হোম অনুবাদ লা লা ল্যান্ড-এর পরিচালক ড্যামিয়েন চ্যাজেল-এর সাক্ষাৎকার

লা লা ল্যান্ড-এর পরিচালক ড্যামিয়েন চ্যাজেল-এর সাক্ষাৎকার

লা লা ল্যান্ড-এর পরিচালক ড্যামিয়েন চ্যাজেল-এর সাক্ষাৎকার
942
0

বিশ্বমাতানো আমেরিকান চলচ্চিত্রকার ড্যামিয়েন চ্যাজেল। মাত্র ৩২ বছর বয়সেই তিনি অস্কারসহ জিতে নিয়েছেন গোল্ডেন গ্লোব, বাফটা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সব আন্তর্জাতিক পুরস্কার এবং উল্লেখযোগ্য যে, গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের ইতিহাসে তিনিই সবচেয়ে কম বয়সী চলচ্চিত্রকার। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভিজ্যুয়াল অ্যান্ড ইনভাইরনমেন্টাল স্টাডিজ নিয়ে পড়াশোনা করা এই চলচ্চিত্রকার হলিউডে আবির্ভূত হন সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল চলচ্চিত্রকার হিশেবে। তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘গাই অ্যান্ড মেডেলিন অন এ পার্ক বেঞ্চ’ মুক্তি পায় ২০০৯ সালে, এরপর ২০১৪ সালে ‘হুইপল্যাশ’, যা তাকে প্রথম সারির চলচ্চিত্রকারদের কাতারে নিয়ে আসে। ২০১৬ সালে ‘টেন ক্লোভারফিল্ড লেইন’ ও সর্বশেষ ‘লা লা ল্যান্ড’, যা এবারের অস্কারে ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সংগীত-প্রধান এই চলচ্চিত্রটি অস্কারের ১৪টি শাখায় নমিনেশন পায়। যদিও অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক নমিনেশন পাওয়া ‘লা লা ল্যান্ড’ সেরা চলচ্চিত্রের তকমাটি পায় নি, তারপরও ৬টি বিভাগে জিতে নিয়েছে পুরস্কার।


‘লা লা ল্যান্ড’-এর খুঁটিনাটি নানা দিক নিয়ে এই তরুণ চলচ্চিত্রকারের সাথে কথা বলেছেন চলচ্চিত্র বিষয়ক ওয়েবসাইট ফার্স্টশোয়িং ডট নেট (www.firstshowing.net) এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্স বিলিংটন—তাদের কথোপকথনটি নিচে তুলে ধরা হলো।

 


সা ক্ষা ৎ কা র
❑❑


অ্যালেক্স বিলিংটন

আমার প্রথম প্রশ্ন—কিভাবে আপনি এটা তুলে আনতে সক্ষম হলেন? কিভাবে আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছলেন? ‘হুইপল্যাশ’ এর অনেক আগে থেকেই তো এই আপনি সিনেমাটি নিয়ে কাজ করছিলেন, তাই না? আর সেই সিনেমাটির সফলতাই কি এটি তৈরিতে সহায়তা করেছে?

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

হ্যাঁ, অবশ্যই সেটি আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। মূলত, ‘হুইপল্যাশ’-এর মুক্তির পরই হলিউড আমার এই সিনেমার চিত্রনাট্যের ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহী হয়ে ওঠে। কিন্তু তখনও বিষয়টি ছিল প্রক্রিয়াধীন এবং এটা বেশ মজার যে, সানডেন্সে  ‘হুইপল্যাশ’-এর প্রিমিয়ায়েরর পরপরই আমরা লায়নসগেটের সাথে কাজ শুরু করি। যারা সিনেমাটি বানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এটা অবশ্যই ‘হুইপল্যাশ’ মুক্তির অনেক আগের কথা। তবে তখন থেকে শুরু করে সিনেমাটির শ্যুটিং পর্যন্ত আসতে অনেক চড়াই-উতরাই পার হতে হয়েছে। যেখানে বাজেট পরিমার্জন, কলা-কুশলীর পরিবর্তন—এই ধরনের অনেক বিষয় ছিল। সুতরাং, সেই সময়ে যদি আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করতেন, সিনেমাটি অদৌ তৈরি হবে কিনা, তবে বলতাম ‘উপরওয়ালাই জানেন’!


চলচ্চিত্র ব্যবসায় অন্য অনেকের মতো আমিও কিছুটা মানসিক বাতিকগ্রস্ত।


 অ্যালেক্স বিলিংটন

সত্যিই কি?

