হোম কবিতা আহমাদ মুজাহিদের কবিতা

আহমাদ মুজাহিদের কবিতা

আহমাদ মুজাহিদের কবিতা
480
0
11225798_943590149019440_1458134295_n
অলংকরণ : সারাজাত সৌম

উপশম

ফিরে যেতে হবে পেছনের দিকে। শস্যপূর্ণ ভূমিতে এক নিরালম্ব পাহাড়,
বাতাসে বেঁকে যাওয়া ফলবান শিষ, দূর নভতলে পাঠায় সংকেত—
এই অপার্থিব চাঁদ, রৌপ্য নদী আমাদের ছিল, ছিল যমুনা ও তার অধিক
জলবতী ফলের বাগান।

এভাবে ক্ষত বয়ে যায় না কোনো জল, নিয়ত মানুষের মুখ ও আচ্ছন্ন বিকেলে
ফেলে রাখে যত উপশম, সবুজ শুশ্রূষা।

ফিরে গেলে প্রতিসম পাহাড়ে, রপ্ত হতে পারে জল
কিভাবে গড়িয়ে যায়; বিকেলের শেষভাগে—উদ্ধত চাঁদ ফেলে,
অবতল শরীরে আমার।


লাল অর্থ

লাল অর্থে দেখা গেলে ছায়াগুলো মূঢ়তা কাটায়; সুরের ঢেউয়ে
সম্ভাবনা ফুটে ওঠে জলে। ছায়ার আড়াল থেকে জাগ্রত নাচ—প্রসারিত
জ্বলে থাকা ময়ূর হয়েছে কত, মানুষের দিকে তার অবয়ব লেগে আছে

বৃক্ষ থেকে বৃক্ষে যারা তাকিয়ে দেখে, ভ্রমণ সমাপ্ত হলে এইটুকু
জানা যেতে পারে, তাদের সন্ধ্যাতারা কতটা সবুজ? তারা বিশ্বাস করে,
এখানে এসেছে আজ ময়ূর-পিতা—সকল অর্থ শিক্ষা হবে—

‘নিহিত হবে ঈশ্বর; পাথরে নিহত হরিণ—কাঁধে বয়ে, প্রশান্ত কুঁড়েঘরে
ফিরে এলে’
এবার অগ্ন্যুৎপাত হবে, তেজোময় রমণীরা পাতা খুলে ঘসে নেবে
লম্ব-লাল পুরুষের বুক; তবে কি রক্তনির্জন ফুল, তোমাকে দেখা হলো?

আত্মসমাধির ‘পর রক্ষিত শূন্য ফুটেছে বুঝি!

 

ছায়ারূপ পদ্মজলে ঘটেছে বজ্রপাত

শরীর নিষ্পন্ন ক্ষয় বিযুক্ত তৃণে ঝরে,
ছায়ারূপ পদ্মজলে ঘটেছে বজ্রপাত
যেভাবে সুরপতন শোধিত মুখ তুলে
শ্যামা মৃত্তিকায়, স্বর্ণলতিকার মতো সত্তায়
প্রসারিত–
তারা আজ সঞ্জাত ফুলে ফুল যোগ করে।

অয়ি ফুলতাপ, পুষ্পগন্ধী মেঘ,
তোমাকে আধার করে
শীতল কুণ্ডয়ন থেকে নিঃসৃত অগ্নি হয়েছি।

আরো এক নতুন সমাপ্তি এল বুঝি!
সমূহ আকার লীন হয়ে গেছে জলবিদ্ধ মাছে।
অযুত শব্দ মুখে তারা সমুদ্রমন্থিত
স্বর, আমার অপূর্ণ দেহে ছুঁড়ে যায়,
এ কী বিলোড়ন! কালো আত্মার ভেদ
ছড়িয়েছে আদিম নগ্ন জলে।

জোড়া চাঁদ ফেলে যাত্রারম্ভ এবার
শয়নে প্রবিষ্ট, জলমুখী আমি,
তোমাকেই করেছি ধ্যান।
শূন্য ভ্রমণের শেষে তুমিও জেনেছ
জন্ম এক অনিবার্যতা মৃত্যু হয়েছে স্থির,
অতঃপর লাল থেকে
ক্রমান্বয়ে মেঘাশ্রয়ী ওঙ্কারে সমাপ্ত হও।

 

ফুলের গভীর হতে সয়ম্ভু চোখ মেলে ৪

বাতাসের আঁচড় থেকে
খসে
গেলে
ফুল;
বৃন্তধারী মানুষের বুকে দাগ,
সে ফুল—সে সত্যাবহ প্রশান্তি যত
চেনা হতে থাকে—

আমি কি উড়ন্ত আগুন,
মিশে আছি মেঘে?
শরীরে শরীর ঘষে ঝরে পড়ি
আধোলাল মাঠে, ঘাসের ভেতর
আত্ম-আলোড়িত
গুঞ্জনধ্বনি
তুলে
আরো এক আড়াল
আরো এক নৈকট্য ভেদ করি।

 

ফুলের গভীর হতে সয়ম্ভু চোখ মেলে ৫

দুঃখিত তরুসকল,
তোমাদের
স্বপ্নগ্রস্ত
দেহের পাশে
অপেক্ষারত অশ্ব আমার;
এক ও অভিন্ন অপেক্ষা আমাদের,
কখন
সুর্য
পাপড়ি
ঝরে
যাবে
এই ছায়াসমৃদ্ধ মাঠে?
নদীকে কেন্দ্র করে যে সভ্যতা হাসে,
তাদেরও অংশ আমি।
আমরা প্রোথিত ছিলাম ঊর্ধ্বমুখী, আকাশের দিকে
মানব ধারণা সহকারে যে পথগুলো গেছে;
তার চারপাশে ঘন বসবাস ছিল আমাদের।