাবতে ভাবতেই তোমাকে দিলাম বাঁশঝাড়ের পাশ দিয়ে পায়ে চলবার
মনোরম মাটির রাস্তা। ধানক্ষেতের মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা
একা একটি টিউবয়েল এবং তালখেজুরের ছায়ায় ঢাকা ছোট ছোট
তিন চারটে দিঘি, নতুন অথচ ড্রাইভার প্রথম চালাচ্ছে এমন একটা
ফাঁকা ট্রাম। ব্যবহার করা কিন্তু আমারই খুব পছন্দের দুটো জামা
অর্ধেক নষ্ট দৃষ্টিশক্তি, ওল্ড টেস্টামেন্টের বাংলা অনুবাদ, অদ্যাবধি
না পড়া অজস্র বইপত্র এবং স্নান করবার নিজস্ব কৌশল। দ্যাখো
এখনও লতাদের স্নান করাচ্ছে মেঘ, আমার স্বভাব নিয়ে দ্যাখো
অনিচ্ছে থাকলেও চোখ আর মন খোলা রাখলে তুমি ও আমি এক….

 


আলোধ্বনি


ফুসমন্তর বললে এখন শরীরে জ্বলবে তারা
অকারণে জীবন চলবে নিরপেক্ষ পথে
কড়ি আলনা দুলে উঠবে ছিন্ন ছেঁড়া গৃহে
অগ্নি উপভোগের আগে নিবেদিত নদী
নিজের জন্য বাসগৃহের সুস্থতা সম্ভব?
কে মেশাচ্ছে মাংসলালা এ ধ্বনি সংসারে?
মেঘ কাটলেই দেখছি জগৎ চিররহস্যময়
উপায় বলো গোলাম হোসেন, হাওয়া আমার বিবি।
কিন্তু তাকে ছুঁলেই সে যায় রজনীর শেষ প্রান্তে
অসামান্য হাসি কেবল দেখে নবান্নমাস।
আবার আমায় ফিরতে হবে একতারাটির কাছে
শাসন যেমন প্রচার করে জপের প্রবণতা
আসলে এক আলোধ্বনি অক্ষরচিন্তায়
বীজ বুনেছে ইহকালের, মহাকালের নয়
কৃষ্ণ এবং শুক্লবর্ণ নিরপেক্ষ গৃহে
শপথসহ দাবি করছি হাওয়া আমার বিবি

 


বর্ণস্পর্শ


অনুজ্জ্বল মৃদু মাথা অথচ বিরাট
দৈর্ঘ্য প্রস্থ সীমাহীন ঘন অন্ধকার
ওষ্ঠ প্রাণ স্পর্শ মাত্র ছয় সাত আট
যোজন যোজন পথ সৃষ্টি সখি কার!

রান্না হয় নিয়মিত ভিক্ষারঙ থালা
বৈঠা ছেড়ে হাল ধরে উত্তপ্ত পালক
ভেঙে গেলে ভেসে যায় লাল আটচালা
প্রায় মুগ্ধ চেয়ে আছে সংসারের লোক

কৃষ্ণ শাদা ঘোর বর্ণ স্পর্শে জন্ম হয়
আরো নীল পঞ্চবর্গে পোড়ে মন বন
আমার সোপানশ্রেণি বাসস্থান নয়
চক্রাকারে অন্ধকার ছুঁয়েছি গহন।

 


ভ্রমণকথা


কোথায় যাচ্ছ
মনে পড়ার রাস্তা ধরে একা
ভেতর থেকে অপেক্ষাকে
বৃষ্টি নামার গান শোনাচ্ছে
উষ্ণ উপত্যকা

কোথায় যাচ্ছ
কেন যে ভাব কেন যে করো আড়ি
কাছে এসে তাকিয়ে দ্যাখো
চেয়ার পেতে বসেছে ঘরবাড়ি

স্নান করছে মুখের কথা
দুঃখ এবং বিষাদ ভুলে
স্নান করছে নিরভিমান হাসি
বাংলাদেশের আকাশ জুড়ে
ভেসে যাচ্ছে জ্বলন্ত নীল রঙ

সেই সুবাদেই পথিক শুনছে
যাচ্ছি বলার পরিবর্তে
তুমি বলছ—আসি ….