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

আমার মনে আছে, আমি ও জাস্টিন হারউইৎজ-সিনেমাটির কম্পোজার, যার সাথে কলেজে পড়েছি, উভয়েই সিনেমাটি অনন্তকাল ধরে বানিয়ে যাবার বিষয়ে কথা বলতাম। এছাড়া, সেই দুজন প্রযোজক—যাদের সাথে সিনেমাটির উন্নতি নিয়ে কাজ করেছি—শ্যুটিং শুরুর আগের দিন আমরা সব আয়োজন সম্পন্ন হওয়ার খুশিতে একত্রিত হয়েছিলাম। মূলত আয়োজনটি ছিল এমন—“যাক আমার এতদূর পর্যন্ত আসতে পেরেছি এবং আমার মনে হয় না তারা চাইলেও আর সিনেমাটির কাজ বন্ধ করতে পারবে, কেন না আগামীকাল আমরা বাস্তবিক অর্থেই সিনেমাটির শ্যুটিং শুরু করতে যাচ্ছি”। সুতরাং এটা ছিল সত্যিকার অর্থেই বিজয়, কেননা কাজটি আমরা শেষ পর্যন্ত ক্যামেরার সামনে শুরু করতে যাচ্ছিলাম—যা দীর্ঘদিন ধরেই অসম্ভব বলে মনে হচ্ছিল।

অ্যালেক্স বিলিংটন

আমি আপনাকে এজন্য প্রশ্নটি করেছি যে, আমার নিজস্ব অবস্থান থেকে যেভাবে দেখছি, তাতে মনে হয়েছে, বিষয়টি খুব ‘সহজ’ই ছিল—যদিও আপনার ক্ষেত্রে সম্ভবত এটি সবচেয়ে অপমানজনক মন্তব্য, যেহেতু এত দূর আসতে আপনাকে অনেক পথই পাড়ি দিতে হয়েছে।

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

না, তা ছিল না, তবে বিষয়টি ছিল সত্যিই অসাধারণ।

অ্যালেক্স বিলিংটন

আপনি যা করছেন, যা শ্যুট করছেন কিংবা বানাতে চলেছেন—এই বিষয়গুলোতে আপনাকে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী মনে হয়।

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

এই ধরনের মন্তব্য শুনতে অসাধারণ লাগে। আমার ক্ষেত্রে আসলে পুরোনো সংগীত-নির্ভর সিনেমার এই বিষয়টি বেশ ভালো লাগার যে, তারা যা করছে তা সত্যিই খুব কঠিন। কিন্ত সেই সিনেমাগুলো ছিল একেবারে অনায়াস এবং স্বতঃস্ফূর্ত, যা দেখে মনেই হয় না যে সেগুলো কঠোর অনুশীলনের ফসল। আমার মনে হয়, পুরোনো সংগীত-নির্ভর সিনেমায় এমন বিশেষ কিছু ছিল, যা কিছুটা হলেও আমরা হারিয়ে ফেলেছি। তারপরও সেগুলো এখনও মানবিক আবেদনময়। যদিও এখনও আমাদের বিশাল রং করা পেছনের পর্দা, উন্মাদনাময় ট্যাপ ড্যান্সের মুদ্রা ও অন্যান্য সবকিছুই রয়েছে—কিন্তু আমার কাছে পুরোনো দিনের সেই সিনেমাগুলোই অধিক মানবিক ও নিবেদিত মনে হয়।

অ্যালেক্স বিলিংটন

‘হুইপল্যাশ’-এর সাফল্য এবং ‘লা লা ল্যান্ড’ যেভাবে প্রশংসিত হচ্ছে—সে অবস্থান থেকে আপনি কিভাবে বলবেন যে, সাফল্য’র বিষয়টি আপনার মাথায় ছিল না? অথচ সিনেমাটির কাজ প্রায় বন্ধ হতেই চলেছিল, কিন্তু আপনি তা হতে দেন নি, বরং শেষ পর্যন্ত এটিকে তুলে এনেছেন এবং একটি অনুপ্রেরণাদায়ক, আশাবাদী সিনেমা বানাতে সক্ষম হয়েছেন।

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

হ্যাঁ, তবে একটি জিনিস আমি অনুভব করি যে, আত্মবিশ্বাসী না হওয়ার বিষয়ে আমি বেশ ভালো।

অ্যালেক্স বিলিংটন

সত্যিই কি?

