হোম কবিতা খুলে রাখো হাসপাতাল : চঞ্চল মাহমুদ

খুলে রাখো হাসপাতাল : চঞ্চল মাহমুদ

খুলে রাখো হাসপাতাল : চঞ্চল মাহমুদ
474
0

সম্পর্ক একে অন্যের প্রতি খুলে রাখে অবারিত হাসপাতাল। এটা অনিবার্য যে, একেকটি মানুষ জীবনে যতরকম সম্পর্কের ভেতর দিয়ে যায় তার জন্য খোলা থাকে ততরকম হাসপাতাল। সম্পর্কের তাৎপর্যে প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ রোগী এবং প্রত্যেকেই সমৃদ্ধ হাসপাতাল। সম্পর্ক খুন বোঝে, খুনীকেও। সম্পর্ক স্থাপত্যবিদ্যা বোঝে, হাসপাতাল বোঝে এবং রোগীকেও ।

গুরুতর আহত মুমূর্ষু বন্ধুদের জন্য নির্মিত হাসপাতালে আমি কোনো সাধারণ ওয়ার্ড, কেবিন চালু রাখি নি। রেখেছি দীর্ঘ করে শুদ্ধতার ইনটেনসিভ কেয়ার। অভিজ্ঞ ডাক্তার, আধুনিক রোগ নির্ণয়ের যন্ত্র এবং সাদা অ্যাপ্রোন পরা সারি সারি সুন্দরী সেবিকা আমার সেসব মুমূর্ষু বন্ধুদের ব্যাধিকে কাঁধে নিয়ে ফেলে দিয়ে আসে আরোগ্যের নদীতে। বন্ধুরা সুস্থ হয়। আমাকে দেখে হাসে। আমরা এক সাথে চা-সিগারেট খাই। কোনো বিষয়কে কেন্দ্র না ধরেই আমাদের গল্পেরা পরিধি ছুঁয়ে আসে।

তাদের রোগ আমি জানি, কিন্তু রোগী বলে ডাকি নি কখনো। সুস্থতার আগে-পরে কখনোই বর্ণিত হয় নি আমার একান্ত হাসপাতালের চেহারা। তারা বলে, অবচেতনে তারা মরে গিয়েছিল। মৃত্যুর পর তাদেরকে স্বর্গে পাঠানো হয়। সেখানকার নদীতে কোনো ঢেউ নেই, তাই তারা বাউলের জীবন বেছে নিয়েছিল। তাদের একতারা থেকে নেমে আসা ঢেউ খেয়ে ফুল ও পাখি কেমন দুলে উঠছিল। স্বর্গের এসব বর্ণনা শুনে তাদের সামনে আমার সেবিকারা স্বর্গের মালটা গাছের মতো হেসে ওঠে। আমিও হাসি। বুঝি, এও তো মানসিক সমস্যা। আমি তাদের জন্য পুনরায় প্রস্তুত করি, নিউরনের কার্যকারিতার চেয়েও দীর্ঘ এক মানসিক হাসপাতাল। তাদেরকে চিকিৎসা দেওয়া হয় প্রবলভাবে। বন্ধুরা সুস্থ হয়ে ওঠে।
কিন্তু আবারো অসুস্থ হয় অন্য-কোনোভাবে।

আমি সম্পর্ক বিশ্বাস করি। চিকিৎসাশ্রাস্ত্র যেখানে যেখানে বর্ণনা হতে পারে আমি সেখানে সেখানে গড়ে তুলেছি আলোকোজ্জ্বল আরোগ্যালয়।

যারা আমাকে পিতা ভাবো, যারা আমাকে পুত্র ভাবো, যারা আমাকে ভাই ভাবো, যারা আমাকে বন্ধু ভাবো…আমার সবরকম সম্পর্কের মানুষদের বলছি—তোমরা তো সকলেই জানো যে, রোগ-ব্যাধি লুকিয়ে রাখতে নেই। কোনো ভীতি ছাড়া, কোনো অবহেলার আশঙ্কা ছাড়াই, শরীর ভরা ব্যাধি নিয়ে, অসুস্থ পায়ে টলতে টলতে আমার দিকে চলে আসো। দ্যাখো, সারি সারি হাসপাতাল আমি নির্মাণ করে রেখেছি শুধুই সম্পর্কের তাগিদে।