হোম অনুবাদ লোরকার দশটি কবিতা

লোরকার দশটি কবিতা

লোরকার দশটি কবিতা
921
0

বেশ কিছুকাল আগে ফেদেরিকো গারসিয়া লোরকার কিছু কবিতা অনুবাদ করেছিলেন কবি সাজ্জাদ শরিফ। নির্বাচিত কবিতাগুলি নিয়ে একটি বই বেরোয় ২০১২ সালে—’রক্ত ও অশ্রুর গাথা’ নামে। বইটির প্রকাশক ‘প্রথমা’। সে বই থেকে ১০টি কবিতা মুদ্রিত হলো পরস্পরের পাঠকদের জন্য…


বিস্ময়

    
পথের ওপরে ওরা তাকে ফেলে রেখে গেল মৃত
বুকে গাঁথা ছুরি।
চিনল না কেউ তাকে।
কেঁপে উঠল কিভাবে যে পথের লন্ঠন!
মা গো।
কেঁপে উঠল কিভাবে যে পথের ওপরে ওই
ছোট্ট লন্ঠন!
তখন প্রত্যুষ। কেউ
তাকাতে পারে নি ওর চোখে
কর্কশ হাওয়ায়।
পথের ওপরে সে তো পড়ে ছিল মৃত
বুকে ছুরি গাঁথা,
আর তাকে চিনত না কেউ।
    

    

পথ

    
পথ ধরে নিচু কমলাবিথির
দিকসীমায়,
শোকার্ত শত ঘোড়সওয়ারেরা
যাবে কোথায়?
যেতে পারবে না তারা সেভিয়ায়
কর্দোবায়,
গ্রানাদায়ও নয় সিন্ধুকাতর
যে দিনমান।
ক্রুশচিহ্নের গোলকধাঁধায়
যেখানে গান
কেঁপে কেঁপে ওঠে, তন্দ্রাবিধুর
ঘোড়ারা তাদের নেবে তত দূর।
কমলাবিথির আন্দালুসীয়
শত ঘোড়ায়
কাঁটাগাঁথা সাত শোক নিয়ে তারা
যাবে কোথায়?
    

 

মালাগেনা

    
মৃত্যু করছে
আসা আর যাওয়া
পান্থশালায়।

কালো ঘোড়া আর
অশুভ লোকেরা
চলে গিটারের
সুড়ঙ্গপথে।

সৈকতে জ্বর-
তপ্ত জবায়
নুন ও নারীর
শোণিতগন্ধ।

মৃত্যু করছে
আসা আর যাওয়া,
যাওয়া আর আসা
করছে মৃত্যু
পান্থশালায়।
    

 

নকল

    
কেবলই একটি পাখি
গান গায়।
হাওয়া তার নকল বানায়।
আয়নার মধ্য দিয়ে শুনি।
    

    

সীমান্ত

    
আমি ফিরে আসছিলাম ঊষর অঞ্চল থেকে। নিচে কাঁপছে নদীখাত, তৃণপ্রান্তর ঢেকে আছে নীলে। বিস্রস্ত হাওয়া, কয়েকটি ঝিঁঝির ফিতা, গ্রীষ্মরাত্রির গভীরে শিউরে উঠছে, শূন্যে।

মরুর গানের স্বাদ যথার্থ হলুদ।

এখন আমি জানি, উঁইপোকা কেন খাঁটি সোনায় গড়া, আর জলপাইকুঞ্জে ঢুকে গান কী করে হতে পারে ছাই।

এই দূর গোরস্থানের মৃত বাসিন্দারা নিশ্চয়ই নভেম্বরের গাছের মতো হলুদ হয়ে যাবে।

তৃণপ্রান্তরের কাছে এসে মনে হলো, আমরা ঢুকে পড়েছি এক সবুজ মৎস্যজলাধারে: বাতাস নীল তরঙ্গমালার সাগর, চাঁদের জন্য গড়ে তোলা এক মহাসিন্ধু, শুষ্ক আখের অজস্র বাঁশির ওপর সেখানে খেলা করে ব্যাঙ।

