হোম অনুবাদ পাওলো কোয়েলোর সাথে আলাপ

পাওলো কোয়েলোর সাথে আলাপ

পাওলো কোয়েলোর সাথে আলাপ
1.06K
0

[১৯৯৬ সালে আমেরিকার বিখ্যাত সংগীতশিল্পী, গীতিকার, অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী ও ব্যবসায়ী ম্যাডোনা দিয়েছিলেন পাওলো কোয়েলো-র বই দ্য আলকেমিস্ট অপ্রা উইনফ্রে-কে পড়তে। বইটি পড়ার পর, অপ্রা খুব আগ্রহী হলেন বইটির লেখক সম্বন্ধে ভালো করে জানতে। তাই ২০১৪ সালে অপ্রা এলেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভা-তে পাওলোর সাক্ষাৎকার নিতে। অপ্রা উইনফ্রে হলেন একজন স্বনামধন্য আমেরিকার মিডিয়া মালিক, আলোচিত টিভি টক শো প্রেজেন্টার, অভিনেত্রী, প্রযোজক, লোকহিতৈষী। সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে দেওয়া হলো।]


সা ক্ষা কা


অপ্রা উইনফ্রে

অহ্! আমি আপনার এখানে আসতে পেরে খুব খুশি!

পাওলো কোয়েলো

অবাক ব্যাপার! ধন্যবাদ আপনাকে এখানে আসার জন্যে।

অপ্রা উইনফ্রে

“অবাক ব্যাপার” ঠিকই! আমি তার কাছে এসেছি, যিনি দ্য আলকেমিস্ট লিখেছেন।

পাওলো কোয়েলো

কিন্তু আমি তো গুরু না।

অপ্রা উইনফ্রে

আমি জানি আপনি গুরু না।

পাওলো কোয়েলো

নাহ, না না না না।

অপ্রা উইনফ্রে

আপনি একজন লেখক এবং একজন শিক্ষক আর একজন…..

পাওলো কোয়েলো

একজন সাধারণ ছাত্র।

অপ্রা উইনফ্রে

পুরোদস্তুর। তো গত বছর দ্য আলকেমিস্ট-র পঁচিশ বছর পূর্তি হলো। এটা আসলেই অনন্যসাধারণ কাজ। আজ আমি এখানে আসার আগে একজনের সাথে বইটা সম্পর্কে বলতেছিলাম। ওটার কথা বলতে আমি টালিসম্যান শব্দটা ব্যবহার করি। মানে বলতে চাই অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন একটা কিছু। অনেকের বিবেচনায় ওটা তাই। কতবার যে পড়েছি, প্রত্যেকবারই ওটা থেকে কিছু পেয়েছি। আপনারও কি এমন মনে হয়? আপনি কি বার বার পড়েছেন আপনার বইটি?

পাওলো কোয়েলো

অনেকবার। আমি প্রায়ই অভিভূত হই এই জন্যে যে, কেমনে আমি এটা লিখলাম! কারণ আমি তো খুব ভালো লেখক না। এখনও আমি শ্রেষ্ঠ লেখক না।

অপ্রা উইনফ্রে

সত্যিই কি আপনি বইটি দু সপ্তাহে লিখেছিলেন?

পাওলো কোয়েলো

হ্যাঁ, লেখা শেষ করে বইয়ের নাম লিখি, তারপর প্রথম দুই পৃষ্ঠা লিখি। প্রথম বাক্য হলো, “বালকটির নাম সান্তিয়াগো।”

অপ্রা উইনফ্রে

হুম।

পাওলো কোয়েলো

কারণ আর্নেস্ট হেমিংওয়ের দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী আমাকে খুব স্পর্শ করেছিল। ঐ বইয়ের প্রধান চরিত্রের নামও সান্তিয়াগো।


ভয় অনেক আছে আমার, অপ্রা, কিন্তু আমি আমার স্বপ্নের প্রতি মনোযোগী, লেখক হতে সেরকম হতে হয়।


অপ্রা উইনফ্রে

আমি অবাক হতাম যদি আপনি স্পেনে ট্রায়ালের পর তার নাম রাখতেন এল কেমিনো ডি সান্তিয়াগো, যা নিয়ে আপনি আপনার দ্য পিলগ্রিমেজ বইটিতে লিখেছিলেন।

