হোম অনুবাদ সার্বিয়ান চলচ্চিত্র ও সংগীত পরিচালক এমির কুস্তুরিসা’র সাক্ষাৎকার

সার্বিয়ান চলচ্চিত্র ও সংগীত পরিচালক এমির কুস্তুরিসা’র সাক্ষাৎকার

সার্বিয়ান চলচ্চিত্র ও সংগীত পরিচালক এমির কুস্তুরিসা’র সাক্ষাৎকার
830
0

এমির কুস্তুরিসা (জন্ম ২৪ নভেম্বর ১৯৫৪) সার্বিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা, সংগীত পরিচালক ও অভিনেতা। যিনি অান্তর্জাতিকভাবে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিচিত এবং স্বীকৃত। কান চলচ্চিত্র উৎসবে তার দুটি সিনেমা ‘হোয়েন ফাদার্স ওয়াজ এওয়ে ওন বিজনেস’ এবং ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ পাম দ’ পেয়েছিল এবং ‘টাইম অব দ্য জিপসি’ সিনেমাটি বেস্ট ডিরেক্টর খেতাব পায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধভিত্তিক বসনিয়ার গৃহযুদ্ধ ইতিহাসকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ মুভিটা রাজনৈতিক সিনেমা হিশেবে বেশ আলোচিত এবং সমালোচিত হয়। তিনিই প্রথম গড়ে তোলেন দেভেনগ্রাদ গ্রামটি (সার্বিয়ার দক্ষিণাংশে), যেটি তার ‘লাইফ ইজ এ মিরাকেল’ সিনেমায় দেখা যায়—গ্রামটিকে তার নামানুসারে ‘কুস্তেনদর্ফ’ নামে ডাকা হয়। তিনি ইউরোপিয়ান এবং সার্বিয়ান সংগীতাঙ্গনেও বেশ সমাদৃত এবং আলোচিত। ইমির কুস্তুরিকার প্রতিটি চলচ্চিত্রে মিউজিক সংযোজন ও পরিচালনা নিজেই করেছেন। 

 

আনা অটাসেভিচ সাক্ষাৎকারটি  নিয়েছেন ৫০তম গিহনস ফিল্ম ফেস্টিবেলে।
ভাষান্তর করেছেন দেবাশীষ ধর


সা ক্ষা ৎ কা র
❑❑


আনা অটাসেভিচ

এমির, গতকাল মঞ্চের উপর আপনাকে একজন সিনেমা পরিচালক হিশেবে নয় বরং একজন মিউজিশিয়ান হিশেবে দেখলাম। যেটা আপনি মঞ্চের উপর পরিচালনা করছিলেন বলে মনে হচ্ছিল।

এমির কুস্তুরিসা

আসলে অভিনয়টা অনেক ছোট ছোট মুভির সমন্বয়ে তৈরি হয়। আমার এটা প্রতীত হয় যে, সংগীত এবং সিনেমা একই ধাঁচেরআমরা দুটোকে ভিন্ন প্যাটার্নে উপস্থাপন করি। এবং সংগীতপূর্ণ সমন্বয় সৃষ্টি করে একটি ডাইনোশিয়াল আবহ যার মাধ্যমে মানুষ বিশোধন হয়, যা এখনো একটা যোগাযোগের পথ তৈরি করে দর্শকদের সাথে সেইসব প্রাচীন উপাদানগুলোর।

আনা অটাসেভিচ

এবং দর্শকদের সাথে এই সংযোগটা সবসময় পরম আনন্দদায়ক হয় যেটা কি টিয়েট্রো জোভেলানোসে হয়েছিল?

এমির কুস্তুরিসা

সব জায়গায় এটি ঘটে আমাদের অভিনয়ে, যেটা ব্যাখ্যা করা কষ্টকর! এই সংগীত জনমানুষকে সুস্থ করে, তাদের প্রতিদিনের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করে। এটা তাদেরকে আরো শক্তিশালী করে, তারা অনেক হাসে, যেটা তাদের জীবনকে সহজতর করে। ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ ছবিটা চিত্রগ্রহণের পরে আমার উপলব্ধি হলো যে, সেটা অনেক সিরিয়াস এবং খুব নিরাশ ছিল আমার কাছে। যখন আমি এটি শেষ করলাম তখন নিজেকে প্রশ্ন করলাম, এখন শিল্পের উদ্দেশ্যটা কী? এবং আমি বিশ্বাস করি যে, এটা একটা মিলিত থেরাপি এবং তথাপি সংগীত সিনেমার চেয়ে উত্তমরূপে আয়ত্ত করতে থাকে।