 


জবামালা


জননী গো ভোঁতাবটি ধীরে কাটো সুক্তো তরকারী
মুলো উচ্ছে কাঁচকলা পেঁপে কিংবা শাকপাতা ডাঁটা
কিছুই ফেলার নয়, ভিজিও না লালপাড় শাড়ি
এমন বর্ষায় পার্শেমাছ ভেজো, কালোজিরে বাটা

ছোলার ডালের স্বাদ তার ওপর মেঘলা আকাশও
মন ভালো করে দিচ্ছে একনিষ্ঠ শক্তিসাধনায়
মন্দির চাতালে ভক্তের দলিল লেখা ভালোবাসো
তুমি আজ রণচণ্ডী মূর্তি ভুলে ডুবেছ রান্নায়

মাছি মারছি আমি সুরের আলাপ বা নেশার খেয়ালে
বোধ নেই জীবজগতে মহাদেব জপে বসেছেন
পেটের চিন্তায় রাস্তা পথ ভুলে ঝুলছে দেওয়ালে
তিনশো বছর একা গাইছেন রামপ্রসাদ সেন।

তাহলে কি খড়িমাটি পোস্তবড়ি সব একাকার
আকাশগঙ্গার স্রোতে ভেসে যাচ্ছে রাগিণীমূর্ছনা
বেশ ভোঁতা বটি জবামালা কে তোমার তুমি কার
হাড়িকাঠে গলা রেখে ভেবে যাচ্ছি কেন বুঝছো না….

 


রক্তজবা


উল্টো হয়ে দাঁড়াও শ্যামা তোমায় আমার জখম দেখাই
মনে রাখার শান্ত ইচ্ছে থেঁতলে দিচ্ছে অস্থিরতা
আহা আকুল সন্ধানী পা অন্ধকারে একা একাই
খুঁজে বেড়ায় স্বাভাবিকের স্বচ্ছ সরল জগত্কথা।
সহজে কি সমাধানের সলিল-আয়না পায় সমস্যা!
পরিত্যক্ত স্নিগ্ধ আগুন তেজস্ক্রিয়তার ভিতরে
শান্ত শিহরন ঢুকিয়ে শ্মশান রাতে অমাবস্যা
আমায় দেখায় তোমার সামনে পঞ্চমুখী শ্বেতপাথরে
শিশির ভেজা রক্তজবা। স্থলে জলে অন্তরীক্ষে
কেবল তুমি কেবল তুমি। উপস্থিতি অন্যরকম
অন্ধকারে জখম সারাই, উর্ধ্ব- অধঃ –দশদিককে
দেখাই মৃত ফুলের কষ্ট বিষয়ভেদে মেঘসমাগম।
শুনছি আদিগন্ত ঝড়ের অপ্রকাশ্য ভক্তিগীতি
আজন্মকাল তৈরি হওয়া সহজসাধ্য নয় যদিও
আকাশপত্রে নীলচে আভা অপ্রকাশ্য রীতিনীতি
ধরে থাকতে কষ্ট হলে আমায় বরং ত্রিশূল ধরার আদেশ দিয়ো।

 

ফল্গু বসু

ফল্গু বসু

জন্ম : ১৬ মে, ১৯৫৬, কোলকাতা। শান্তিপুর ও রাণাঘাট কলেজে পড়াশোনা। গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে ডিগ্রি নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ।

কবিতার বই:
অবাধ্যের পুঁথি
অক্ষরবল্কল
ভূভারত সুধাময়
মৃদুচিহ্ন
স্বভাববর্ণ
করতলে ভাগ্যরেখা নেই
হাঁটছে হাতের লেখা

ই-মেইল: falgubasu@gmail.com
ফল্গু বসু

Latest posts by ফল্গু বসু (see all)