পাওলো কোয়েলো

না, ব্যাপারটা হেমিংওয়ের কারণে।

অপ্রা উইনফ্রে

দ্য আলকেমিস্ট তো প্রকাশের পরপরই বেস্ট সেলার হয় নি।

পাওলো কোয়েলো

হ্যাঁ, ঠিক। বইটা প্রকাশের পর প্রকাশক বলেছিলেন, “বইটা বিক্রি হচ্ছে না।” আমি জবাবে বলছিলাম, “কিছু সময় দেন।” তারা বললেন, “না না এই বই পাঠকের মন ধরবার বই না।” কিন্তু বইটাতেই একটা কথা আছে—”যদি তুমি আসলেই কিছু পেতে চাও—চেষ্টা করো, মহাবিশ্বের সবকিছু সারাক্ষণ তোমার পক্ষে গোপনে তৎপর হয়।”

অপ্রা উইনফ্রে

হ্যাঁ।

পাওলো কোয়েলো

আর আমি মনে করতাম, “আমি লিখেছি এই কথা, এই চিন্তার আলোকে আমার জীবন চলবে।”

অপ্রা উইনফ্রে

ওয়াও!

পাওলো কোয়েলো

তখন আমি দরজায় দরজায় কড়া নাড়া শুরু করলাম। বিশ্বাস করেন, অপ্রা, প্রথম যে দুয়ারে গেলাম, ওটা ব্রাজিলে খুব গুরুত্বপূর্ণ পাবলিশিং হাউস। একজন দরজা খুললেন। বললাম, “আমার কাছে একটা বই আছে। এটা মেধাবী কারও পাণ্ডুলিপি না। কিন্তু আমার বিশ্বাস বইটা চলবে।” লোকটি বললেন, “ঠিক আছে আমি বইটা প্রকাশ করব।” তিন বছর পর বইটা আধা মিলিয়ন কপি বিক্রি হলো ব্রাজিলে। আমি তাকে জিগ্যেস করি, “প্রথমবার যে বই চলল না, সেটা পুনর্মুদ্রণ করলেন কেন?” উনি উত্তর দিলেন, “আমি জানি না।”

অপ্রা উইনফ্রে

ব্যাপারটা দেখছি তকদিরের হিশাবের মতন। যেন-বা বিশ্বাস হওয়ার না।

পাওলো কোয়েলো

একদম ঠিক। তকদিরে বিশ্বাস রাখি আমি।

অপ্রা উইনফ্রে

আপনি জানেন, পণ্ডিত লোক জোসেফ ক্যাম্পবেল দুঃসাহসিক ভ্রমণ নিয়ে লিখেছেন। সাহসী অভিযাত্রী বাড়ি ছাড়ে, বাধা বিঘ্ন পেরিয়ে যায়, অসাধারণ কিছু পায়, বাড়ি ফিরে আসে নতুন পাওয়া মূল্যবান আত্মজ্ঞান শেয়ার করার জন্যে। সান্তিয়াগোর গল্পটাও এইরকম।

পাওলো কোয়েলো

হ্যাঁ হ্যাঁ।

অপ্রা উইনফ্রে

কেন আপনি ভাবেন যে দুঃসাহসিক ভ্রমণের কথা মানুষকে খুব গভীরভাবে নাড়া দেয়?

পাওলো কোয়েলো

কারণ সবাই অমন হতে চায়, কিন্তু পারে না।

অপ্রা উইনফ্রে

কারণ তারা ভয় পায়।

পাওলো কোয়েলো

হুম।

অপ্রা উইনফ্রে

শুরুতে যখন সান্তিয়াগোর বাবা তাকে বোঝাচ্ছিলেন না যেতে, ছেলেটা টের পেল তার বাবার মনে সে চলেই গেছে। আপনি লিখেছেন, “তিনি দোয়া দিলেন ছেলেটিকে। সে তার বাবার চোখে দেখতে পেল একটা বাসনা আছে জগৎ ঘুরে বেড়াবার, বাসনাটা জিন্দা আছে, কিন্তু তার বাবা সেটা লুকিয়ে রাখতে বাধ্য ছিলেন যুগ যুগ ধরে। তিনি খাবার পানি সংগ্রহের জন্যে, দুমুটো খাবারের জন্যে সংগ্রামের ভার বইছিলেন….”। বেশিরভাগ মানুষ তো এভাবে জীবন সংগ্রামের চাপে পড়ার কারণে স্বপ্ন হারিয়ে ফেলেন।

পাওলো কোয়েলো

কিন্তু সব সময় ভেতরের শিশুটি বলতে থাকে, “হেই স্বপ্নটা মনে আছে তো?”