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

আমার মনে হয়, আমার মধ্যে সুপ্ত কিছু রয়েছে। আর আমার মস্তিষ্ক ততটা উন্মাদ নয় যে, সাফল্য নিয়ে চিন্তা করে বিষয়টিকে ভারাক্রান্ত করে তুলবে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে আমি বরং বাতিকগ্রস্ত, আত্মসংশয়ী মানুষ, যে অনায়াসে বলতে পারে ‘ওহ খোদা, কী হবে যদি এমনটা ঘটে? কিংবা তেমনটা ঘটে যায়।’ সে অর্থে বলা চলে, চলচ্চিত্র ব্যবসায় অন্য অনেকের মতো আমিও কিছুটা মানসিক বাতিকগ্রস্ত। যদিও জানি যে আমি একাই এমন নই, তারপরও আমার মনে হয়, প্রতিটি সিনেমা বানানোর সময় চিরকালই আমি সন্দিগ্ধ ও চিন্তিত থাকব। এই ধরনের বিষয়গুলো যাতে আমাকে খুব বেশি আচ্ছন্ন করতে না পারে, সে জন্য আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, অন্তত এখন।

তাছাড়া বিষয়টিকে আমার সেই সব সুযোগের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার প্রয়াসও বলা চলে, যা আমাকে সেই সিনেমাটি তৈরিতে সাহায্য করেছে, যা আমি বানাতে চেয়েছি। ফলে যে কোনো সময় অনায়াসেই আমি ‘লা লা ল্যান্ড’ শুরুর আগের উদ্‌যাপনের মুহূর্তগুলো স্মরণ করতে পারি, যা আমার কাছে তথ্যবহুল। আর এক অর্থে এমন মনোভাব থাকাই তো উচিত—‘কৃতজ্ঞ থাকা’, যখন আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি সৃষ্টি করতে চলেছেন। তাই যখনই আমাকে একটি সিনেমা বানানোর সুযোগ দেওয়া হয়, যা আমি বানাতে চেয়েছি বা বানানোর স্বপ্ন দেখি, তা হয়ে ওঠে এক ধরনের বিজয় এবং তা ধরে রাখার চেষ্টা করি।

অ্যালেক্স বিলিংটন

আপনার এগিয়ে চলার সাথে সাথে এই মানসিকতা কি বজায় থাকে?

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

এই মানসিকতা বজায় রাখা আসলে সাফল্য সম্পর্কিত কিছু নয়, কিন্তু উপরওয়ালা জানেন, আমার মাথায় নতুন কিছু প্রবেশ করানো সত্যিই কষ্টকর।

অ্যালেক্স বিলিংটন

আপনিও কি একজন পারফেক্টশনিস্ট?

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

হ্যাঁ, অবশ্যই।

অ্যালেক্স বিলিংটন

‘লা লা ল্যান্ড’-এর মতো একটি বিষয় নিয়ে সাফল্য অর্জন করা কি কঠিন?

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

অবশ্যই।

অ্যালেক্স বিলিংটন

এমন কিছু দৃশ্য আছে যেগুলো নিখুঁত করতে আপনাকে কতগুলো শট নিতে হয়েছিল?

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

আমার মনে হয়, চল্লিশটির মতো শট নিতে হয়েছিল।

অ্যালেক্স বিলিংটন

এটা কি একটি সম্পূর্ণ নাচের দৃশ্য নাকি বিশেষ কোনো সংলাপ-দৃশ্যের বেলায় ঘটেছিল?

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

এটা নাচের দৃশ্যের বেলায় ঘটেছিল। আসলে আমরা কথা বলছি ৫ মিনিটের একটি দৃশ্য নিয়ে, যেটি চল্লিশ বারের মতো নিতে হয়েছে, ফলে শেষ পর্যন্ত দেখা যায় যে, একটি মাত্র নাচের দৃশ্যের জন্যই দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় হয়ে গেছে।


কিছুতেই একটি দৃশ্যের মান শতভাগ নিশ্চিত না করে অন্য দৃশ্যের চিত্রায়ণ করব না।


অ্যালেক্স বিলিংটন

অসাধারণ। বুঝতে পেরেছি।

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

এমনটি আরও ঘটেছে, যেমন নৈশভোজের দৃশ্য, যেখানে তারা একসাথে ছিল। আমরা সেই দৃশ্যটিও ততোধিকবার গতানুগতিকভাবে ধারণ করেছি, যা ছিল দুটো ক্যামেরায় ধারণ করা এবং জন লিজেন্ডের কনসার্টের দৃশ্য ছাড়া পুরো সিনেমায় এটিই একমাত্র দৃশ্য, যা আমরা দুটো ক্যামেরায় ধারণ করি। ‘শট আর রিভার্স শট’ এই ছিল দৃশ্যায়নটির বৈশিষ্ট্য, কিন্তু আমরা বারবার দৃশ্যটি ধারণ করেছি এবং ভিন্ন কিছু করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। বস্তুত, এই সিনেমাটির ব্যাপারে আমার নিজস্ব দর্শন ছিল এমন—সিনেমাটা বানানোর জন্য আমরা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছি, ফলে যখন এটি শুরু করব, তখন কিছুতেই পরবর্তী দৃশ্যের চিত্রায়ণ করব না যতক্ষণ না আমি একটি দৃশ্যের বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হচ্ছি যে, আমরা যা করতে পারতাম তা শুধু একবারই করি নি বরং দুইবার করেছি, নতুবা সুযোগ পেয়েও হারানোর অনুশোচনা রয়ে যাবে। তুমি জীবনে একবারই সুযোগ পাবে এমন একটি সিনেমা বানানোর, সুতরাং তা নষ্ট করো না।

