হোম কবিতা অহম ও অশ্রুমঞ্জরী

অহম ও অশ্রুমঞ্জরী

অহম ও অশ্রুমঞ্জরী
518
0

১২

না আহার না নিদ্রায়; ঝুড়ি হাতে, বক্ষোদুয়ার থেকে কেউ বাড়ি ফিরছে। যেন গমনোদ্যত তার জীবনপথে দরিদ্র পিতার প্রবঞ্চনা। একটানা ঝিঁঝিঁ ডাকছে। কোথায়, কোন মায়াময় বনপ্রান্ত, ভরে আছে শন শন শব্দে। এই মাঠের, এই শীর্ণ পথ ধরে যারা ফিরেছে সন্ধ্যার কিছু আগে। তাদের মাথার উপর ছায়াভরা অসীম আকাশ। একটা সুর, ঘনায়মান গম্ভীর নির্জনতার মধ্যেও অন্ধকারে জড়িয়ে রয়েছে।

 

১৩

কিছু পরে সূর্যদেব দেখা দেবেন। পিতার শিয়রের পাশে, খড় পেতে, হাঁটু গেঁড়ে এই দৃশ্য দেখা যায়। দেখা যায় ওই গঙ্গামাতা ফিরিয়ে নিচ্ছেন অমৃতের দীক্ষামন্ত্র। সন্ধ্যা ঠিক হয় নি, তবু কোন চিরদুঃখিনীর অমৃতময়ী জীবনধারা, বাতির ক্ষীণালোক লক্ষ করে বয়ে চলেছে। অনন্তের পার থেকে ভেসে আসছে একটি শান্ত পাখির ডাক।

 

১৪

অর্ধ-উন্মীলিত এই প্রাণাধার; পুত্রশোক থেকে সূর্যের দিকে মুখ ফিরিয়ে আছে। পথে অন্নাভাব। একটা ছেঁড়া পাতা নির্জন বনে আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে। শ্লোক পাঠের থেকেও শান্ত এই মৃত্তিকা। জ্বরে কাতর। আমরা দেখতে পাচ্ছি, সামনে মহাবাক্য; ওই শব্দরাশি, বিদ্যা হারিয়ে, বুদ্ধি হারিয়ে, এক হীন আত্মাকে নিজেরই দেহ মধ্যে বহন করে চলেছি যেন।

 

১৫

পিছনে অস্ত-আকাশের দিগন্তরেখা। পাতা ঝরবার বেলা। নিভৃতে, সন্ধ্যা তার সন্ধানে ফেরে। পিছনে, অতি ধীরে কেউ জয়ধ্বনি করে উঠল। ক্রোধের আকার থেকে আরো দূরে; ওই অনন্ত আকাশের পানে, অনাহত সেই ধ্বনি, গঙ্গাবক্ষ হতে যেন একবার মাথা তুলে চাইল।

 

১৬

কেননা মন অন্নময়, বাতাসে ঘুরে ঘুরে শরশব্দ অন্বেষণ করে। একটি পাতার আরো তলে অন্য পাতার দেহ। তার অঙ্গকান্তি বাতাসে কথিত হয়। বালুর শয্যাপ্রান্তে ডুবে যাওয়া কারো মাথা, টের পাই, ওই শরীর উন্নত ও স্থির। এক প্রেমময়ীর নিরীহ কণ্ঠস্বর, নিভৃতে, তীর্থাভিমুখে এগিয়ে চলেছে।

অনুপম মণ্ডল

অনুপম মণ্ডল

জন্ম ৮ ডিসেম্বর ১৯৮৮; কৃষ্ণনগর, খুলনা। সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। পেশায় শিক্ষক।

প্রকাশিত বই :
ডাকিনীলোক [কবিতা, চৈতন্য, ২০১৬]

ই-মেইল : anupamsoc@gmail.com
অনুপম মণ্ডল