ঊষর অঞ্চল থেকে তৃণপ্রান্তরে পৌঁছাতে হলে তোমাকে পেরোতে হয় নদীর এক রহস্যময় সোঁতা, যা খুব কম লোকেরই চোখে পড়ে: শব্দের এক সোঁতা। সোঁতাটি গড়ে তুলেছে প্রাকৃতিক এক সীমান্ত, যেখানে গা-ছমছমে নৈঃশব্দ্য পরস্পরবিরোধী দুই গানের কণ্ঠ রোধ করে আনে। আমাদের অপার্থিব চোখ তৈরি থাকলে আমরা দেখতাম, সীমান্তে গানের তামসিক স্রোতের মধ্যে মিলিয়ে যাওয়ার পর সোনালি গমের ছোঁয়ায় একটি মানুষ কিভাবে হলুদ হয়ে যায়, তৃণপ্রান্তরে ঢুকে কিভাবে সে হয়ে ওঠে সবুজ।

একটি মুহূর্তের জন্য আমি যাওয়ার চেষ্টা করেছি দারুণ সেই পথে (এক পাশে ব্যাঙ, আর অন্য পাশে ঝিঁঝি)। সেখানে অবোধ্য দ্বন্দ্বে মুখর শব্দরাজির মধ্যে আমি চুমুক দেব নবজাত নৈঃশব্দ্যের ঠান্ডা খুদে সুতোয়।

এমন কে আছে, এই দীর্ঘ পথ পেরোনোর পর যার আত্মা খ্যাপাটে আলপনায় ভরে উঠবে না? সাহস করে কে বলবে, ‘মাথার ভেতরে আমি একটি পথ ধরে হেঁটেছি। কোনো পাখি, মাছ বা মানুষের জন্য সে পথ নয়। পথটি শুধু আমাদের কানের জন্য।’

এই কি সেই পথ, যা কিছু-না-তে গিয়ে পৌঁছায়; যা আসলে সেই লোকেদের বাড়ি, যারা প্রতীক্ষায় থেকে থেকে মরে গিয়েছে। জলপাইকুঞ্জের পেছন থেকে পপলারের অগ্রবর্তী রেখা পর্যন্ত কী যে অদ্ভুত সব শৈবাল আর ছোট অদৃশ্য আলো আমাদের চারপাশে ভাসছে।

এখানে স্রোতের পাশে আমি দাঁড়াই, আর আমার কান দুটোকে অ্যান্টেনা করে এর গভীরতা মাপি। প্রশস্ত আর ঘূর্ণাবর্তে ভরা এই সোঁতা, অথচ পাহাড়ে এটি চাপা পড়েছে নীল মরুভূমির বালির নিচে। হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের অপূর্ব দোলাচলে এখন সে গ্রস্ত।

ক্ষয়িষ্ণু চাঁদ, যেন সোনালি রসুনের এক কোয়া, ছড়িয়ে পড়ে একটি কিশোরের চেহারা থেকে আকাশের বক্রতায়।
    

 

অসতী স্ত্রী

লিলিয়া কাবরেরা
ও তার ছোট্ট শ্যামলা মেয়েকে

    
আর কুমারী কন্যা ভেবে তাকে
নিয়ে গিয়েছিলাম নদীর ধারে
অথচ সেই মেয়ের ছিল স্বামী।

সান্তিয়াগোর রাত ছিল সেই দিন
আর ছিল প্রায় অঙ্গীকারের দায়।
নিভে গিয়েছিল পথের বাতি
জোনাকিরাও উঠল জ্বলে জ্বলে।
রাস্তার শেষ মোড়ের কাছে গিয়ে
ছুঁয়ে দিলাম ঘুমন্ত তার স্তন
আমার জন্য বেরিয়ে এল তারা
ঠিক কচুরিপানা ফুলের মতো।
সেই মেয়েটির পেটিকোটের মাড়
বেজে উঠল আমার দুটি কানে,
যেনবা একপ্রস্ত রেশম কাপড়
দশটি ছুরি করল ফালিফালি।
যাদের ডগায় নেই রুপালি আলো
দীর্ঘতর হলো সে গাছগুলো,
আর কুকুরের দূর দিগন্তরেখা
গর্জাল ওই নদীর উপকূলে।

