হোম কবিতা কিশোর মাহমুদের কবিতা

কিশোর মাহমুদের কবিতা

কিশোর মাহমুদের কবিতা
778
0

শহর ঘোড়া দৃশ্যের চাবুক এবং একটি হারমনিকা


ও অসুস্থ ঘোড়ার শহর
তোমার কেশরে লুকানো অন্ধকার
—ইটের বাগান বিলি কেটে  মাংস চেপে ধরি

খুরে খুরে রাস্তা বাজাই আর গান গাই

অরক নগরে যার আস্কারা ডাকে
আহামরি বাহারি পিপাসায়
তারই পশমি রাত
আর রেশমে মোড়া একাদশী
চাঁদের পায়ে রেশমি সুতার দাগ, আহা রে

মেঘের শব্দে তার কবুলা চোখ নিভে গেছে

যখন চুলে প্যাঁচানো আকাশ
বস্তা ভরে যায় রাতশিশুদের
যদি আমিও পলিথিনে মোড়া

কাঁধ আরো নুয়ে পড়ে গানের ভারে

খুরে খুরে রাস্তা বাজাই আর গান গাই
দূরে চাকায় ঘুম চুরে

 


সং অব কাশ্মিপুর


তামার তুঁতে ভিজানো তুমার
তুরীয় চূড়ায় হিম হয়েছে
ও চাঁদ তোমায় দেখে থমকে গেছে
শববাহকের দল
এলাচ ফুলের গন্ধে মাতাল
বন্ধু আমার কাশ্মিপুরে
যদিও তার চক্ষু ধরে
গভীর হয়েছে জল

আর কত রাত সাঙ্গ হলে
আকাশ ঘেঁষে থামবে নুহের ডিঙা
আহা রে অনন্তকাল ঘুরছে তারার কল

তোর লবঙ্গবোঁটায়
আলোর তরঙ্গ তুলছে শিহরন
তুমার পরা মেরুন কুমার
ফিরছে একা এলাচবনে
নিঝুম হইছে পৃথিবী চাকা

ইগলের ডানায় ঢাকা দুধের বোঁটা
কাঁপছে ধীরে
গুটানো পাপড়ি কলির মুখে
ঘুমিয়ে পড়েছে জল
ও চাঁদ তোমায় দেখে থমকে গেছে
শববাহকের দল
তুমার পরা মেরুন কুমার
ফিরছে একা এলাচবন

 


কালো জাহাজের উপকথা: পর্ব এক


বসন্তে  মুখরিত প্রাচীন জনপদ, তার মুখশ্রী ছিঁড়ে আসা ক্রন্দন নিয়ে ঘুমিয়েছ, ঘুমে শুশ্রূষা নিয়ে জাগছে যার বাতাসে বোনা মুখ, তুমি কি তাকে অস্বীকার করো?

অস্বীকার করো, তোমার দু হাত ভরেছে তারাবাইন মাছে? পুরুষ-লাঞ্ছন তোমারই আত্মা চিরে আসা রিরংসা, সকল প্রেম ছিল হারানো জাহাজের
নক্ষত্র ফোটার আগে—খুলে তরঙ্গ শিকল, সুমহান মাতালের মতো আপন মুখশ্রী আমিও করেছি পান। কালো কালো নাচে জেগেছে কাঠের পাটাতন, জং-ধরা সে স্বর যারা ফিরিয়ে আনো এই শস্যতীরে
ফিরিয়ে আনো শ্যাওলায় ঢাকা ক্ষতচিহ্ন সব—ক্ষুধায় উৎপাদিত আরো অধিক মুনাফা আকাশে—শোনো, উল্লাস ছিল কালো জাহাজের, ক্ষুধা ছিল না, ক্ষুধার স্বপ্ন ছিল মনে
তবু আজও তোমার দেহের মতো অবিকল জাহাজেরা নোনা বন্দর ছেড়ে যায়

 


