হোম কবিতা আসমা অধরার কবিতা

আসমা অধরার কবিতা

আসমা অধরার কবিতা
397
0

ঘুঙুর


ও তুলসী!
সারিয়ে দাও পৃথিবীর প্রাচীনতম অসুখ। স্থূল কায়া ধীরে কৃশ হয়ে যায়—বেদ থেকে ভেদ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমিক নগণ্যতায়।

হে দ্রব!
এই যে বিশুষ্ক শর্বরী, শরব্য আশ্রয়ে ঘনীভূত হ’য়ো আরো। সুচারু শঙ্খিনী হস্তে বর্ষাও প্রাঞ্জলের অম্লফোঁটা, কণ্ঠ থেকে কাঠিন্য অবধি তীব্র ব্যথা।

আহা শমন!
আনো সেই কাঙ্ক্ষিত বার্তা। শব্দশাস্ত্র নিশ্চুপ হেতু স্বরলিপির বন্ধ্যা আচরণ, রজস্বলা করো তারে। অ থেকে অন্তর-ব্যাপী তাপিত আত্মার শ্রান্তিরে।

রে কালান্তক,
এই যে কুবের প্রণোদনা—বিফল আহাজারি তবু নিষঙ্গ ছোটে না! মুক্ত করো নীলকণ্ঠী তমিস্রায় পতিত—সেই নিবেদনার্হ ন্যস্ত সত্তারে।

 


সম্পর্কিত অধ্যায় বিশেষ


নাল:
কবেকার হ্রেষা আজ টগবগ করে ছুঁয়ে যায়
নালের প্রতিধ্বনির তুলে, নির্জন উপকূল মুখরিত।

শঙ্খ:
উপকূল মুখরিত গর্জনেরা মন্থনে সন্নিবেশিত
যেথায়, কান পেতে শোনো কী বলে শঙ্খ নির্জন
রাতে।

মোম:
নির্জন রাতে কোথাও এক বিন্দু আলোর চিহ্ন
নেই, অমাবশ্যা ঘিরে ধরে নিভে যাওয়া মোম।

মৃত্যু:
নিভে যাওয়া মোম আর মৃত্যুর সাদৃশ্য খুঁজি, নিকষ
আঁধার আর সেই মাটির ঘর ওতপ্রোত জড়িত
বাহুল্যবর্জিত ধ্যানে।

 


কুহক প্রপাত ঘোর


স্বর্ণমৃগ, দেখেছ কি নিরালা জানলার পাশে রাঁধাচূড়োর যত রঙ ঝরে যায় পত্রবৎ, যেন সোনারোদেও মধ্যযাম! আলোয়ান জড়িয়ে ধেয়ে আসে কালকেতু, আসে ফসফরাসের রাত; যেনবা ঝনঝনিয়ে গড়িয়ে গেল কয়েনসমগ্রে জমে থাকা একরোখা ঐকতান।

কেবল যামিনী জানে বুঝি গোপন জটিল যতন, কিন্নরে বাজে রোদনের মতো কেটে যাওয়া সুর। তখনই রক্তিম আঁখি, রক্তাভ পোখরাজ পাখা মেলে উড়ে যায় মৌনবিতান। সেখানে লিখাছিল যত চিৎকার, মৌন গজল, সানাইয়ের সুর; মোৎজার্ট, বিথোফেন, সিম্ফোনি ও অন্ধ গায়কের গেয়ে উঠা আধখানা গান।

তবু লুণ্ঠন শেষে ঈশ্বরঘরে এসে নিশ্চিন্ত ঘুমোয় ‘কু’খ্যাত ডাকাত; শিথানপৈথানে জ্বলে থাকা চোরাচোখ, পিঙ্গলে মেখে আড়াআড়ি দুই হাত! ঘুমোয় ঘোর অঘোরমৃতের ন্যায়, তীব্র শ্লেষে হেসে ওঠে বন্দি, পাশ ফিরে শোয় অপঘাত; সেই দেশে কারা ও রক্ষকের পক্ষাঘাতেই পদপাত।

আহা মৃগ, ছুটছ মায়া হরিণীর পিছু? ওই দ্যাখো, দ্যাখো চেয়ে, ওই ভেঙে ভেঙে ঝরে পড়ে শিউলির ঘ্রাণ। কামিনীও মেলে ধরে মুদে আসা চোখ, কেতকীরে কয় কানে কানে, ক্যামোফ্ল্যাজে হারিয়ে গেল ইটিটকারীর জাতকূলমান।

 


কল্প-পোস্টার


লিখে রাখা সমস্ত পাণ্ডুলিপিরা আগুন লুকোয় শরীরে। যদিও আজ সকালের প্ররোচনা বলে আবহাওয়া স্কেল ভেঙে গেছে ঝড়ে।

তবু বিদগ্ধ অক্ষরের গা বেয়ে ঝরে শীতল জলকণা। ফোর বি পেন্সিলের নিবটুকু সামান্যতেই ক্ষয়ে গিয়ে রয়ে গেছে অর্ধ ইনভার্টেড কমা’র ভেতর মুক্তরামধনু।

যে কিশোরীর অর্ধমুখ তৈলচিত্র সমাপ্তির অপেক্ষায়; মাঝ রাত্তিরে তার ঠোঁট নড়ে ওঠে। আলো জ্বালতেই ইজেল ভেসে যায় লালের বন্যায়।

এমন ছবি কোথায় সাঁটা যায়, অহম!

 


জিরো পয়েন্ট


* তারা তো বিগত কবেই, সম্পন্ন বিগলন জলহুঙ্কার তেড়ে আসে তবু, দুলে দুলে ওইখানে মিহি সুরে পুঁথি পড়ে কে? হায় দুঃসময়, কেড়ে নিয়েছ নিজস্ব ছায়া এবং ছাদ, চুপিসারে দুদ্দাড় দৌড়ে যায় তস্কর, ঝিক করে জ্বলে তরবারি ক্ষণপ্রভা নাদীয় নহলি যদিও খোঁজে আড়াল, অট্টহাস্যে ফেটে পড়ে আততায়ী—তারে গুপ্তপথ দেখায় এই প্রবারণারই আধক্ষয়ে যাওয়া চাঁদ।

* অসহনীয়তার ছেষট্টি জ্বালামুখ গলে লাভা-বয়ে গিয়ে প্রাণবিন্দু নির্ভয় হয়ে ওঠা। জানো তো কবি! লিখতে না পারার কষ্ট নিজেকে ক্ষমা করে নি কখনো, নিথর হয়ে আসা হাত কখনো বয়ান করে নি হৃৎস্পন্দন কোনো কালে, অযাচিত সমর্পণমূল্যে জাগতিক বুভুক্ষা রঞ্জিত করে রাখে শ্বাস।

আসমা অধরা

জন্ম ১৪ মে, ঢাকা। শিক্ষা : স্নাতক। ম্যানেজিং এডিটর, ভিন্নচোখ।

প্রকাশিত বই :
একদিন ঠিক হেঁটে যাবো [কবিতা; প্রকাশ একাত্তর, ২০১৩]

ই-মেইল : odho14@gmail.com

Latest posts by আসমা অধরা (see all)