সারা বিশ্বের বৃহত্তর অর্থনীতির জন্য যুদ্ধ হচ্ছে অন্যতম প্রধান জ্বালানি।


আনা অটাসেভিচ

আপনার সংগীত এবং সিনেমাগুলোতে ক্ষমতার বৈচিত্র্যতা প্রতিফলিত হয় যাতে আপনার জীবনের সর্বাংশে গভীরভাবে নিবষ্ট এবং এতে পূর্ব ও পশ্চিমা ইউরোপিয়ান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মিশে যায়।

এমির কুস্তুরিসা

এই মিশ্রণটা বালকান্সে তুলনাহীন। পৃথিবীতে এমন কোনো অধিক স্থান নেই যেখানে পূর্ব এবং পশ্চিম ইউরোপ থেকে আসা সংস্কৃতির প্রভাবিত মানুষ বসবাস করে যা সার্বিয়া বা বসনিয়ায় করে। আমাদের আছে বিশুদ্ধ ঐতিহ্য, যা শতবর্ষ ধরে উন্নত, কিন্তু এটা অসম্ভব আমাদের সংস্কৃতি সঠিকভাবে বর্ণনা করা। এসব সংযোগই আমার ফিল্মগুলোতে ক্ষমতা প্রদান করে এবং আরো অধিক উজ্জ্বল করে তোলে। আমাদের অনুসন্ধান ক্ষেত্র সবসময় উন্মুক্ত, যা বিভিন্ন সম্ভাবনাময় পথকে দেখিয়ে দেয় এবং শিল্পকে আরো শক্তিশালী করে। এটা শেক্সপিয়রের মার্স ব্রাদারস-এর মতো।

আনা অটাসেভিচ

আপনি বালকান্সে আপনার নিজস্ব মিথলজি সৃষ্টি করলেন এর জিপসিরা, এর সংগীত, এর বিবাহ অনুষ্ঠান, শেষকৃত্য এসবে জীবন চরিত্রগুলোর চেয়ে বৃহত্তর করে।

এমির কুস্তুরিসা

এগুলোই জীবনের উপাদানসমূহ। সবকিছুই, আমি যা করি, আমাদের বস্তুগত অস্তিত্ব থেকে আসা ধারণাগুলো নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে যাওয়া শুরু করে। ইদানীং আমি পড়ছিলাম দ্য ব্রিজ ওভার দ্য দ্রিনা রিভার বইটি, সম্ভবত এটি আইভো এনড্রিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বই। আপনি বইটিকে বিশ্লেষণ করলে খুঁজে পাবেন এনড্রিক জীবনের উপাদানসমূহকে গভীরভাবে প্রয়োগ করেছেন। তিনি বই এ যেটা বলছিলেন হোটেলটির কথা সেটা বাস্তবেই অস্তিত্ব এবং চরিত্রগুলোর বেশিরভাগই ছিল বাস্তব জীবনে তাদের প্রতিলিপি। আমি বিশ্বাস করি যে, কোনো সৃষ্টিকার্য কিছু ভাবমূর্তি বা আলোকচিত্র থেকে সমৃদ্ধি হয়ে থাকে এবং এক্ষেত্রে জীবন হচ্ছে সবচেয়ে সেরা আলোকচিত্র সিনেমার জন্য, সাহিত্যের জন্য, শিল্পের জন্য…..

আনা অটাসেভিচ

আপনার অনুপ্রেরণার প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে যুগোস্লাভিয়ার যুদ্ধটা অন্যতম যা গভীরভাবে ছাপ ফেলে আপনার পরিবারে এবং আপনাকে…….

এমির কুস্তুরিসা

যুদ্ধটা আমাদের এখানে বার বার ঘটে যেটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক বিষয়। এনড্রিক বলেন, এইসব যুদ্ধ সমস্যাগুলোর তেমন সমাধান করে নি, যেগুলো হচ্ছে তাদের প্রথম দিকের মৌলিক সমস্যা বরং তারা এসবে নতুন অধ্যায় খুলে এবং নতুন প্রশ্নসমূহের জিজ্ঞাসা করে যে যেসবের উত্তর আমাদের মধ্যে একটা নতুন দ্বন্দ্ব তৈরি করে। বালকান্স হচ্ছে পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে বিরোধের উপকেন্দ্র।

আনা অটাসেভিচ

যুদ্ধের উত্তর পাওয়া যায় আপনার ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ সিনেমায় যা ছিল বিশেষভাবে প্রশংসিত। কেন এবং দর্শকের প্রতিক্রিয়া কী ছিল বলে আপনি মনে করেন?

