হোম কবিতা জব্বার আল নাঈমের কবিতা

জব্বার আল নাঈমের কবিতা

জব্বার আল নাঈমের কবিতা
520
0

বর্ণবাদ


একজন কালো মানুষের সামনে প্লেটভর্তি শাদা ভাত!

কালো কালি লিখে শ্বেত ইতিহাস;
মানুষের পাত্রে রূপ পাল্টায় প্রকৃতি!

কালো চোখে সুন্দরের বর্ণনা লিখি।

 


শিকারি


উড়তে উড়তে একজোড়া ক্লান্ত পাখি বিশ্রামের ডালে ঘুমিয়ে পড়ছে,
গাছের নিচে শ্বেত পোশাকের তিরন্দাজ—
পাতার ফাঁক গ’লে তির ছোড়ে
আহত আর্তনাদে কুঁকড়ে ওঠে রক্তাক্ত স্ত্রী!
স্বামীকে সাক্ষী রেখে আরশে আপিল করে—
শিকারিরা কেন ওঁত পাতে সভ্যসুন্দর ধর্মের পোশাকে?
বিভ্রান্ত আশেকান। আক্রান্ত অবুঝ আমরা; জ্বলে দেবালয়!

ধর্মের বর্ম খুলে শিকারির তিরে নির্দিষ্ট পোশাক;
আমেরিকার পরিবর্তে বাংলাদেশ গনিমতের মাল!

 


সুইসাইড নোট


একটি কুৎসিত কাক পৃথিবীর পথে সুদীর্ঘকাল ভিক্ষাবৃত্তি করে হাঁটছে—স্বজন সন্ধ্যা কাটিয়ে সম্ভ্রান্ত নৌকায়।

মজলিস-সর্দার সুষম বণ্টনে মেসির কুইক শট বারের দিকে পাঠালে শূন্যস্থানে দাঁড়ায় বিভ্রান্ত্র অজুহাত। অনুনয়ের দরজায় তিরন্দাজের অভাব ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে ফাঁশিকাঠে দাঁড় করায় নিজেই নিজেকে।

তার…
ঠিক এক-দশ বছর পরের একদিন আকাশের তারারা বিচ্ছিন্ন গতিতে খোঁজাখুঁজি করবে একটি তারা; সেদিন অনেক ডাকার পর কাক না ফিরলেও; পদ্মা ভাসিয়ে নেবে শোকে ফেটে যাওয়া অপরিচিত কবর!

 


দ্য সোর্ড অব সুলতান


তির ও ধনুকবিদ্যার কেরামতি কুরুক্ষেত্রে এখন অতীত অধ্যায়। পৃথিবী নিউক্লিয়ার বোমার দিকে হাঁটছে তরবারি আমল শেষ হওয়ার আগে… সন্ধ্যাবাতি ভুলে বসেছে কফিভোগের কাফেলায় চমৎকার হারানো কিছু শব্দ। আরবে ডুবে গেছে হারিকেনের আলোয় প্রজ্জ্বলিত হেজাজ!

আমরা যখন ব্রোথেল বয়ান শুনি অমাবস্যা-তিথির আয়োজনঘণ্টা বাজিয়ে। ঠিক তারও দু’শ বছর পরের একদিন নতুন ঝংকারে—মানুষবিহীন ড্রোন ইতিহাসের খেরোখাতায় হবে ‘দ্য সোর্ড অব সুলতান।’

 


কবির কফিনে মোড়ানো বাংলাদেশ


গতকাল গুলবদনের সাথে শুয়োরের মাংস দিয়ে যখন রুটি খাচ্ছিলাম
সূর্যের আলো আমাকে তুড়ি মেরে—
আগুনে না পোড়া মহামানুষের নাম
তীক্ষ্ম ছুরিতে বেঁচে থাকা অন্যজন
স্রোতস্বিনী নদীতে ডুবতে থাকা স্মৃতি
মাছের পেটে ইউনুছের সাথে আঞ্জাম
মায়ের কোলে ঘুমানো শিশুর তাড়া খাওয়া মাছের জীবন।

শুয়োর আমদানি হয় গরুর বদলে; ছাগলের বদলে শিয়াল
দুটোই অপছন্দ আমার প্রিয়তমার।
আজ শহীদ মিনারে আনা হবে কবি শহীদ কাদরীর লাশবাহী কফিন
শাদা মার্কিন কাপড়ে চকোলেটের মতো মোড়ানো;
কফিনখুলে দেখলাম মরে আছে বাংলাদেশ
অঘোরে ঘুমাচ্ছি আমরা।
কফিনে সংসারের দায়িত্বশীল বাবা
পাঞ্জাবি ও পায়জামা পরিহিত শুভ্রসুন্দর দস্তানায় মিকাইলের বাঁশি হাতে
তাড়া দিচ্ছেন আমাকে—বেঘোরে ঘুমাতে।

স্মরণিকার সামনে দাঁড়িয়ে মৃত সব কবি-আত্মা
ছিপি খুলে আতরের সুগন্ধ ডান হাতের কব্জি ও নাকে
মুগ্ধতায় মিছিলের অগ্রভাগে মৌন মিছিল—৪৭ ও ৫২ সাল
আমার দিকে আজরাইল ৭১’র মতো এগিয়ে আসছে—
আমি সামান্য উবু হয়ে নিসর্গের মতো ছায়া বিলিয়ে যাচ্ছি
শোকের কাতারে; সহকর্মী ও কবিবন্ধুদের জিজ্ঞাসু চোখে।
লাশ আনা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদে।
এমন সুযোগে কবি কাজী নজরুল ইসলাম আর জয়নুল আবেদিন
ফুলের মালায় প্রথম অভিনন্দন জানায়,
আলসেমি রেখে পটুয়া কামরুল জানাজার ইমামতিতে দাঁড়ায়
লাল-সবুজের টুপি মাথায়। হায়! এখানেও সাইফুদ্দিন নেই।
পটুয়ার টুপি বর্গা হয়ে গেছে, আমরা খুঁজে হয়রান।
কোথায় পাব দিজেন্দ্রলাল? শেষতক টুপি না পেয়ে
কফিনবন্দি বাংলাদেশকে মাথায় নিয়ে আমরা হাঁটতে থাকলাম
মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের দিকে।

জব্বার আল নাঈম

জন্ম ১১ নভেম্বর, ১৯৮৬; মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর। হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স। পেশায় সাংবাদিক।

প্রকাশিত বই :
তাড়া খাওয়া মাছের জীবন [কবিতা; শুভ্র প্রকাশ, ২০১৫]
বিরুদ্ধ প্রচ্ছদের পেখম [কবিতা; বিভাস প্রকাশন, ২০১৬]

ই-মেইল : jabbaralnayeem@gmail.com

Latest posts by জব্বার আল নাঈম (see all)