অ্যালেক্স বিলিংটন

সেটে একসাথে সবগুলো বিষয় সঠিকভাবে নিশ্চিত করা—আপনার এই মন্তব্য থেকে অন্যান্য বিষয়গুলোও সামনে চলে আসে আর সেক্ষেত্রে আপনার এই মন্তব্য কি গানের দৃশ্যায়নের বেলাতেও প্রযোজ্য?

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

হ্যাঁ, তবে আমার মনে হয় বিষয়টি পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে, কেননা, কিছু গান ছিল আগে রেকর্ড করা।

অ্যালেক্স বিলিংটন

হুম, বুঝতে পেরেছি।

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

যেমন ধরুন নাচের দৃশ্যগুলোর কথা, আমরা বাজানো গানের সাথেই দৃশ্যায়নগুলো করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু একক গানের অন্তরঙ্গ মুহূর্তটি কিংবা এমার অডিশনের গানগুলো বা এই ধরনের দৃশ্যগুলো আমরা সরাসরিই ধারণ করেছিলাম। শটগুলো এতটাই মজার ছিল যে, আমি চেয়েছিলাম চিত্রগ্রহণের সময় প্রতিটি বিষয়ের ওপর মনোযোগ রাখতে, যা বাস্তবিক অর্থে আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে নাচের প্রতিটি স্টেপ পর্যবেক্ষণের জন্য কোরিওগ্রাফার ম্যান্ডি (মুর) সেখানে ছিল, এছাড়া প্রতিটি নোট শোনার জন্য হেডফোনে ছিল কম্পোজার জাস্টিন (হারউইৎজ) ও তার প্রডিউসার মারিয়াস (ডি ভ্রাইস), আর ছিল রায়ানের পিয়ানো কোচ লিজ (কিনোন), যে নিশ্চিত করছিল যে, সে যখনই পিয়ানো বাজাক তা ঠিকভাবে বাজছে ও নোটগুলো নির্ভুল হচ্ছে। যদি আপনি স্বভাবগতভাবে একজন সহযোগিতার মনোভাবসম্পন্ন পরিচালক নাও হন, তারপরও আপনাকে সংগীত-নির্ভর চলচ্চিত্র (মিউজিক্যাল ফিল্ম) বানানোর ক্ষেত্রে তা হতে হবে। আমার মনে হয়, প্রয়োজনের দাবিতে এটিই সবচেয়ে সহযোগিতামূলক চলচ্চিত্র ধারা (কোলাবরেটিভ জেনর)।

অ্যালেক্স বিলিংটন

সম্প্রতি আমি জন কোলট্রেন্স সম্পর্কে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেছি (চেসিং ট্রেন) এবং এটা আমাকে ‘লা লা ল্যান্ড’-এ রায়ানের পিয়ানো বাজনোর সেই অসাধারণ দৃশ্যগুলোর কথা স্মরণ করিয়েছে—যেখানে ক্যামেরা তার হাতের উপর ফোকাস করা হয়, তারপর সরিয়ে আনা হয়—যা সত্যিই অসাধারণ। কিভাবে আপনি এই ধরনের চিত্রগ্রহণ নির্ধারণ করলেন?

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

রায়ান আমার কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছিল, যেখানে সে দ্বিতীয় পিয়ানো বাদক নিয়োগ না করার ব্যাপারে ছিল কঠোর পরিশ্রমী, দৃঢ়প্রত্যয়ী, অথচ আমি তা করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। মূলত, রায়ান কাজ শুরু করার আগেই আমি ও আমার সংগীতদল উভয়েই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের হয়তো সেটাই করতে হতো। কিন্তু রায়ান প্রতিটি অংশই জানার ব্যাপারে ছিল ভীষণ পরিশ্রমী—ফলে এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত করার জন্য সে পিয়ানোতে এতটাই দক্ষ হয়ে উঠল যে, আমরা অনুভব করলাম, আমাদের আর দ্বিতীয় পিয়ানো বাদকের প্রয়োজন নেই।