*

পেরিয়ে গিয়ে কাঁটাগাছের ঝোপ
বেতগাছ আর নলখাগড়ার ঝাড়,
সেই মেয়েটির ঘন কেশরতলে
পলিমাটির ওপর গর্ত খুঁড়ি।
আমি খুলে ফেলি আমার টাই।
সেই মেয়েটি বস্ত্র খোলে তার।
খুলি আমার বেল্ট ও রিভলভার।
সে খোলে তার চার অন্তর্বাস।
সিন্ধুশামুক নয়, গোলাপও নয়
ত্বক সে মেয়ের এমনই ঝকঝকে,
তেমন স্ফটিক নেই যা চন্দ্রাতপে
ঝকমকিয়ে ওঠে এমনতর।
আধখানি যার আগুন দিয়ে ভরা,
তীব্র হিমে বাকি আর আধখানি,
চমকলাগা তেমন মাছের মতো
আমার থেকে ফসকালো তার ঊরু।
কোনো রেকাব এবং লাগাম ছাড়া
কমবয়সী মাদি ঘোড়ায় চেপে
ছুটেছিলাম আমি সে রাত্রিতে
সকল পথের শ্রেষ্ঠতমটিতে।
পুরুষ আমি, বলব না কক্ষনো
আমাকে যা বলেছে সেই মেয়ে।
অনুভবের আলোকচ্ছটায় আমি
চুপ থেকেছি বুদ্ধিমানের মতো।
নদীর থেকে নিয়ে এলাম তাকে
বালিতে আর চুমোয় মাখামাখি।
শ্বেতদূর্বার ধারালো বর্শারা
বিঁধছে তখন হাওয়ার গায়ে গায়ে।

জিপসি আমি, ঠিক সে অনুযায়ী
করেছি তার সঙ্গে আচরণ।
খড়ের মতো হলুদ রেশমি বড়
সেলাই-ঝুড়ি দিয়েছিলাম তাকে।
প্রেমে পড়তে চাই নি আমি তার
কারণ স্বামী যদিও তার ছিল
বলল তবু সে কুমারী মেয়ে
যখন তাকে নিচ্ছি নদীর ধারে।
    

 

চক্কর দিয়ে গাওয়ার জন্য তিন বন্ধুর কিস্‌সা
    

এনরিকে,
এমিলিও,
লোরেনসো।
ওরা তিনজনই ছিল স্তব্ধ:
এনরিকে তার বিছানার জগতে,
এমিলিও চোখ আর রক্তাক্ত হাতের জগতে,
লোরেনসো ছাদহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের জগতে।

লোরেনসো,
এমিলিও,
এনরিকে।
ওরা তিনজনই পুড়ে খাক:
লোরেনসো পাতা আর বিলিয়ার্ড বলের জগতে,
এমিলিও রক্ত আর সাদা পিনের জগতে,
এনরিকে মৃত আর বাতিল পত্রিকার জগতে।

লোরেনসো,
এমিলিও,
এনরিকে।
ওরা তিনজনই ছিল সমাহিত:
লোরেনসো গাছগাছালির বুকে,
এমিলিও জিনের বিস্মৃত চুমুকে,
এনরিকে পিঁপড়ায়, সাগরে, পাখিদের শূন্য চোখে।

লোরেনসো,
এমিলিও,
এনরিকে।
আমার হাতে ওরা তিনজন ছিল
তিনটি চীনা পর্বত,
তিনটি ঘোড়ার ছায়া,
তিনটি তুষারঢাকা নিসর্গ আর পায়রার খোপের পাশে এক পদ্মফুলের আশ্রয় যেখানে মোরগের নিচে
    চিৎপাত শুয়ে থাকে চাঁদ।

এক
আর এক
আর এক।
শীতের মাছিসহ,
কুকুরের হিশি করা কালির দোয়াত আর চকচকে তাচ্ছিল্যসহ,
সব মায়ের বুক ঠান্ডা করে দেওয়া হাওয়াসহ,
বৃহস্পতির সাদা ভগ্নস্তূপের পাশে মমি হয়ে ছিল ওরা তিনজন
মৃতদের সম্মানে মাতালেরা যেখানে সারে তাদের মধ্যদিনের ভোজ।

