হোম কবিতা জাগতিক আঙুরের গার্হস্থ্য

জাগতিক আঙুরের গার্হস্থ্য

জাগতিক আঙুরের গার্হস্থ্য
435
0

জাগতিক আঙুরের গার্হস্থ্য

সে এক আলো,
অর্জুন গাছের স্বরে বলে গেছে জাতিস্মর
তোমাকে সুদেষ্ণা।
তাম্রবর্ণ তোমার নখ, জাগতিক আঙুরের গার্হস্থ্য তুমি
নত মুখে, ঘড়িবদলের ছলে বলেছিলে
সাত ঘড়ি দূরত্বে আমাদের ঘুমের শিথান
কোথাও কি ক্ষুধার নাশপাতি নেই গোপন রাখবার?
দ্বিধাবৃক্ষ-ছায়ার মতোই নির্বাক
উৎফুল্ল ডানার দিনে
মেঘের কাছে জমা করে সে বীজ
জলের ফোঁটায় শুনে নেয় সুবহে সাদেক
সুদেষ্ণা, তোমার দ্বিধাবৃক্ষের ঘুম মাইল মাইল বাড়ি নিয়ে যায়।


নখরা

নেইলকাটার, মৃত্যুর চেয়ে বিস্ময়কর
তোমার এই বেঁচে থাকা!
ধারালো সময়ের দামে নখ
শতপৃষ্ঠার গায়ে আঁচড় কেটে
কেবলই সামলে নেবার কথা বলে।
ভাঙতি মাসের দিন নেইলপলিশ
নিরালায় কেটে নেয় আঙুলের রং
কিসমতের নখরা দেখে তুমিও
—ইশারায় কোথায় যে জমা করো ভ্রম!
অজুতে যাচ্ছি বলে অগণিত পারদকে আমি অস্বীকার করি। 


মানুষ নিভে যায়

মানুষ নিভে যায়
তবু এক স্তন চাঁদের মতো
চিলেকোঠায় আদর লেগে থাকে
পেয়ালায় দীর্ঘশ্বাসের আঙুল কেবল
খয়েরি পোকার মাঝে নিজেকে খুঁজে
শহরে নতুন চাঁদ ঘষা আলো
নতুন চাঁদ ঘষা অসুখের ভান
তবুও এক স্তন চাঁদের মতো
মানুষ নিভে যায়।


ফলিকল

শিউলিফুলের মতো আর্তনাদ, পাখিদের আঙিনা থেকে লুটে নেয় শাদা, রোঁয়া ওঠা ভোরে কী এক ফানুস ওড়াও তুমি, সৌমেন! যার পায়ের পাতায় লাল, এক ফোঁটা, এত যে চেনা লাগে। সিলিঙের নেচে ওঠা ব্লেড! এতকাল হাওয়ার মাঝে নরম আলোর বীজ বুনেছ কী তুমি। একটি চুলের শিখা তার, লেলিহান বালিশে, এক গোছা নদীর জলে বার বার ভেসে ওঠে পাপের মহামায়ায়!


যৌথবন্দরের পিঠ

রাইফেলে খামচে ধরি শীতকাল
ফুসফুসের সঙ্গে গেরস্থালি আমার সয়ে গেছে
বাগানে ঝুঁকে থাকে জামা, তীক্ষ্ণ দিন
ধসে যায়, ধসে যায় যৌথবন্দরের পিঠ
আগুন পোহাতে সামান্য কার্পাস তুলোর—
মেরি গো রাউন্ড,
অভিমানে কেটে নেই গাল
পুরুষের আয়নায়
অথচ জানাই হলো না
কচি ঘাসের বাহানায়
কে কোথায় পাড়ি দেয় অসামান্য চিবুক।


কিউটিকোরা

নিয়ে রাখো গার্লস কলেজের খেয়াল
পাউডারে কেবল একটাই গন্ধ বেঁচে আছে
সাজানো যার বয়ামভর্তি ত্বক;
দোকানদার
বেখেয়ালে কোনো শ্যামা মেয়ে সরিয়ে রাখে
উন্মেষকালে যতদূর তার তরী
দিয়ে যায় সিকি-আনা-পাই
উষ্ণদিন ভেঙে ভেঙে নামে ঘাম
কিউটিকোরা—
নিতান্তই পৃথিবীর বাদামি গ্রাম