অ্যালেক্স বিলিংটন

অসাধারণ।

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

এবং আমরা এও বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমার যেমনটা আশা করেছিলাম, তার চেয়েও স্বাধীনভাবে ক্যামেরার কাজগুলো করতে পারব। এক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, রেস্টুরেন্টে পিয়ানো বাদক হিশেবে তার প্রথম পারফরমেন্সের কথা, যেখানে আমরা তার উপর আলো ফেললাম এবং সরিয়ে আনলাম—সিনেমার এই পুরো অংশটিই এমা ও রায়ানের সাক্ষাতের উপর ভিত্তি করে আলাদাভাবে তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং ইন্টারকাটটি আরেকটু বেশি হওয়ার কথা ছিল, যেখানে আমরা ধারণা করেছিলাম, যখন আমরা রায়ানের উপর আলো ফেলব, সেখানে ইন্টারকাট করে এমাকে দেখাব যে, সে রায়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। আমার মনে আছে, সেটে আমি রায়ানকে বলেছিলাম, তোমার অংশটির কেবল এতটুকু মনে রাখলেই চলবে, আর যদি তুমি দিশেহারা হয়ে পড়ো, চিন্তা করো না, কাট করে আমি ক্যামেরা এমার উপর নিয়ে আসব। আমি তোমার নাগালেই থাকব আর যেহেতু শটটি আমরা কাট করছি, সেক্ষেত্রে এই ক্লোজটির জন্য একজন অতিরিক্ত পিয়ানো বাদক নিতেই পারি। কিন্তু এবারও সে সমস্ত প্রক্রিয়াই রপ্ত করে ফেলল এবং যখন আমরা সত্যিকার অর্থেই শটটি নেবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম, তখন বুঝতে পারলাম যে, সে কেবল এটা বাজাতেই পারে না, বরং ‘একাই’ পারে। আর এটা সম্ভব হয়েছিল পুরো বিষয়টি সে শিখে নিতে পেরেছিল বলে। বিষয়টি এভাবে কখনোই ঘটত না, যদি না সে শেখার জন্য কঠোর পরিশ্রম করত।

অ্যালেক্স বিলিংটন

আমি মুগ্ধ যে, আপনি বলতে চাইছেন, এই কাজটি এভাবে করার সিদ্ধান্ত আপনি সেটেই নিয়েছিলেন। আর কতবার বা আর কোনো দীর্ঘ শট নেবার সময় কি বিষয়টি ঘটেছে? নাকি সেগুলোর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত পূর্বেই নেওয়া ছিল?

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

সেটিই একমাত্র দৃশ্য যা সেটে নতুনভাবে করা হয়েছে, বাকিগুলো ছিল পরিকল্পনা মাফিক।

অ্যালেক্স বিলিংটন

এটা বোঝা যায় যে, অন্যান্য দৃশ্যগুলো যথাযথ পরিকল্পনা অনুযায়ীই করা হয়েছিল।

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

হ্যাঁ, সবকিছুই ব্যাপক পরিকল্পনা অনুযায়ী করা হয়েছিল। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, বিশেষত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে, যেন তারা এখানে শ্বাস নিতে পারে আর সিনেমাটোগ্রাফার লিনাস (স্যান্ডগ্রেন) ও আমি তাদের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে যথাসম্ভব চেষ্টা করব। কিন্তু শ্যুটিং শুরুর আগে সিনেমার ভিজ্যুয়াল ছকগুলো টি ওয়ে পরিকল্পনা মাফিক করা হয়েছিল।


আমি এমন একটি সংগীত-প্রধান চলচ্চিত্র বানাতে চেয়েছিলাম যা সেই সত্যতা স্বীকার করবে


অ্যালেক্স বিলিংটন

এই প্রক্রিয়াটি হৃদয়গ্রাহী হয়ে ওঠে, যখন দৃশ্যগুলো বড় পর্দায় দেখা হয়। আমি এই ভেবে বিস্ময় বোধ করেছি—কিভাবে প্রক্রিয়াগুলো ভাবা হয়েছিল! এমনকি চিত্রনাট্য লেখার প্রাক্কালেই কত বিশদ পরিকল্পনা করা হয়েছিল!

