হোম কবিতা চঞ্চল মাহমুদের কবিতা

চঞ্চল মাহমুদের কবিতা

চঞ্চল মাহমুদের কবিতা
341
1
11064206_910545792323876_1262991414_o
অলঙ্করণ : সারাজাত সৌম

আলেক্স, তোর ক্ষুধার্ত দাঁত আমাকে রক্তাক্ত করে চলে

আলেক্স, ক্ষুধার্ত বন্ধু আমার, চল ভাত ছিটিয়ে চলি। বেলাভূমিতে পড়ে থাকা ঝিনুকের মতো ভাতের বদলে ধর্ম কুড়িয়ে আনি। সভ্যতার ভাঙন আমাদের দোরগোড়ায়। চল, ভেঙে যাই, জেগে উঠি অন্য কোথাও সভ্য হয়ে।

আলেক্স, পেটে এক হাত রাখ, অন্য হাত কপালে; পেট আর কপাল কতদূর আলেক্স ? মিটার স্কেল আর কম্পাস রক্তাক্ত করে মাপি।

ভাগ্যবদল হয় না দেখে জীবন প্রায়ই উঠে আসে চটের ব্যাগে। অন্ধকারে স্বেচ্ছানির্বাসিত হয়ে সভ্যতা পড়ে থাকে পার্কের বেঞ্চিতে।

জেগে ওঠ মানবতা, শুয়োরের বাচ্চার মতো কোলাহল ক’রে। আমার বন্ধুর বিক্ষত হাত কাঁদছে, বিস্রস্ত চুল, ভুরুতে ঘাম, পায়ের কালশিটে নির্মম হয়ে উঠছে ক্ষুধায়, চিৎকার করছে আলজিভ; শুনতে পাস নি?

 

কার্পেট

আলেক্স, আমাদের চামড়া কার্পেট হয়ে গেছে। মেদ বিছানো আছে তার নিচে। সন্ধ্যার পরেও যে রাজহাঁস ফিরতে পারে নি ঘরে, সেই রাজহাঁস খুঁজবে মানুষ—আমাদের কার্পেটে হেঁটে ।

 

রোদেকা এখনো আমরা গভীরতায় ডুবে আছি

রোদেকা তুই তো জানিস, পৃথিবী কতখানি দুর্বল। তারও বেশি দুর্বলতা নিয়ে আমি ঘুমিয়ে পড়েছি তোর পায়ের কাছে এসে। একদিন দুর্বলতা কেটে যাবে, ঘুম ভাঙবে। তোর দু’উরুর মাঝ থেকে টেনে বের করব ধারালো কাঁচি। রোদেকা, দু’জন মিলে আগাছা কেটে ধ্যানের জমি বাড়াব পৃথিবীতে। গুদামজাত হবে না কোনো বোধের। ভূমির উপর বিছানো দেড় ফিট ভাবের গভীরতা ঠোঁটে নিয়ে বাতাসে ভেসে যাবে কাকাতুয়া।

আর কাক ও শকুনের জন্য পচে উঠবে আগাছার স্তূপ।

 

লিদরা স্ট্রিট

ঘনিষ্ঠ হয় আঙুল গিটারের তারে। মাজি গিটার চালিয়ে উঠে আসে উপরে। লিদরা স্ট্রিটের উচ্চতা বেড়ে গেলে ডাউন-টাউন ভেসে যায় রক্তে। আমরা বসে থাকি রক্তের উপর। আমি আর রোদেকা, মাজির কুড়িয়ে পাওয়া কয়েন ভাসিয়ে দেই প্রবাহ খুঁজে। ভূমির সাথে সংযোগ নিয়ে আমার রোদেকা দাঁড়িয়ে যাবে রক্তের উপর।

 

সাইক্লিক ফটো অ্যালবাম আন্ডার দ্যা লাইট

বহুদূরের হাট থেকে গজার মাছ কিনে ছোট্ট একটা পলিব্যাগে আড়াল করতে করতে পৃথিবী ফিরে আসছে বাড়ির দিকে। এমন দৃশ্য দেখার পর ভাগ হয়ে যেতে পারে বেদনা। আমরা নিজের বেদনাটুকু বুঝে নিলে পৃথিবী-ই আড়াল হয়ে যাবে গজার মাছের আবডালে। হোক এখানে কিছু পাঠ। গভীর থেকে উঠে আসুক জঙ্গল। আর জঙ্গল ভরে থাক নিমের মতো ঔষধি সব আলোয়।

বর্ণিল রঙে ছেয়ে দিয়ে আকাশ পৃথিবী পার হয়ে আসুক নুন আর বরফের বাগানে। খাদ্যের টেবিলে বসে একদিন আবিষ্কার করে ফেলি, ভাগাভাগি করে আমরা পৃথিবীকেই খেয়ে চলেছি।

হৃদয় বেদনা পেলে যন্ত্র হতে চায়। যেন একটা সাইক্লিক ফটো অ্যালবাম ঘিরে রেখেছে হৃদয়কে। কিছু সময় পরপর উপর থেকে আলো জ্বলে ওঠে অ্যালবামটির উপর । হৃদয় ঘুরতে ঘুরতে যখন আলো পেয়ে ঝলসে ওঠে, ঐ ঝলসে যাওয়া অংশকে আমরা অতীত বলে দাবি করি। আর ঐ আলো না জ্বলার মুহূর্তে মুহূর্তেই সিগন্যাল পেয়ে আমরা নিজেকে পুড়িয়ে ভবিষ্যৎ বানাই।