অপ্রা উইনফ্রে

হ্যাঁ, আসলে সাহসের ব্যাপারটা হলো পা ফেলা আগের দিকে আর স্বপ্নের মাঝে বেঁচে থাকা। এই সাহসটুকু দরকার।

পাওলো কোয়েলো

হ্যাঁ, ভয় অনেক আছে আমার, অপ্রা, কিন্তু আমি আমার স্বপ্নের প্রতি মনোযোগী, লেখক হতে সেরকম হতে হয়। যখন আপনি বই লিখেন, আপনাকে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। আমি দেখেছি, অনেক লেখক ব্যর্থ হয়ে এবং সফল হয়ে অচল হয়ে যান। তারা কেউ একটা সফল বই লিখে থেমে যান, আর লিখেন না। আমি চালিয়ে যাচ্ছি, কারণ আমার কাজের ব্যাপারে আমি খুব কৌতূহলী।

অপ্রা উইনফ্রে

আপনার একত্রিশটা বই প্রকাশিত এবং লেখা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পাওলো কোয়েলো

দেখেন, আমি তো গুনতি করি না!

অপ্রা উইনফ্রে

তাইলে আপনার মনে এই ভয় কি ছিল না যে আলকেমিস্ট-র ভেতরের ব্যাপারের পুনরাবৃত্তি করে ফেলতে পারবেন না?

পাওলো কোয়েলো

না না, আলকেমিস্ট এক জীবনে একটাই আসে। আমার কিছু বই আছে যেগুলো বাজার পায় নি, কিন্তু আমি লিখে যাচ্ছি।

অপ্রা উইনফ্রে

তাহলে আপনার স্বপ্ন, মানে, একজন লেখক হওয়ার স্বপ্ন আপনার, এটা কি আলকেমিস্ট-এ উল্লেখ করা ‘পার্সোনাল লিজেন্ড’ হওয়া বোঝায়? (সান্তিয়াগোর দুঃসাহসিক অভিযাত্রার উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর জীবনে তার ভাগ্য নির্ধারিত কাজ বুঝে নিয়ে বিশ্ব-আত্মাকে উপলব্ধিতে আনা।)

পাওলো কোয়েলো

আপনি এই জীবনে এসেছেন, এটাই ‘পার্সোনাল লিজেন্ড’, ব্যাপারটা এই-ই। আপনি বুঝতে পারছেন এখানে দিন ক্ষণ কাটছে এমন কিছু বিষয়-আশয়ের সাথে যা অর্থহীন। কিন্তু আপনি জানেন, কোনো একটা কারণে আপনি এখানে এসেছেন। এই কারণটা আপনাকে উদ্দীপনা দিচ্ছে।


আপনি চলার পথে ভুল পথে গেলেও কিছুদূর, খোদা আপনার অন্তরের বিশুদ্ধতা দেখছেন, তিনি আপনাকে সঠিক পথে নিয়ে আসবেন।


অপ্রা উইনফ্রে

এটাকে আমি বলতে পারি খোদা কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্য।

পাওলো কোয়েলো

হ্যাঁ, আর দেখেন, আপনি উদ্দীপনার অভাবে থাকা মানে আপনার পার্সোনাল লিজেন্ডের বিরোধিতা করা।

অপ্রা উইনফ্রে

এবং আপনি বিশ্বাস করেন আমাদের সকলের একটা ভাগ্য আছে।

পাওলো কোয়েলো

আমি ষোলআনা তাই বুঝি। তবে যারা মনে করেন, তারা তকদির অনুযায়ী চলছেন, ওদের বিশ্বাস ঠিক আমার বিশ্বাসের মতো না। আমি মনে করি সকলেই কোনো কারণেই এ জীবনে আসেন। আমরা জানি না অই পথে সঠিকভাবে যাচ্ছি কি না। যদি আমরা সৎ থাকি, খোদা আমাদের দিশা দিবেন। এমনকি যদি আপনি চলার পথে ভুল পথে গেলেও কিছুদূর, খোদা আপনার অন্তরের বিশুদ্ধতা দেখছেন, তিনি আপনাকে সঠিক পথে নিয়ে আসবেন।

অপ্রা উইনফ্রে

তখন নিখিল সৃষ্টি আপনার দেখা পেতে ছুটে আসবে।

পাওলো কোয়েলো

হ্যাঁ।

অপ্রা উইনফ্রে

দ্য আলকেমিস্ট-এ প্রথম দিকে, সান্তিয়াগোকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা সম্পর্কে। ওটা কী?