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

আমার মনে আছে, যখন আমরা ট্রাফিক দৃশ্যগুলোর রিহার্সেল করছিলাম, তখন আমাদের কাছে মাত্র দুদিন ছিল দৃশ্যটি ফ্রিওয়েতে শ্যুট করার। আর কয়েক সপ্তাহ পূর্বে আমরা মাত্র অর্ধেক দিন পেয়েছিলাম ফ্রিওয়েতে ড্রেস রিহার্সেল করার জন্য। সুতরাং, আমাদের কাছে কার্যত সেই দুদিনই ছিল দৃশ্যটি ফ্রিওয়েতে শ্যুট করার। অতএব, এতগুলো লোক নিয়ে দৃশ্যটি লোকেশন ছাড়া রিহার্সেল করাই ছিল চ্যালেঞ্জের। ফলে আমরা রিহার্সেলগুলোর অধিকাংশই করেছিলাম পার্কিং লটে। জায়গাটি ছিল অনেক সংকীর্ণ আর ততগুলো গাড়িও ছিল না। রিহার্সেলগুলো বাস্তবিক অর্থেই আমি আমার আইফোনে শ্যুট করছিলাম আর চারিদিকে ছোটাছুটি করছিলাম, এটা দেখানোর জন্য যে তা ক্যামেরায় কেমন দেখাবে। পরে আমরা দৃশ্যায়নগুলো দেখলাম ও তাতে মিউজিক সংযোজন করে ভালো বা মন্দ লাগার বিষয়গুলো লক্ষ করলাম। শেষ পর্যন্ত আমরা দেখলাম যে, পার্কিং লটে আইফোন দিয়ে করা দৃশ্যায়নগুলো বেশ ভালোই হয়েছে। আমার মনে আছে, বিষয়টি আমার নিজের প্রতি সমীহ জাগিয়েছিল আর বলেছিলাম, ‘এতগুলো মানুষ সত্যিই অসাধারণ হয়ে উঠবে, কেননা পার্কিং লটে কেবলমাত্র আইফোন দিয়েই যদি তা এমন দেখায়, তবে কল্পনা করো থার্টি-ফাইভে কেমন দেখাবে?’

তারপর আমরা পোশাক রিহার্সাল করার জন্য ফ্রিওয়েতে গেলাম এবং এই রূঢ় বাস্তবতার সম্মুখীন হলাম যে—সেখানে আইফোন দিয়ে শ্যুট করার যে স্বাধীনতা তা নেই, কেননা সেখানে গাড়িগুলোর উপর ভেসে যাবার জন্য হঠাৎ করেই ক্রেনে চড়ে বসতে হবে, আবার হুট করেই উঠে পড়তে হবে ফ্রিওয়ের র‌্যাম্পে, যেটা ঢালু হয়ে নেমে গেছে। সুতরাং, সেখানে সবকিছুর সাথে মানিয়ে নেবার বিষয় ছিল এবং তারপর যখন সবকিছু এক সাথে উপস্থিত হবে অভিনয়ে, তখন তালগোল পাকিয়ে ফেলার সম্ভাবনাও ছিল বেশি। ফলে প্রথম ড্রেস রিহার্সেল এর সময় আমরা সবাই এই বলে মাথার চুল ছিঁড়ছিলাম, ‘হায় খোদা, এখানে আমরা যা করতে যাচ্ছি তা পাকিং লটে আইফোন দিয়ে করার মতো ভালো হবে না—এটা সত্যিই ভীষণ কষ্টের’।

কিন্তু আমরা সেখান থেকেই শিখেছি এবং সকলেই একসাথে কাজ করেছিলাম। আমাদের কলা-কুশলীরা ছিল অসাধারণ। একটু দ্রুত মুভ করার জন্য আমরা যে ক্রেন ব্যবহার করেছিলাম, আমাদের ক্যামেরা অপারেটর তার সাথে মানিয়ে নিয়েছিল, আর ম্যান্ডি কিছু কোরিওগ্রাফির বিষয় মানিয়ে নিয়েছিল। আমরা পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন এনেছিলাম এবং কয়েক সপ্তাহ পর পুনরায় সেখানে গিয়ে প্রকৃত দৃশ্যটি শ্যুট করেছিলাম। আমরা ভাগ্যবান ছিলাম যে, আমাদের প্ল্যান ঠিক-ঠাক কাজ করেছিল, যেখানে বিষয়টি ছিল এমন যে, ঠিক কোন জিনিসটি আসলে কাজ করবে না, তা জানার জন্যই বারবার অনুশীলন করছ।

অ্যালেক্স বিলিংটন

বিষয়টি বুঝলাম। ‘লা লা ল্যান্ড’ অনেকের কাছেই ‘কারও প্রতি একগুচ্ছ প্রেমপত্র’, যেনবা তা লস এঞ্জেলসের কোনো শহরের প্রতিই তার প্রেমিকের লেখা। আপনি কিভাবে এই লোকেশনগুলো সম্পর্কে জানলেন, কিভাবে সেগুলো নির্বাচন করলেন? এজন্য নিশ্চয় আপনার শহরটির সাথে জানা-শোনা থাকা প্রয়োজন ছিল।

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

এই বিষয়ে আমি বলতে চাই, গত নয় বছর ধরে আমি লস এঞ্জেলসে বসবাস করছি। যখন আমি চিত্রনাট্য লেখা শুরু করি, তখন এর অনেকটাই ছিল সমসাময়িক লস এঞ্জেলস এর কাঠামোগত অবস্থান থেকে লেখা, কিংবা এও বলা যায়, একজন মানুষ যে কিনা শহরটিকে তখনও আবিষ্কার করে চলেছে, বুঝে ওঠার চেষ্টা করছে যে, সে আসলেই এখানে থাকতে পছন্দ করে কি না।