এমির কুস্তুরিসা

সিনেমায় আন্ডারগ্রাউন্ডে যারা বাস করে তাদের বিশ্বাস তারা বাহিরের পৃথিবীতে বসবাস করে। যুদ্ধ যে শেষ এবং তারা যে প্রবল প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রতিনিয়ত বশবর্তী হয়ে আছে এসব তথ্যসমূহ তাদের জানা নেই। আপনার এখনকার পরিস্থিতিটা ঠিক একই ঘটছে। পুরো বিশ্ব এখন যুদ্ধ অর্থনীতির অধীন এবং এই ধরনের অর্থনীতি ব্যবস্থা অবিরত যুদ্ধগুলো সৃষ্টি করছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো, যারা সবসময় মানবতার কথা বলছেন এরাই এই যুদ্ধের সব উৎসগুলো থেকেই অর্থ যোগায়। একই দলগুলো, একই ক্ষমতারা একাধারে উৎপাদিত হয়। আমাদের কতটুকু মানবিক হওয়া প্রয়োজন যারা এসব বলেন ওরাই এইসব যুদ্ধ শুরু করে চলেছে। সারা বিশ্বের বৃহত্তর অর্থনীতির জন্য যুদ্ধ হচ্ছে অন্যতম প্রধান জ্বালানি।

আনা অটাসেভিচ

যুদ্ধের সময় সারাজেভোতে আপনাদের ঘর ধ্বংস হয়ে যায়, তবে দ্রেভেনগ্রাদে আপনার পারিবারিক নতুন নির্মিত ঘর আছে। সবকিছু কি সিনেমায় কাজে লাগনো থেকে শুরু হয়েছিল?

এমির কুস্তুরিসা

এটা একটা সুন্দর সীমা যেটা একটি মুভি সেটকে আলাদা করে আপনার বসবাসের স্থান থেকে। কখনো কখনো একটি মুভি সেটে এটা অনেক বেশি ভালো এবং অধিক জীবন্ত দেখায়। যখন আমি ‘লাইফ ইজ এ মিরাকেল’ শুট করছিলাম আমি কাঠের ব্যবহারের ধারণা পেলাম, যা ইতোমধ্যে সেখানে গ্রামটিকে পুনর্গঠন করেছিল।

আনা অটাসেভিচ

আরেকটা ছোট শহর, এনদ্রিকগ্রাদ, নির্মিত হয়েছিল আপনার দূরদর্শিতার উপর ভিত্তি করে। এই তৈরি করার প্রেরণা আপনার কোথা হতে আসে?

এমির কুস্তুরিসা

দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যায়। যদি আপনি ফ্রান্সের দক্ষিণে যান ত্রয়োদশ শতাব্দীর শহর খুঁজে পাবেন সেখানে। সার্বিয়ায় আপনার খুব বেশি না হলেও কয়েকটি ধ্বংসাবশেষ আছে, মধ্যযুগে যদিও আমাদের একটি সভ্যতা ছিল। এনদ্রিকগ্রাদকে প্রাচীন সময়ের সাথে সংযুক্ত করে তৈরি করতে চেয়েছিলাম। চেয়েছিলাম একটি শহর পুনর্গঠন করতে, যাকে মনে হবে আবহমান কালের।


আমি জাস্ট সিনেমার দক্ষতায় বিশ্বাস করি।


আনা অটাসেভিচ

আপনি প্রায়ই বলেন যে, ফেলিনি আপনার সিনেমাটোগ্রাফিকের জনক…

এমির কুস্তুরিসা

হ্যাঁ তিনি প্রধান প্রভাব, তবে আমি এখনো অনুসরণ করি তারকাভস্কির মূর্তিশিল্প, এছাড়া শুরুর সোভিয়েত সিনেমার ডোভজেঙ্কো, আইজানেস্টাইন এরা সহ অন্যান্যদের দ্বারাও প্রভাবিত হয়েছি। উনাদের কাছ থেকেই সিনেমার নির্মাণ কৌশল সম্পর্কে ধারণা এবং সিনেমার প্রকৃত ভাষাটা শিখলাম। আপনাকে দর্শকদের সাথে উদ্দেশ্য জ্ঞাপন করে আপনার নিজস্ব সিনেমার ভাষাটা খুঁজে নিতে হবে। একজন তরুণ নির্মাতা হিশেবে আমি ফেলিনির চিন্তাশৈলী এবং রাশিয়ার ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা থেকে উপলব্ধি করলাম।

আনা অটাসেভিচ

এবং এখনো কি আমারকর্ড তিনবার দেখে আপনার ঘুমের ভাব হয়!