পাওলো কোয়েলো

সেটা জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করবার ব্যাপারটা। মানে, একটা সিস্টেম আছে, একটা এস্টাবলিশমেন্ট আছে, সেখানে আপনার কিছুই নিয়ন্ত্রণ ব্যাপার নাই। যখন আপনি কোনো নিয়মাবলী মানার ব্যাপারে একমত হচ্ছেন, সেটি আসলে আপনার মানার নিয়ম-কানুন না, তখন আপনি সবচেয়ে বড় মিথ্যাকে আপন করে নিচ্ছেন। যখন আপনি বলেন, “আমাকে করতে হবে।” তখন অনেকে বলেন, “আমি কি আলাদা কিছু হতে যাচ্ছি? আমি কি মানুষকে হতাশ করতে যাচ্ছি? না।” আমি আপনাকে আমার অভিজ্ঞতা বলি, যখন আমি লেখক হতে সিদ্ধান্ত নিলাম, আমার মা বাপ আমাকে অনুৎসাহিত করতে সবকিছু করেছেন।

অপ্রা উইনফ্রে

আপনি কী হবেন তারা চেয়েছিলেন?

পাওলো কোয়েলো

একজন প্রকৌশলী। তারা আমাকে ঘুষ দিতে চেয়েছিলেন। তারা আমাকে খরচের টাকা দেয়াও বন্ধ করে দিলেন। তারপর মনোচিকিৎসক দেখালেন। তারপর তারা বুঝলেন তাদের আশা পূরণ হবে না আমার দ্বারা। মানুষকে বললেন আমার সম্পর্কে, “এই ছেলে আউলাজাউলা, আমরা তাকে ভালোবাসি, কিন্তু সে ক্রেজি।” পরে তারা আমাকে মানসিক হাসপাতালে রাখলেন।

অপ্রা উইনফ্রে

তারা আপনাকে মানসিক হাসপাতালে রাখলেন এই কারণে কি যে আপনি লেখক হতে চান?

পাওলো কোয়েলো

কারণ আমি শিল্পী হতে চেয়েছিলাম। শিল্পী, বুঝতে পারছেন, না খেয়ে মরবার ব্যাপার। তারা সমকামী, তারা ড্রিংক করেন।

অপ্রা উইনফ্রে

অরে বাপরে! তাই তারা আপনাকে পাগলা গারদে রাখতে চাইলেন?

পাওলো কোয়েলো

তিনবার, আসলে, আমি ভাগতাম! কিন্তু অপ্রা, আপনাকে বলি, তারা অমন করতেন না আমাকে ঘৃণা করে। তারা চাইছিলেন আমাকে সাহায্য করতে। তারা আসলেই ভাবছিলেন আমি ক্রেজি। ব্রাজিলের সমাজ খুব পিছিয়ে পড়া। আমরা সামরিক একনায়কতন্ত্রের কবলে বাঁচতাম। তাদের মনে অনেক কিছুর ভয় কাজ করত। এর মাঝে আমি বলতাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব না।

অপ্রা উইনফ্রে

তো পাগলা গারদে থাকাতে নিজের সম্পর্কে কী বুঝলেন?

পাওলো কোয়েলো

বেশ, ব্যাপারটা মুক্তির স্বাদ দিয়েছিল খুব। আমি বুঝলাম আমি ক্রেজি, অতএব যা খুশি করতে পারি। যদি খারাপ কিছু ঘটে, আমি স্যরি বলতে পারি। কারণ আমি কেবল বের হলাম পাগলা গারদ থেকে। ফলে আমি যখন পালাই,  হিপি হয়ে যাই।

অপ্রা উইনফ্রে

সেক্স, ড্রাগস আর রক এন রল, সবকিছুতে থাকতেন?