সুতরাং, চিত্রনাট্যে আমি সেই ভালো লাগা, ঘৃণা এই দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক এবং শহরটি একই সাথে কত বেশি সুন্দর ও নিঃসঙ্গ হতে পারে সে বিষয়ে, এমনকি কিভাবে তা নারকীয় ট্রাফিক জ্যাম থেকে রোমান্টিক পটভূমিতে অবতীর্ণ হতে পারে—এসব নিয়ে অনেক বেশি কাজ করতে চেয়েছিলাম। যখন শহরটি এ সবকিছুই ধারণ করে। সিনেমাটির চিত্রনাট্য লেখার শুরু থেকে পরবর্তীতে কলা-কুশলী নির্বাচন, শ্যুটিং সবকিছুই ছিল অসাধারণ, কেননা আমি আমার ঘর সম্পর্কে জানছিলাম, আমার নতুন ঘর ও আরও অনেক বিষয়ে, যা আমার কাছে অনেক বেশি ব্যক্তিগত হয়ে উঠেছিল।

অ্যালেক্স বিলিংটন

এটি আমাকে ‘লস এঞ্জেলস প্লেইজ ইটসেলফ’ প্রামাণ্যচিত্রটির কথা স্মরণ করিয়ে দিল—আপনি কি দেখেছেন?

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

হ্যাঁ। আমি প্রামাণ্যচিত্রটি পছন্দ করি। এই সিনেমা নিয়ে কাজ করার সময় লস এঞ্জেলসকে ঠিকভাবে ধরতে বা তাকে যেভাবে আমরা আগে দেখি নি, সেভাবে দেখাতে এই প্রামাণ্যচিত্র আমার জন্য ছিল বিশাল এক তথ্যভাণ্ডারের মতো।

অ্যালেক্স বিলিংটন

সেখানে পুরোনো দিনের সিনেমা (এবং সংগীত-প্রধান সিনেমা) নিয়ে অনেক আলোচনা রয়েছে, যা থেকে আপনি তথ্য উল্লেখ করছেন বা ধার নিচ্ছেন, কিন্তু আমি জানতে চাই, ঠিক কোথায় আপনি আপনার স্বকীয়তার চিহ্ন রাখতে চান? এই সিনেমাটির মাধ্যমে মানুষ আপনার থেকে কী নেবে—সে বিষয়ে আপনি কি আশা পোষণ করেন?

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

আমার ক্ষেত্রে এই প্রাথমিক ভাবনাই আমাকে পেয়ে বসেছিল যে—তুমি কি পুরোনো দিনের গীতিপ্রধান সিনেমার উচ্চতা ধারণ করতে পারো, তুমি কি পারো পুরোনো দিনের গীতিপ্রধান সিনেমার মিষ্টতা, উচ্চাভিলাস ও জৌলুশ ছপিয়ে যেতে এবং একটি বাস্তব সম্পর্কের অবস্থান থেকে এমন কিছুর সাথে বসবাস করতে, যা একই সাথে প্রগাঢ় ও নির্ভেজাল? কিংবা তুমি কি বিষয়টি একজন কিংবা দুইজন শিল্পীর অবস্থান থেকে বর্ণনা করতে পারো? অদৌ বিষয় দুটো কি একত্রে অবস্থান করতে সক্ষম? এমনকি, আজকের দিনেও কি তাদের সহাবস্থান সম্ভব? যেমন ধরো, যে কোনো দিন কিংবা বয়সে অনেক মানুষ মনে করে যে, তারা গীতিপ্রধান সিনেমা পছন্দ করে না, আর এমন কোনো দিন বা বয়সে যখন তুমি স্বপ্ন নিয়ে সিনেমা বানানোর কথা চিন্তা করবে, তখন তোমাকে অবশ্যই এটা মেনে নিতে হবে যে, বাস্তবতা প্রায়শই তোমার স্বপ্নগুলোর সাথে বাস করে না।

আমরা মনে হয়, আমরা আরও অনেক কিছুর মধ্যেই বাস করি—যেখানে বলা যায় না, ৫০ দশকের মানুষেরা নির্দোষ ছিল, তবে এটা নিশ্চিত বলা যায়, আমরা এখন আর নির্দোষ নই। সুতরাং, আমি এমন একটি সংগীত-প্রধান চলচ্চিত্র বানাতে চেয়েছিলাম যা সেই সত্যতা স্বীকার করবে এবং আমার মনে হয়, সেটাই ছিল এই সিনেমার মূল উদ্দেশ্য বা বিষয়, যা আমরা আগে দেখি নি। তবে এটাও ঠিক যে, আমরা এই উপাদানগুলো অন্যান্য সিনেমাতেও দেখেছি, কিন্তু এভাবে সবকিছুর একত্রীকরণ অন্তত পূর্বে আমরা দেখি নি, আর সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে আমি সেটাই করতে চেয়েছিলাম।