এমির কুস্তুরিসা

আমি অনেককাল ধরে ঘুমিয়ে ছিলাম। আমি ফিল্ম ডিরেক্টর হওয়ার অনুসরণের পথে কখনো ছিলাম না। এ সবকিছুই এখন আমি যা করছি তা কখনো আমার পরিবারিক প্রথার ভেতরে ছিল না। আমি নিজেই এটি উদ্‌ঘাটিত করলাম। প্রাগে যখন পড়তে গেলাম আমি যে সেখানে মেধাবী ছাত্র ছিলাম তা নয়, তবে আমি ওদের মধ্যে কখনো ছিলাম না, যারা অনেক সিনেমা দেখে সময় কাটাত, সিনেমা বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এরকম। আমি খুবই সতেজ এবং জীবনকে উপভোগ করে যাপন করতাম। অক্টোবরে ১ তারিখে যেটা আমার দ্বিতীয় বই প্রকাশিত হয়েছিল যেখানে আমার জীবনের শুরুর দিকের সময়গুলো নিয়ে লিখা আছে এবং সে-সময়ে রাস্তায় রাস্তায় কাটানো যেগুলো আমার জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছিল। আমার তখনো পর্যন্ত মুভি বানানোর কোনো স্বপ্ন ছিল না।

আনা অটাসেভিচ

আপনার সময় থেকে সিনেমার ধরন বিভিন্নতার দিকে যেতে শুরু করল। এখন ফেলিনি, বুনিয়েল আর বার্তোলুসিদের মতো এরকম বড় নির্মাতা তো নেই যাদের অনুসরণ করা যায়?

এমির কুস্তুরিসা

বাস্তবে বলতে গেলে সিনেমা এখন প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। কান ফেস্টিবেলের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। আপনার একটা জায়গা থাকে যেখানে আপনি আপনার ইচ্ছেগুলোকে সৃষ্টি করতে পারবেন এবং তা আরো পুনর্গঠন করবেন। কান ফিল্ম ফেস্টিবেল একটা বড় প্রতিষ্ঠান যেখানে অনেকগুলো মুভিকে একসাথে নিয়ে আনে যাতে একটা উপলব্ধি তৈরি করে, এখানে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে সিনেমার মার্কেটিং এবং এক্ষেত্রে দক্ষতার চেয়ে এর পরিমাণটা বেশি কাজ করে।

এখানে এটাও একটা ক্রমবিকাশ সিনেমা বানানোর এগিয়ে যাওয়ার। আপনি এখন সেকেলে ঢঙের মতো করে সিনেমা বানাতে পারেন না কোনোভাবেই এবং এটা অবশ্য ঢঙ বা ট্রেন্ডের ব্যাপার নয়, তবে এর অগ্রগতির প্রশ্ন। এখন তো আপনার কাছে সিনেমা বানানোটা অনেক সহজ, কিন্তু মূলধারার মানবিক দিকগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে অনেকটা। সময়ে সময়ে ভালো মুভি তৈরি হচ্ছে এবং ফেস্টিবেলে প্রদর্শিত হচ্ছে তবে সেগুলোতে সিনেমা পাওয়া যাচ্ছে না। সিনেমার পরিবর্তন হলেও ৯০% এসব ফিল্ম সফল তবে অর্থহীন। এসব অর্থহীন ব্লকবাস্টার নায়কদের কখনোই তেমন অস্তিত্ব নেই। এবং যাই হোক সিনেমার একটা ভাবাদর্শগত উদ্দেশ্য আছে, যার আড়ালে থাকে গুরুতর মানবীয় বিষয়গুলো, অস্তিত্ববাদ, রাজনৈতিক এবং ঐতিহাসিক প্রশ্নগুলো।

এমনকি আপনি যখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করবেন, যেটা কানাডিয়ান সাংবাদিক এবং লেখক নাওমি ক্লেইন তার নো লোগো বইতে লিখেছেন, তারা আপনাকে বেশ অপছন্দ করেন, কারণ সবকিছুই একটা উদ্দেশ্যের জন্য করা হয় এবং এই উদ্দেশ্যটা হচ্ছে শোষণ। এবং ওরা সবাইকে, সবকিছুকে, সবসময় শোষণ করেন যা যত বেশি করা যেতে পারে। এই কারণে এই গ্লোবালিস্ট পদ্ধতি অধিক হতে অধিকতর শোকর আলহামদুলিল্লাহ।