পাওলো কোয়েলো

হ্যাঁ, আর ঘুরতাম। অইভাবেই আপনার দেশে (আমেরিকা) প্রথম যাই আমি। দু শ ডলার পকেটে নিয়ে, ইংরেজি না জানা আমি নিউইয়র্ক, পরে সেখান থেকে সানফ্রান্সিসকো যাই। কারণ আপনাদের ছিল অই দুই প্রতিষ্ঠান ওয়াইএমসিএ আর গ্রেহৌন্ড বাস, আমি জানি না এখনও আছে কিনা।

অপ্রা উইনফ্রে

হ্যাঁ। (হাসতে হাসতে)

পাওলো কোয়েলো

বাস স্টেশনে গিয়ে বলতাম আট ঘণ্টা লাগবে যেতে অত-দূরের টিকিট দেন, কারণ আমার ঘুমানো দরকার ছিল।

অপ্রা উইনফ্রে

অরে বাবা! তাহলে সেই সময়েই কি আপনি আসলে লেখক হয়ে গিয়েছিলেন?

পাওলো কোয়েলো

আমি সংকল্পবদ্ধ ছিলাম লেখার ব্যাপারে। কিন্তু তখনও লিখতে পারা অসম্ভব ছিল। আমার মা বাবা বলছিলেন, তারা অই সময়ের জন্যে ঠিক ছিলেন। তাই গান লিখা শুরু করি আমি। গীতিকার হই। এতে বেশ টাকা রুজি হয় আমার। তখন আমার মা বাবার বুঝে আসে, আমি ক্রেজি হলেও টাকা কামাতে পারি।


আমার স্বপ্নের বাস্তবায়ন ছাড়া আমার বাঁচা সম্ভব না। আমার উদ্দীপনা আমাকে ঘা দিতে দিতে শেষ করে দিচ্ছিল।


অপ্রা উইনফ্রে

তাহলে সোজা বলি, আমেরিকা ঘুরে বেড়ানো কি আপনার ‘পার্সোনাল লিজেন্ড’ আবিষ্কারের অংশ?

পাওলো কোয়েলো

হ্যাঁ অংশ। আমার ভাগ্যতে লেখা ছিল লেখক হওয়া। এবং আমি ঐদিনগুলো থেকে মুক্ত হওয়া শুরু করছিলাম। ১৯৮২-তে আমি ক্রিস্টিনাকে বিয়ে করি, ভালো একটা চাকরি পাই। কিন্তু তাতেই আমি সন্তুষ্ট ছিলাম না। এটাই উদ্দীপনার ব্যাপার। তাই একদিন ওকে বললাম, “ক্রিস্টিনা, মানুষ সাধারণত যেসবের স্বপ্ন দেখে, আমাদের ওসব আছে কিন্তু মজা লাগছে না আমার এই রকম জীবন-যাপন।” আমাদের কিছু এপার্টমেন্ট ছিল, আর ছিল ১৭ হাজার ডলার। তাকে বলি, ১৭ হাজার ডলার দিয়ে আসো জীবনের অর্থ খুঁজি। ঐ টাকা দিয়ে আমরা দুই বছর ঘুরতে পারব।”

অপ্রা উইনফ্রে

কারণ আপনি মনে করতেন, আমাদের উচিত, অন্তরের তাগাদার আলোকে নিজের তকদিরের ফয়সালাকে খুঁজে বের করা—সম্মান করা।

পাওলো কোয়েলো

একদম বরাবর বলেছেন। তাই আমরা ঘুরতে বের হলাম। তখন আমার বয়স ৩৯, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আমার স্বপ্নের বাস্তবায়ন ছাড়া আমার বাঁচা সম্ভব না। আমার উদ্দীপনা আমাকে ঘা দিতে দিতে শেষ করে দিচ্ছিল। তাই সবকিছু ছেড়ে দিয়ে ফুল-টাইম লিখতে থাকি। আমি চিন্তিত ছিলাম আমার বউকে আর মা বাবাকে হতাশ করা নিয়ে। তবে এটা বুঝতে পারছিলাম আমি যেভাবে খোশ থাকি তারা সেটা চান।

অপ্রা উইনফ্রে

এবং ১৯৮৮-তে আপনি দ্য আলকেমিস্ট প্রকাশ করলেন।

পাওলো কোয়েলো

হ্যাঁ।

অপ্রা উইনফ্রে

কিন্তু আপনি কি জানেন, সব মানুষ জানে না তারা কেন এসেছে পৃথিবীতে? জানে না তাদের ‘পার্সোনাল লিজেন্ড’ কী? জানে না কী তার অন্তরের ডাক আসলে। মানুষ প্রায়ই আমাকে বলেন, “জীবনে আমার কী করা উচিত আমি জানি না।”