কালো জাহাজের উপকথা: পর্ব দুই


দেবায়ন ঘিরে যার নয়নের নকশা করা অন্ধকার, তার আত্মা খুঁড়ে যত কঙ্কাল ভেঙেছি, তাদের কোটরে ছিল শাদা বন্দর, বিউগল থেকে দূরে তোমার অন্দরে নোঙর করে যার বিস্মৃত হাসি, তার মুখের মতো নির্জন এই বনেদি কুটিরে যে লাফাঙ্গা আজও শিস ছুড়ে দেয়, তার আত্মার মতো বিষাক্ত হয়েছি তোমার ঘোলা চোখ দেখে

মেঘ মেঘলায় নিমজ্জিত কুটির, নেশায় চুর হয়ে কক্ষ কক্ষান্তরে খোদাই করেছি বেণি বাঁধা তা তা থৈ থৈ দিন, ব্যালকনিতে কুসুমিত জল, জলে ভাসমান বিউগল, আধডোবা দূর্বায় পিঁপড়ের চলাচল, তারও বেশি নৈঃশব্দ্যে শোধিত কাঞ্চা তনে হলদে শিহরন ছিল
কত তর্জনী উপেক্ষা করে ফুটেছে রক্তফুল, সুরভিত উরুর হিল্লোলে তুলকালাম জলাধার, তার বাষ্পায়িত বাসনায় মেঘ আরো সজল  হয়েছে

ছড়ানো শঙ্খের দ্বীপে ভুলে শিস হারানোর ব্যথা, তুমুল পদধ্বনির মতো বিষ্টিতে ভিজে আরো কত রূপকথা কল্পনা করা যায়, সে সব কথার মতো সজ্জিত বনেদি কুটির যার নয়নের নকশা করা অন্ধকারে নিমজ্জিত, আমি তারই অতলে তলাই
আজ কোথায় রে লাফাঙ্গা তুই, হারানো জাহাজে ভেঙে আলোর কঙ্কাল, কার শয়নভঙ্গির মতো শাদা বন্দর, তোকে ফিরিয়ে দেয় করুণ সাগরে, আয় শিস দেই

 


নীল বিদ্রোহে নেশাপুর


‘পঞ্চ তারার নকশা করা নায়ে
গো আমি যাইবো সুরের দেশে
চোখে সুরমা পড়া নূরানী মানুষ
নৃত্য করে ময়ূর বেশে’

ওহে চাঁদ, তোমারই নীলায়নে কত পুরুষ নুরানি হয়, খুঁজি তাদের মাঝে কোনো সুরমা টানা চোখ আছে কিনা, খুঁজি কালা চানরে,
হায় রে অশ্রুর বাঁধ ভেঙেছে কার আঁখিপল্লবে?

কয়লার ফুলে বাঁধা রাঙা দুটি পায়
নিঠুরিয়া রে হাঁটিস নে শিরায়
এই সুসজ্জিত অস্ত্রশালার কারুকাজ ভেঙে পড়ে

যারা তুর পাহাড়ে প্রাথর্নারত, পাথর ঘিরে নত সেজদায়, শান ঘরে কার রূপ ঝলকায় ওরে জুম্মন
প্রিয়ের মাংসের বাসনায় আপন মাংস কেটে থালা ভরেছ জুম্মন
আর তুর পাহাড়ে যত পাথরচাষি
কার মুখ খোদাই করে নিদারুণ পিপাসা জাগায় পাথরে

মরু-অবতার ক্ষুর নিয়ে ফেরে হাতে শূন্য থালা
জুম্মন আগুন জ্বালা তুর পাহাড়ে
সে প্রজ্জ্বলে যত পার্থিবতার রক্তমিছিল
শেষে এই নীল যুবক তার স্বর্ণাভ ক্ষত নিয়ে নোঙর করে যদি তোমার সুগভীর বন্দরে, চাঁদেরও সুদূরে আরো দূরের গ্রহ, তারও দূরের তোমার হৃদয়ে যদি প্রতিফলিত হয় তার কান্নার সুর! তুমি তারে দেহেরও অধিক প্রেম দিয়ো কোহিনূর

কিশোর মাহমুদ

জন্ম ৪ এপ্রিল, ১৯৯১; চাঁদপুর।

ই-মেইল : mizirajib009@gmail.com

Latest posts by কিশোর মাহমুদ (see all)