আনা অটাসেভিচ

কুস্তেনদর্ফে হলিউড ইন্ড্রাস্ট্রির প্রতি আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

এমির কুস্তুরিসা

আমার কারো প্রতি বা কোনোকিছুর প্রতিক্রিয়া নেই, আমি জাস্ট সিনেমার দক্ষতায় বিশ্বাস করি। আমি চাই তরুণেরা একটা ভালো আবহাওয়া উপভোগ করুক, শিখতে সক্ষম হয়, দেখানো হয় যাতে ভবিষ্যতের ফিল্মগুলোর জন্য তারা তাদের আইডিয়াগুলো খুঁজে নিতে পারেন। যখন একজন তরুণ নির্মাতা কান উৎসবে আসেন, তখন এই বিশাল কলকব্জায় তিনি একাকী হয়ে পড়েন। সেখানে অন্যদের সাথে কথা বলা, সাক্ষাৎ করা বা বিনিময় করার সময় এবং পরিস্থিতি থাকে না।


আমি পরিবারকে একটি কাল্পনিক জায়গা হিশেবে দেখি।


আনা অটাসেভিচ

আপনার ফেস্টিবেল ধারণায় মূল ভূমিকা রাখে আপনার পরিবার…

এমির কুস্তুরিসা

আমি পরিবারকে একটি কাল্পনিক জায়গা হিশেবে দেখি। তা সত্ত্বেও এটাই সত্য যে ক্যাপিটালিজম এবং পোস্ট-ক্যাপিটালিজম সবকিছুকেই পরিবর্তন করাচ্ছে এবং এক্ষেত্রে পরিবারের মধ্যেও এইসবের পরিবর্তন ঘটছে যা আমি এখনো বিশ্বাস করি।

আনা অটাসেভিচ

আচ্ছা সার্বিয়ান পাহাড় থেকে এবার আমরা ফিরে আসি গিহন’স আটলান্টিক বীচে, যেখানে এবছর ৫০ তম ‘আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’ হয়। এই ফেস্টিবেল নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?

এমির কুস্তুরিসা

যখন গতদিন অবতরণ করছিলাম তখন আমার অনুভূতি হচ্ছিল যেন আমরা পৃথিবীর শেষে চলে আসছিলাম। আমি স্পেনে ছিলাম প্রায়ই এবং আমি ভালোবাসি স্পেনকে। স্পেন ফুটবল খেললে মনে হয় যে আমি স্প্যানিশ, বিশেষভাবে তারা যখন ডাচদের বিপরীতে খেলে এবং জার্মানদের হারালে। এই খেলার মধ্য দিয়ে আপনি অনেকগুলো জাতীয় চরিত্রের প্রজেক্ট বানাতে পারবেন। আমি নিজেকে স্প্যানিশ ফুটবল এবং স্প্যানিশ সিনেমার নিকটস্থ বিবেচনা করি—পেদ্রো (আলমোদোভার) আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আরো অনেকেই আছেন। আমার বিশ্বাস যে বিশেষ করে স্প্যানীয়রা, যারা দায়িত্ববোধ মনে করেন পরবর্তী সময়ে তারা এসব সংকটের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।

আমি বেশ আনন্দিত যে এই ফেস্টিবেল এতদিনে বেশ উন্নত হয়েছে। সিনেমার বর্তমান সংকটে ফেস্টিবেলগুলো কেবল এমন স্থান যেখানে আমরা এখনো ভালো সিনেমাগুলো দেখতে পারি। অর্থহীন এবং বাণিজ্যিক মাত্রার সিনেমাগুলো যেগুলো অবিক্ষিপ্ত হচ্ছে এসবের কারণে অল্পসংখ্যক ভালো সিনেমাগুলোই তখন ওই সময়ে চলচ্চিত্রগৃহে তাদের পথ খুঁজে নেয়।

দেবাশীষ ধর

জন্ম ৫ জানুয়ারি, ১৯৮৯; চট্টগ্রাম। গণিতে স্নাতকোত্তর, চট্টগ্রাম কলেজ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। পেশায় শিক্ষক। গণিতের প্রভাষক, মিপস ইনস্টিটিউশন অব ম্যানেজমেন্ট টেকনোলজি।

প্রকাশিত বই :
ফসিলের কারুকাজ [অনুপ্রাণন প্রকাশন, ২০১৬]

ই-মেইল : debdhar121@gmail.com