আমি চেয়েছিলাম সিনেমাটি হয়ে উঠুক স্বপ্নের প্রতি একটি প্রেমপ্রত্র


অ্যালেক্স বিলিংটন

শেষ প্রশ্ন হিশেবে জানতে চাই, আপনি কি সত্যিই চান অন্যরাও চলচ্চিত্রকার হিশেবে আপনার অভিজ্ঞতা থেকে শিখুক? যদি কেউ ড্যামিয়েন চ্যাজেলের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চায়, সেক্ষেত্রে তাদের কী করতে হবে; তারা কি নিজেদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবে, এমন কিছু করার চেষ্টা করবে, যা এখন আর করা হয় না?

ড্যামিয়েন চ্যাজেল

হ্যাঁ, আমার তাই মনে হয়, তবে বিষয়টি সম্ভবত আরও বিশাল। যদিও এটা গতানুগতিক উত্তরের মতোই শোনায়, কিন্তু বিষয়টি বড় কোনো স্বপ্ন দেখাও সেই স্বপ্নের জন্য নিজেকে স্বাধীন করে দেওয়ার মতো বিষয়। এক অর্থে বলা চলে, আমি চেয়েছিলাম সিনেমাটি হয়ে উঠুক স্বপ্নের প্রতি একটি প্রেমপ্রত্র, বিশেষত সেই সব স্বপ্নের প্রতি, যা নিয়ে সমাজ সব সময়ই ব্যঙ্গ করে। সে জন্যই আমরা সিনেমাটির নাম দিয়েছি ‘লা লা ল্যান্ড’, যেখানে এটি কেবলমাত্র একটি শহর নয়, বরং এমন এক মানসিক অবস্থা, যখন আমরা অসম্মানিত বোধ করি। ‘লা লা ল্যান্ড’ মূলত এমন মানসিক অবস্থারই প্রতিফলন কিংবা এমন কিছু ব্যক্তির অবাস্তবিক অবস্থান সম্পর্কিত, যেখানে তারা পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, যা করার তা করবেই, অথবা সেই ব্যক্তি সম্পর্কিত, যাকে কোনো শোতে নিয়ে আসা হয়, যখন সে বাস্তবিক অর্থেই কোনো উপদেশ দিতে ব্যর্থ, অথবা সেই ব্যক্তি যে কোনো সরকারি অফিস চালায়, অথবা সেই ব্যক্তি সম্পর্কিত যে শহরের কোনো উদ্ভট স্থানে নিজেদের জন্য বাড়ি বানাতে চলেছে, অথবা সেই ব্যক্তি সম্পর্কিত যে পরিশুদ্ধতম ভালোবাসার খোঁজ করে চলেছে—এসব দেখে আমরা চাপা হাসাহাসি করি, বলি, ঠিক আছে, এগিয়ে যাও, শুভ কামনা রইল।

আমাদের সবার জীবনেই কোনো না কোনো সময়ে এই ধরনের অবাস্তব স্বপ্ন থাকে, কিংবা আমাদের আশেপাশের মানুষজন এই বলে আমাদের তা মনে করিয়ে দেয়, ‘ঠিক আছে, তুমিই ভালো বোঝো, কিন্তু কখন তুমি জেগে উঠবে?’ পক্ষান্তরে আমি চেয়েছি এই সিনেমাটি বরং আমাদের স্মরণ করিয়ে দিক যে, কখনও কখনও জেগে না ওঠাই ভালো, কিছু সময় আমাদের কেবল স্বপ্নই দেখে যাওয়া উচিত, আর সেজন্যই বোধ করি এমার গাওয়া শেষ গানটি আমার কাছে মনে হয়েছে যে—যদি এই সিনেমায় কোনো গবেষণামূলক উদ্ধৃতি থাকে, তবে সেটা হবে তার প্রকৃতি, যা সে গানের মাধ্যমে বলতে চেয়েছে, আর আমার কাছে এই বিষয়টিই মুখ্য।

অরণ্য

অরণ্য

জন্ম ১৯৮১, রাজশাহী। এইচ. আর.-এ এমবিএ। পেশা : ম্যানেজার, এইচ. আর.।

প্রকাশিত বই :
যে বেলুনগুলো রংহীন [কবিতা]
কাক সিরিজ [কবিতা]
এখন আমি নিরাপদ [ছোট গল্প]

ই-মেইল : mail.aronno@gmail.com
অরণ্য