হোম অনুবাদ ব্রাজিলের চার কবি’র কবিতা

ব্রাজিলের চার কবি’র কবিতা

ব্রাজিলের চার কবি’র কবিতা
665
0

কার্লোস দ্রুমেন ডি আন্দ্রাদে’র কবিতা


সন্ধান

মাটি খোঁড়ে পোকা
খোঁড়ে অ্যালার্মছাড়া
ছিদ্র করে ধরিত্রী
না খুঁজে কোনো পালাবার পথ
একটা অবরুদ্ধ দেশ
নিকষ অন্ধকার
শেকড় অথবা আকরিক?
এবং ল্যাবেরিন্থ
(হে রহস্য ও কার্যকারণ)
সহসা নিজেকে করে আবিষ্কার
সবুজ সমীপে, একাকী,
ইউক্লিডবিরোধী,
জন্ম নেয় একটি অর্কিড

 

নিগূঢ় বাসনা

সৌর্য থাকত যদি
যদি খোলাসা করতে পারতাম গোপনীয়তা
পারতাম জানতে পৃথিবীকে
এই ভালোবাসা
চাওয়ায় কোনো খামতি
খামতি কোনো বাসনায়
আরাধ্য হে
যদি বলতে পারতাম উচ্চস্বরে
এইসব সুস্থ পাগলামি
আবদ্ধ হতে চাই তোমার বাহুডোরে
হারাতে চাই চুম্বনে
বাঞ্ছা-ব্যাকুল আমি
পড়ে শোনাই এইসব পঙ্‌ক্তিসকল
চার শব্দের সাক্ষর
বসন্তাশ্রয়ী শব্দ
প্রেরণাদাত্রী হে
তুমিই দ্যোতনা আমার
যদি বলতে পারতাম স্বপ্নের কথা
গোপন বাঞ্ছাসকল
ছাড়তে পারি সব
যদি পাই তোমাসঙ্গ
হে নিগূঢ় বাসনা আমার

 


ম্যানুয়েল ডি বারোস’র কবিতা


নোংরা

আমি পছন্দ করি বর্ণহীন শব্দ, যা পড়ে থাকে
রান্নাঘরের কোনায়—নোংরা, কাঁকর, টিনের ক্যান—
ওগুলোর ওপরে যারা বসবাস করে সহধর্মিতায়—
শব্দরা পরম, অবিক্ষিপ্ত, ঐশ্বর্যশালী
আমার আত্মস্বরূপ নোংরা এবং কাঁকরময়,
রান্নাঘরের কোনায় গর্ত বানায় শয়তানেরা
ওদের একজন পছন্দ করে সেভেন বল, মারিও ও ব্যাঙের ফাঁদ,
লুইসা লেদার রেইন, ইত্যাদি
ওরা সবাই মাতাল এবং কিম্ভূত
ওরা সবাই নেকড়া এবং অপরিচ্ছন্ন
একদিন কেউ পরামর্শ দিল, যাতে আমি
বেছে নেই কোনো সম্মানজনক আত্মস্বরূপ—একজন রাজকুমার
এডমিরাল, অথবা সিনেটর
কিন্তু শয়তান ছাড়া আর কে-ই বা আছে
যিনি আমার শূন্য গৃহকোণে অধিষ্ঠিত হবেন?

 

ক্ষুদে শব্দ

আমার শব্দরা ছোট্ট, খোদা
ওখানে একটা নদী আর কিছু রাস্তা আছে মাত্র
আমাদের বাড়ির পেছনদিকে জল
পিতামহীর গোলাপবাগানের প্রান্ত অলংকৃত করে পিপড়ারা
পেছন আঙিনায়, একটা বালক
আছে তার বিস্ময়ের টিনের ক্যান
তার চোখ বাড়িয়ে দেয় নীলের আধিক্য
সেই জায়গার সবকিছুর সাথে আছে
পাখিদের সন্ধি।
সেখায় যদি আরেকটু রাঙা হয় দিগন্ত,
গুবরে পোকারা ভাবে আগুন
ওখানে নদী ঠেলে দেয় একটি মাছ
নদী আমাকে একটি চিন্তা
নদী আমাকে একটি ব্যাঙ
নদী আমাকে একটা গাছ
সন্ধ্যায়, এক বুড়ো বাঁশি বাজায়
যাতে উল্টে যায় সূর্যাস্ত।

 


জুয়্যো কাবরাল ডি মেলো নেতো’র কবিতা


কবিতা শিক্ষা

বয়ে গ্যালো সারাটা সকাল
স্থির সূর্যের মতো
সমুখে শাদা পৃষ্ঠা:
পৃথিবীর প্রারম্ভ, নতুন চাঁদ

তুমি আর খুঁজে পাচ্ছ না
একটি পঙ্‌ক্তির ভেতর এমনতর সমারোহ;
কোনো নাম নয়, নয় কোনো ফুল
টেবিলের গ্রীষ্মে নেই কোনো প্রস্ফুটন,