জিন্সের পাশে আত্মাহুতির ঘ্রাণ

এ কেমন আত্মাহুতি বলো?
শরীরে দাগ নেই
ফুসফুসে ফুটেছে লাল
তোমার মাঝে যত না আমি
তার চেয়ে বেশি ফুলার রোড
আত্মাহুতি ফুসফুস পেরিয়ে
কৃষ্ণচূড়ার শ্বাসনালিতে নেমে গেছে

ধোয়া ওঠা বিকেলে কারো নতুন হাত
এ কোনো আশ্রয়, তোমার ছল!
কোথাও যাই নি আমি
আছি কী নিরন্তর!

প্রান্তর সাদা-লাল, ভেব না আলপনা
এই শূন্যতাই চারুকলা, ওখানেও আমি
কিছু চলে যাওয়া সিগারেট প্রতিমা আমার
জিন্সের পাশে তোমার আত্মাহুতির ঘ্রাণ 


বোকা মেয়ের ঘুম-রবিবার

খোলাচুল ফিরিয়ে দেয় গান
সেতারে বসি না বহুকাল
তবু মুছে না দেরাজের ঘোর
হাড়ের ভেতর
বেঁচে থাকার সে এক রুবাই
সেতারের মন—
কেন যে আর ছোঁয় না আমায়
আঙুলের পঙ্‌ক্তি ঝরে যায়
অন্য কোনো জলে হয় বুঝি তার ঠাঁই?
মাটি তুমি জেনো
বোকা মেয়ের ঘুম-রবিবার
তোমার মতোই একা!


দোলাচল

লব্ধ কোনো টিলার চেয়ে সত্য এ স্তন! কী আছে দায়ভার খয়েরি পোকার? তবু কোথাও বালুর সংসার ক্ষয়ে যায়। অবিরাম ছুটে চলে বিরহকাল, যে কেবল ভাঙনের কথা বলে। নিবিড় বর্ষায় না পেলে জলের মুখ আরশিতে সমকামী হাতের দোলাচল। ইশারায় খুলে দেয়া দ্বীপ, গুহায় কি খোঁজে আলো, যতটা গভীরে চোখ যায়! পুরোনো অভিসারে পিঠ ফেরালে কী পাও তুমি? তপ্ত এ ভূতলে হারিয়ে যাওয়া চাবি জুড়ে শুধু মায়ার ছোবল, ফেনার আশকারা ভেদ করে চলে যায় অনন্তকাল। এ সন্ধিক্ষণে শীতকে এগিয়ে দাও, আরো গভীরে, অগ্নিবর্ণে।


নমিতাদি

একদিন কোনো কবিতার ছলে তুমিও দিদি থেকে মা
ঘনঘোর তেলের বাটিতে চুপ
দুহাতে সিঁথি কেটে তুমি চলে গেছ
খোলা চুলে আর বাঁধি না বিকেল
সুর তোমার অফুরান, ধুলো ওড়া দিনে
রিডে আর দেখি না তো ঢেউ
সহস্র জল, এক বিন্দু হিম
আমিও কাঁদি শ্রাবণ
নমিতাদি তুমি তো আমার  দিদি থেকে মা
বিষণ্ন বারান্দায়
শূন্য এক জেনারেল গ্রাহাম রোড।

ফারাহ্ সাঈদ

জন্ম ঢাকায়। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি প্রসাশনে কর্মরত। লেখালেখির শুরু ঢাকায় স্কুলজীবনে। কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স করেছেন ইংল্যান্ড থেকে।

প্রকাশিত বই :
একগোছা নদী [গল্প; ২০১১)
ফ্রেঞ্চ খোঁপায় শ্বাসরুদ্ধ চুলের জোছনা [কবিতা; ২০১৩]
পৃথিবীর নিচুছাদ প্রেম [কবিতা; ২০১৬]

ই-মেইল : sayeedfarah@gmail.com

Latest posts by ফারাহ্ সাঈদ (see all)