হোম কবিতা তানভীর হোসেনের কবিতাগুচ্ছ

তানভীর হোসেনের কবিতাগুচ্ছ

তানভীর হোসেনের কবিতাগুচ্ছ
339
0

অনির্মিত কবিতাগুচ্ছ : ১

আদর্শকে আমি এক গোপন বাক্সে
লুকিয়ে রেখেছি ডাকটিকিটের মতো

একটা বেড়াল কাঁটার দিকে লাফ  দিচ্ছে,
না পেয়ে ছায়া ভেবে আবার দিচ্ছেও না।

আমি ভাবছি টিকিটগুলো থেকে
কিছু ওকে দিয়ে দিই, ও কাঁটা ভেবে
বাড়ি নিয়ে যাক

একটু খেয়ে বাকিটা জমিয়ে রাখুক লুকিয়ে রাখুক!

.
অনির্মিত কবিতাগুচ্ছ : ২

টেন্ডন ছিঁড়ে জেগেছে যে ডুবোবন,
বুকে তার বিক্ষুব্ধ সেনাদল;
প্রচণ্ড টানে বেঁকে আছে সমস্ত ধনুক

ছুরি, যার নরম ছুটিদিন হবার কথা ছিল কাঠে
দোলনায় হাত হয়ে ছিল দাঁড়াবার কথা;
দৃষ্টি হেনেছে রঙিন ললিপপে!

সৈনিক, এই নাও রিংচিপস;
আঙুলে পরবার চেষ্টা করে দেখো
বড় হয়ে গেছ কত!

.
অনির্মিত কবিতাগুচ্ছ : ৩

এই জগৎ হিপোড্রোম এক
আমি নমশূদ্র আর্য তবু
রক্তচক্ষু বলি, হে হিপনোসিসের
ভেতর বিতাড়িত দ্রাবিড়!
অভিপ্রয়াণের অপেক্ষারত যিশু,
বায়ুচিত্র ভুলে ইতস্তত উড়ন্ত
অতিথি পাখির মতো নৈর্ব্যক্তিক
কোনো টুকরো প্রস্তর তুমি; ভুলো না
নিষাদ বুড়োর কথা।

.
অনির্মিত কবিতাগুচ্ছ : ৪

আমাকে কি ছেড়ে গেলে বনগহ্বরে?
তোমাদের কেয়ারিতে ফোটে ফুল;
সর্পেরা খেলে গন্ধরাজের তলায়।
যেনবা সাপুড়ের বীণে নেচে ওঠা
ঘূর্ণি বাতাস, মাতাল স্বর্ণলতা। যেন স্বর্গের
সিঁড়ি ঘুরে ঘুরে ফের আসি নেমে।
তবুও শান্ত থির লহু, জীবন এক চৌকস
ম্যাটাডোর হয়ে প্রশমিত করেছে তাকে,
নিজের হাস্যাস্পদ এই নীরবতা তুলে দেখি
রক্তাভ এক  চাদরই ঢেকে রেখেছিল এতকাল!
নতমুখে আবার জাগ্রত হই, উত্থিত করি
বাহু, অম্লীয় জীবনের পরম গভীরে,
কোথাও কি নেই তৎসম তীব্র সাবান?

.
অনির্মিত কবিতাগুচ্ছ : ৫

জানো কি মন্দিরা ফুলেরা কিছু আছে, নীরবে চেয়ে থাকে? বিনয়ী মস্তকে ভূমিতে নুয়ে থাকে। আমিও নতমুখী স্তব্ধ রাত্রিতে কত কী রঙ দেখি বিকার আসে না। দ্যাখো, সে প্রজাপতি দু’ডানা মেলেছে কি? মৃত সে নদীগুলো রেখায় ফুটেছে কি? জল কি শুধু ওই প্রবাহে বেঁচে থাকে! শুকনো মাটিতেও আনে সে দ্যোতনা। অনেক কথা হল; তুমি তো বিবসন জ্বেলেছ অগ্নিমুখ ফণার ফ্যালকন, আমি তো অতি ধীর ঘুম কী চেতনায়, তুমি তো ফুল নও, যে জাগাবে আমায়!