তিন
আর দুই
আর এক।
আমি দেখেছি কাঁদতে কাঁদতে আর গান গাইতে গাইতে নিজেদের ধ্বংস করছে তারা
একটি মুরগির ডিমে,
নিজের তামাক-কঙ্কাল দেখানো এক রাতে,
চেহারা আর বিঁধতে থাকা চান্দ্র টোটায় ভরা আমার বিষাদে,
আমার চাকা ও চাবুকের খাঁজকাটা আনন্দে,
ঘুঘু নিয়ে গুমরানো আমার এ বুকে,
একটি নিঃসঙ্গ ভুল পথচারীসহ আমার একাকী মৃত্যুতে।

আমি হত্যা করেছি পঞ্চম চাঁদ,
আর পাখা ও হর্ষধ্বনি পানি খাচ্ছিল ফোয়ারা থেকে,
নতুন মায়েদের ভেতরে গরম দুধ
লম্বা সাদা বেদনায় সজীব করে তুলছিল গোলাপদের।

এনরিকে,
এমিলিও,
লোরেনসো।
ডায়ানা আড়ষ্ট,
তবু তার স্তনজোড়া মাঝেমধ্যে ভরে ওঠে মেঘে।
সাদা পাথর ঢিবঢিব করতে পারে হরিণের রক্তে
আর হরিণ স্বপ্ন দেখতে পারে ঘোড়ার চোখ দিয়ে।

ডেইজির কাকলিতে
যখন ডুবে গেল বিশুদ্ধ আকারেরা,
আমি টের পেলাম আমাকে তারা খুন করেছে।
কাফে, গোরস্থান আর গির্জা তন্নতন্ন করে তারা খুঁজল আমাকে,
উঁকি দিল পিপায় আর দেরাজে,
তিনটি কঙ্কাল লন্ডভন্ড করে উপড়ে আনল সোনার দাঁত,
কিন্তু তারা আমাকে আর কখনো খুঁজে পেল না,
আমাকে তারা খুঁজে পায় নি?
না। আমাকে তারা আর খুঁজে পায় নি।
কিন্তু তারা আবিষ্কার করল ষষ্ঠ চাঁদ লুকিয়েছে প্রবল জলধারায়,
আর যা ডুবে গিয়েছিল তাদের নাম—
অকস্মাৎ!—মনে পড়ে গেল সমুদ্রের।
    

 

কালো মৃত্যুর গজল

    
ঘুম দেব আমি আপেলের ঘুম,
কবরখানার হইচই থেকে বহু বহু দূরে।
ঘুম দেব আমি সে শিশুর ঘুম
যে তার হৃদয় কেটে ফেলে দিতে চেয়েছে সাগরে।

শুনতে চাই না মৃতদের আর ঝরে না রক্ত,
গলে যাওয়া মুখ পানির জন্য করে হাহাকার।
জানতে চাই না ঘাস দেয় কোন প্রাণবলিদান
অথবা সে কোন সাপমুখো চাঁদ
সূর্য ওঠার আগে তৎপর।

ঘুম দেব আমি এক মুহূর্ত,
এক মুহূর্ত, একটি মিনিট, এক শতাব্দী;
কিন্তু সবাই জেনে রেখো আমি এখনো মরি নি;
জেনো এই ঠোঁটে ঘোড়ার সোনালি আস্তানা আছে;
জেনো পশ্চিমা বাতাস আমার ছোট্ট বন্ধু;
জেনো আমি নিজ অশ্রুর খুব প্রকাণ্ড ছায়া।

ভোরের বেলায় আমাকে মুড়িয়ে দিয়ো আবরণে,
কারণ মেয়েটি ছুড়ে দেবে মুঠোভর্তি পিঁপড়া;
নুনপানি দিয়ো ছড়িয়ে আমার জুতার জোড়ায়
যেন মেয়েটির বৃশ্চিকহুল পিছলিয়ে যায়।