এমনকি উজ্জ্বল মধ্য দিবসে
কাগজের আদলে কেনা সংবাদপত্র
যা ধারণ করতে পারে
যে কোনো প্রকারের শব্দ।

 

টেবিল

শাদামাটা টেবিলে
ভাঁজ করা খবরের কাগজ;
পরিচ্ছন্ন টেবিলক্লথ,
শাদা গামলাগুলো

এবং টাটকা মতো রুটি।

সবুজ খোসার কমলালেবু:
তোমার অফুরান ল্যান্ডস্কেপ,
তোমার খোলা হাওয়া, সূর্য
তোমার সৈকতের : উজ্জ্বল

এবং টাটকা মতো রুটি।

চাকু যা ধারাল করে
তোমার ভোঁতা পেন্সিল;
তোমার প্রথম বই
যার প্রচ্ছদ শাদা

এবং টাটকা মতো রুটি।

আর জন্ম নেয় পঙ্‌ক্তি
তোমার যাপিত জীবনের,
তোমার দেখে ফেলা স্বপ্ন:
এখনও তপ্ত, আলো

এবং টাটকা মতো রুটি।

 


ভিনিসিয়াস ডি মোরায়েস’র কবিতা


ভালোবাসা, তোমার জন্য

প্রেম পৃথিবীর ফিসফিসানি
যখন নিভে যায় তারা
থেমে যায় বাহিত বাতাস
জন্ম নেয় দিন…
বিশ্বস্ত হাসি
উজ্জ্বল আনন্দ
ঠোঁটের, সেই উৎসভূম
এবং ঢেউ যা ভারসাম্য রক্ষা করে
সমুদ্রের…

প্রেমই স্মৃতি
ওকে খুন করতে পারে না সময়
সবিশেষ প্রেমসংগীত
সুখী ওবং অর্থাতীত

অশ্রুত এই গান

নীরবতা যা দোলায়
আর পূর্ণ করে কানায় কানায়
একটি কম্পিত হৃদয়
যখন একটি পাখির
গানের সুর
তার মাঝে থাকতে চায় অমলিন

ঈশ্বরের পূর্ণতা প্রেম
সেই অসীম ব্যাপ্তি
উপহার যা মেলে
রৌদ্র ও বরিষাধারায়,
হোক সে পর্বতরাজি
হোক হুহু প্রান্তর
ঝরে পড়ে বৃষ্টি
আর রংধনু শেষে
মেলে ধরে গুপ্তধন

 

বিদায়ের সান্ধ্যগীত

আহ, চাঁদ ফুটে ওঠো অম্বরে
তোমার মতো নয় সে
জন্ম যার আমারই বাহুডোরে
আমাদের প্রেমে নেমে আসে রাত
এখন ভালোবাসার তবে অবশিষ্ট শুধু
একটি শব্দ—বিদায়

আহা, চাইছি থাকতে
তবু যেতে হচ্ছে দূর
আহা, যেতে হবে প্রেম, হবে মৃত্যু
সারাটা জীবন
কান্নায় খুঁজতে হবে প্রিয়মুখ
এই ক্ষণিকতা
একটি নিখাদ নক্ষত্র হতে
নিভে গেছে যার আলো

হে নারী, নক্ষত্র উজ্জ্বল
ভেঙে পড়ে, কিন্তু যাবার আগে
হৃদয়ের রক্তক্ষরণ
নখর যন্ত্রণা হয়ে বিদ্ধ করে বুক
প্রেম মেশে রক্তধারায়
সব বিভ্রম

আহা, চাইছি থাকতে
তবু যেতে হচ্ছে দূর
আহ, কত মধুময় প্রস্থান, এই মৃত্যু
সারাটা জীবন
অশ্রুজলে বিম্বিত
এই ক্ষণিকতা
একটি নিখাদ নক্ষত্র হতে
নিভে গেছে যার আলো
নিকষ রাত
আমার মতো বিমর্ষ

মাজুল হাসান
মাজুল হাসান

মাজুল হাসান

কবি ও গল্পকার
জন্ম : ২৯ জুলাই ১৯৮০, দিনাজপুর।
পড়াশুনা করেছেন দিনাজপুর জিলা স্কুল, নটরডেম কলেজ
ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অর্নাস।।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
বাতাসের বাইনোকুলার ● বাঙলায়ন প্রকাশনী, ২০১০।
মালিনী মধুমক্ষিকাগণ ● বাঙলায়ন প্রকাশনী, ২০১৪।
ইরাশা ভাষার জলমুক ● চৈতন্য, ২০১৬।

প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
টিয়ামন্ত্র ● ভাষাচিত্র প্রকাশনী, ২০০৯।
নাগর ও নাগলিঙ্গম ● বাঙলায়ন প্রকাশনী, ২০১২।

অনুবাদগ্রন্থ:
টানাগদ্যের গডফাদার, রাসেল এডসনের কবিতা ● চৈতন্য, ২০১৬।

মাজুল হাসান পেশায় সাংবাদিক। বর্তমানে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বার্তা বিভাগে কর্মরত।
মাজুল হাসান
মাজুল হাসান