হোম অনুষ্ঠান ব্রাত্য আমি মন্ত্রহীন

ব্রাত্য আমি মন্ত্রহীন

ব্রাত্য আমি মন্ত্রহীন
114
0

সাধনা আহমেদ একজন সংস্কৃতিকর্মী, নাট্যকার, কবি এবং অভিনয়শিল্পী। প্রথম জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি-কেন্দ্রিক ‘স্রোত আবৃত্তি পরিষদ’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিয়মিত আবৃত্তিচর্চা শুরু করেন। এই আবৃত্তির মাধ্যমেই তিনি অংশ নেন আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে। এরপর নিজ শহর ভৈরবে প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্পর্শ আবৃত্তি পরিষদ’। এরপর তিনি ‘থিয়েটার আরামবাগ’-এ যুক্ত হয়ে নিয়মিত মঞ্চে অভিনয় শুরু করেন। পাশাপাশি টিভিনাটক রচনা ও বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণের কাজে সম্পৃক্ত হন। নাট্যনির্দেশনায়ও এগিয়ে আসেন। হাল ধরেন ‌’ঢাকা নাট্যনিকেতন’ নামের একটি দলের।

FB_IMG_1515497194463
সাধনা আহমেদ

তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে লিখেছেন দুটি পথনাটক—প্রজন্ম ১৩বীরাঙ্গনার আঁচল। মঞ্চের জন্য লিখেছেন দমের মাদার, মাত্‌ব্রিং, ফাগুনশেষে, ব্রাত্য আমি মন্ত্রহীন, বঙ্গলক্ষ্মী, বিপুল তরঙ্গ। ভারতের নাট্যদল ‌’‌রঙ্গকর্মী’র জন্য লিখেছেন সপ্তপর্ণী

বর্তমানে তিনি ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ-এর সঙ্গে যুক্ত।


নাটক সম্পর্কে

নাটক সম্পর্কে তেমন কিছু বলেন নি নাট্যকার সাধনা আহমেদ। পরস্পরকে তিনি জানিয়েছেন, ‘শিলাইদহের সর্বক্ষেপি বোষ্টমির সাথে রবীন্দ্রনাথের একটি আন্তরিক সম্পর্ক হয়েছিল। বোষ্টমির কথা ‘তিনি অ্যান ইন্ডিয়ান ফোক রিলিজিয়ন’ প্রবন্ধে বলেছেন। এই সম্পর্কটিকে নাট্যদৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা হয়েছে।’ নাটকের কথামুখ থেকে কিছু অংশ উদ্ধৃত হলো :

কথামুখ

পদ্মার অববাহিকায় বাস করা বাউলদলের মধ্যে এক বোষ্টমি ও আরেক খ্যাপা আছেন। বোষ্টমির বিচরণ ভাবের জগতে—মনের মানুষের সন্ধানে—আর খ্যাপার বিচরণ যুক্তির জগতে—জীবনের সন্ধানে। বোষ্টমির প্রেমরূপ—সেখানের এক জমিদার। তাকে সে গৌরসুন্দর বলে সম্বোধন করে। কিন্তু বাউল হয়েও বোষ্টমি এক ঘরের মানুষের প্রেমে পড়েছে বা জমিদার বলেই প্রেমে পড়েছে। এ নিয়ে খ্যাপা বোষ্টমিকে সারাক্ষণ পরিহাস করে। অন্যদিকে এক দুরন্ত কিশোরী আনন্দি। মা-হারা আনন্দি সারাবেলা মাঠেঘাটে ছুটে বেড়াতে বেড়াতেই বিয়ের সুতো তাকে ঘরে বেধে ফেলে। কিন্তু তার দুরন্তপনা কাটে না কিছুতেই। সংসার তার কাছে কী মেলে ধরে? এক সংসারী নারী তার পুরুষকে কিরূপে চায়? শুধুই সঙ্গম বা সন্তান জন্মের সঙ্গী হিসেবে? নাকি অন্য কোনো রূপেও সে আকাঙ্ক্ষা করে। কে এই আনন্দি? কে এই খ্যাপা? কে এই জমিদার? কে এই বোষ্টমি? এদের নিয়েই নাটকের কাহিনী। মনের মানুষ আর জীবনদেবতার ধারণা কি স্বতন্ত্র ? যদি তা না হয় তবে কোথায় এর ঐক্য? ধর্ম কি শুধু প্রাতিষ্ঠানিকতা? প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম মানুষকে কতটা মানবিক করতে পারে? সংসার কি শুধু সামাজিক চুক্তি? নাকি প্রেমেরও স্থান আছে সেখানে। এসব প্রশ্নের উত্তর অন্বেষণেরই আরেক নাম ‘ব্রাত্য আমি মন্ত্রহীন’।


উল্লেখ্য যে, নাটকটিতে নাট্যকার স্বয়ং অভিনয় করছেন। নির্দেশনা দিয়েছেন ইউসুফ হাসান অর্ক। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান। প্রযোজনায় বিবর্তন যশোর (ঢাকা ইউনিট)।

বিবর্তন যশোর প্রযোজিত সাধনার একটি নাটক ‘মাত্‌ব্রিং’ এই বছর ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা (এনএসডি)-র অস্টম থিয়েটার অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেছে। এই নাটকের দুটি প্রদর্শনী হয়েছে ভারতের রাজধানী শহর দিল্লি এবং উড়িষ্যার ভুবনেশ্বরে।

আগামীকাল ১৪ মে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হবে ‌’ব্রাত্য আমি মন্ত্রহীন’ নাটকের সপ্তম প্রদর্শনী।