কারণ আমি তো ঘুম দিতে চাই আপেলের ঘুম,
শিখতে চাই সে বিলাপ যা এই শরীরের থেকে মুছে দেবে মাটি;
কারণ থাকতে চাই সে শ্যামলা শিশুর সঙ্গে
যে তার হৃদয় কেটে ফেলে দিতে চেয়েছে সাগরে।
    

 

শাখার কাসিদা

    
সিসায় তৈরি শত কুকুরের দল
তামারিত-বন পার হয়ে এসে বসে
অপেক্ষা করে কখন ঝরবে শাখা,
শাখারা কখন নিজেরাই যাবে খসে।

তামারিতে আছে একটি আপেলগাছ
চাপা-ফোঁপানির আপেল ফলেছে তাতে।
কোকিল জমিয়ে রাখে দীর্ঘশ্বাস
তিতির সেসব তাড়ায় ধুলোর সাথে।

কিন্তু শাখারা আছে আনন্দে সুখে,
শাখাগুলো যেন ঠিক আমাদের মতো।
বৃষ্টিকাতর মোটেই তো ওরা নয়,
যেন উদ্ভিদ, হঠাৎ নিদ্রারত।

হাঁটুজলে বসে দুইটি উপত্যকা
ভাবে, হেমন্ত কবে আসে কবে আসে।
গোধূলি গিয়েছে হাতির পদক্ষেপে
গাছের গুঁড়ি ও শাখা ঠেলে দুই পাশে।

আবরণে মুখ ঢেকে রাখা বহু শিশু
তামারিত-বন পার হয়ে এসে বসে
অপেক্ষা করে কখন আমার শাখা
ঝরবে, নিজেরা ঝরে ঝরে যাবে খসে।
    

 

ডুবে যাওয়া তরুণের স্বপ্নজাগানো গান

    
চলো যাই নিচে, চুপচাপ, দেখি নদীর সোঁতায়

পানির গভীরে ডুবে যাওয়া সেই তরুণ কোথায়।

চলো যাই নিচে, চুপচাপ, যাই বাতাসের তীরে
এই নদী তাকে নেওয়ার আগেই সিন্ধুগভীরে।

কেঁদে কেঁদে ঘাস ও দেবদারুর সুইয়ের তলায়
আহত ও তার খুদে আত্মার বুক ভেঙে যায়।

চাঁদ থেকে ছোড়া জলের প্রবাহ নেমে আসে আর
ভায়োলেট ফুলে ঢেকে ঢেকে দেয় নগ্ন পাহাড়।

হাওয়া ক্যামেলিয়া-ফুলছায়া নিয়ে
নিজ শোকমুখী আনত আলোয় দিচ্ছে বিছিয়ে।

এসো, মাঠ আর পাহাড়ের যত অন্ধ কিশোর,
এ তরুণটিকে দ্যাখো যে এখানে ডুবে গেল ঘোর।

গিরি ও খাতের শ্যামলা লোকেরা, চলে এসো, এই
নদীস্রোত তাকে সিন্ধুগভীরে নেওয়ার আগেই।

যে সাগর তাকে নিচ্ছে সে ঢাকা সাদা পর্দায়
যেখানে বৃদ্ধ জলবৃষ ধীরে আসে আর যায়।

আহা, ও চাঁদের সবুজ ঢাকের আওয়াজে মাতাল
নদীতীরজুড়ে গাছেরা দিচ্ছে গানে গানে তাল।

এসো, কিশোরেরা, চলো ওই দূরে, এসো তাড়াতাড়ি!
নদী তাকে নিয়ে দিয়েছে এখন সমুদ্রে পাড়ি।

সাজ্জাদ শরিফ

সাজ্জাদ শরিফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক at প্রথম আলো
জন্ম ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৬৩, পুরান ঢাকা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর।

প্রকাশিত বই :
ছুরিচিকিৎসা [কবিতা, ২০০৬, মওলা ব্রাদার্স]
যেখানে লিবার্টি মানে স্ট্যাচু [গদ্য, ২০০৯, সন্দেশ]
রক্ত ও অশ্রুর গাথা [অনুবাদ, ২০১২, প্রথমা]

ই-মেইল : sajjadsharif_bd@yahoo.com
সাজ্জাদ শরিফ