হোম কবিতা অবশেষে ডানা নিয়ে উড়ে গেল পাখি

অবশেষে ডানা নিয়ে উড়ে গেল পাখি

অবশেষে ডানা নিয়ে উড়ে গেল পাখি
129
0

প্রোমোশন

.
নির্জন, তোমার পাশে
        বেজে ওঠে নিশুতির ডাক

ছলাকলা বশে তাকে অনায়াসে আপাদমস্তক
এঁকে দাও লালা থুতু কফ গন্ধ বিপদসীমায়—

ছলনা বোঝে নি পাখি
উচ্চতাকে ছুঁড়ে দেয়
    ডানার সংবাদ


বোধি

.
সমস্ত শূন্যের পাশে হেঁটে যাও
                      কথার আঁচড়

বুভুক্ষু প্রয়াস ভাবে
             এই লেনদেন; পথ ফেরা
সার্থক গল্পের প্লটে
        কখনওবা মিলে যাবে মেঘ

চুরাশি অব্যয়ে ভাসে ঘরদোর
     চৌকাঠের  ঝড়

নিমবনে জেগে থাকা
              নিপুণ সে ব্যাধ

হত্যা চিহ্ন মুছে দিয়ে খুঁজে ফেরে প্রকৃত মীমাংসা


সভ্যতা

.
চোখাচোখি মুছে দাও জন্ম শালঢেউ অনায়াস হাঁটা
বিস্তৃত শহর ভেঙে আলো-আঁধারির বুনো মাঠে

সামান্য সংসার পুষে পুষে তুমিও নিপুণ
একহাতে মাদুলির ছায়া
       অন্যদিকে আশ্চর্য জ্বলন

সমস্ত শরীর ভেঙে হেঁটে আসে
         ফুটিফাটা মাঠ
তুমিও কৌশল বশে তর্জনীর লোভে; এ আসন পিঁড়ি পেতে রেখে বলো
সংসার এখান থেকে শুরু হয় রোজ


বুনোগন্ধ

.
অবশেষে ডানা নিয়ে উড়ে গেল পাখি

অথচ ভাতের গন্ধে পোষামানা তুমিও শিখেছ

সামান্য ঘরের দোরে লাল শালু ঝোলে
সন্ধের সংসারে আসে ধূপ-ধুনো; শাঁখের আওয়াজ
পাঁচালি বাজাও রোজ সঠিক সময় মতো

ফেরার পথের বাঁকে বাসি এঁটো কাঁটা দু’চারটে ভুল

আজন্ম অরণ্য লোভ রবারের সুতো ভেঙে
তুমি  উড়ে গেল সেই


ভারসাম্য

.
ঘাসের আঙুলে ফুটে
        বিকেলের পোষা দাগ
শিরার মন্থন ভাঙে। সিঁদুরে মেঘের সাথে ঘরে ফেরো রোজ
সামান্য ধুলোর পাপে ধমকের পোড়া অন্নটুকু
বায়সের মুখে দাও ধারণক্ষমতা ধারণায়

জলের ভেতর সেই ডুবে থাকা শেষ অঙ্গীকার
পরিচয় নেই ভেবে চুপ করে দেখে—

বহুদূর থেকে শোনা মিঠা হ্রদ জল
তার কূলে একা পাখি বসবাস করে। ঘর বাঁধে।


যোগাযোগ

.
সামান্য সংসার লোভে সেও রোজ কুটো মুখে করে
ডানা ছাড়ে; ঠোঁট পাতে পুরোনো বৃক্ষের ডালে

তুমিও অভ্যেস মতো ভুলে গেছ গতানুগতিক থাকা ততদিনে
কত অপমান ভেঙে মানুষ জীবাশ্ম হয়ে ওঠে!

পাখিটিও আড়চোখে তোমাকেই দেখে

গরম চায়ের কাপ চোখ রাখে পাখিটির ঝড়ের পালকে


ফেরা

.
তুমিও বাজানো ছলে
পেতে দাও ভাঙা সরগম

বেজে ওঠে বাঁকা আলপথ ধানের শরীর
বিছানা ভিজিয়ে দেয় পোষা অভিমান

ক্রমশই ঘন হয় যাতায়াতটুকু


গ্রীষ্ম

.
সমস্ত শেকড় বোঝে জটিলতা কীভাবে কোথায়—
বালির ব্রিজের নীচে বর্ষার আঁচল পোষা থাকে
আকাঙ্ক্ষার বুকে নদী একা একা পথ ভেঙে যায়
শুধু পড়ে থাকে মন চাঁদ ওঠে শ্রাবণ আকাশে

ফসলের সম্ভাবনা যাবতীয় মেঘে ভেঙে রোজ
ব্যাঙের বিয়ের মতো বলে যায়—নাও বালিঘড়ি
তবু ভয় নীলে নীলে ঝুলে থাকে পোষা পাতিহাঁস
এ শহরে পাশপাশি ইশারাও উড়ে  প্রতিদিন

ছায়া তো গভীর হয় ছায়া ভাঙে শরীর প্রত্যহ
সাঁতারের পোড়া জল মেনে নেয় আজন্মের দ্রোহ

বেবী সাউ

জন্ম ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ; ১৯৮৯। পদার্থবিদ্যায় মাস্টার্স এবং গবেষণারত। পেশা : শিক্ষকতা।

প্রকাশিত বই :
বনঘাঘরা [কবিতা; প্রতিবিম্ব, ২০১৫]
ইউথেনেশিয়া [কবিতা; বইতরণি, ২০১৭]
গান লেখে লালনদুহিতা [কবিতা; আবহমান, ২০১৮]

ই-মেইল : babysudipa@gmail.com

Latest posts by বেবী সাউ (see all)