পাওলো কোয়েলো

তারা জানেন। এটা মেনে নেয়া বেশ জটিল যে, অপ্রা, আপনি জানেন আপনার কী করতে হবে অথচ আপনি তা করছেন না। কারণ যে মুহূর্তে আপনি বুঝলেন আপনার কী করা উচিত, তখন থেকে আপনার উচিত হবে, হয় অনেক কিছু ছেড়ে দেওয়া, নয়তো এটা বুঝে নিয়ে জীবন যাপন করা যে, বেঁচে থাকার অলৌকিক ব্যাপার আপনার জীবনে পুরোদমে জমা করছেন না।

অপ্রা উইনফ্রে

আলকেমিস্টের ঐ ব্যবসায়ীর মতো যিনি সব সময় চেয়েছেন মক্কা যেতে কিন্তু যাওয়া স্থগিত করতে থাকেন এবং শেষে বুঝতে পারেন তিনি আসলে কখনও যেতে প্রস্তুত ছিলেন না।

পাওলো কোয়েলো

হ্যাঁ, আমি মনে করি আমার জীবন থেকে এটা শিখেছি।

অপ্রা উইনফ্রে

তার মানে আপনি বলছেন, অনেক মানুষ তাদের ‘পার্সোনাল লিজেন্ড’ বুঝে নিতে চেষ্টা করে না ব্যর্থ হওয়ার ভয়ের কারণে। আলকেমিস্টের এই কথা আমার পছন্দ—”ভয়কে পাত্তা দিও না,’ বললেন আলকেমিস্ট, অবাক করা ভদ্র স্বরে। ‘যদি ভয়কে পাত্তা দাও, তুমি তোমার হৃদয়ের সাথে কথা বলতে সমর্থ হবে না।”

পাওলো কোয়েলো

প্রত্যেক অন্তরে ভয় আছে। একটা হৃদয় ফুলের মতো, আপনি জানেন? ওটা খুব সাহসী হতে পারে আবার খুব সহজে আঘাত করা যেতে পারে।

অপ্রা উইনফ্রে

উমমম… হুমম।

পাওলো কোয়েলো

আমি অনেকবার পরাজিত হয়েছি এবং অনেক বিষয়ে আমি এখনও ভয় পাই। কিন্তু আসল কথা হলো, হাল ছেড়ে না দেয়া।

অপ্রা উইনফ্রে

ঠিক বলেছেন। তো আপনি ছোটবেলায় আপনার ডায়রিতে এসব লিখে রাখতেন : “প্রত্যেকদিন দেখছি আমার লক্ষ্যে পৌঁছা খুব কঠিন ব্যাপার। মানে, সম্মানিত এবং বিখ্যাত হওয়া, শতাব্দীর সেরা বইয়ের লেখক হওয়া, যেখানে থাকবে সহস্র বছরের চিন্তা, মানবিকতার ইতিহাস।”

পাওলো কোয়েলো

(হাসি) বেশ, ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা আমার সব সময় কিছুটা ছিল।

অপ্রা উইনফ্রে

অহ! বাপরে বাপ! তো প্রথম কে লিখেছে তার নিজের সম্পর্কে ওসব?

পাওলো কোয়েলো

এমন কেউ যাকে পাগলা গারদে ঢুকানো দরকার।


যদি তুমি কিছু চাও, সরে দাঁড়াও, তোমার আকাঙ্ক্ষার জিনিসটা তোমার কাছে আসতে দাও।


অপ্রা উইনফ্রে

(হাসি) তখন কি জানতেন পুরা দুনিয়া কানাঘুষা করবে আপনাকে সাহায্য করতে, যাতে শতাব্দীর আলোচিত বইটা প্রকাশ করতে পারেন?

পাওলো কোয়েলো

সম্ভবত না। কিন্তু আমিই একমাত্র জোয়ান না যিনি এমন লিখেন। যদি আপনি ভাবেন ছোট, তাইলে আপনার দুনিয়া ছোট, বড় ভাবলে বড়ই হবে। আমি বলতে চাচ্ছি, নিজের শক্তি সম্পর্কে একটা আত্মউপলব্ধির মতো ব্যাপারটা, যা ব্যাখ্যা করা খুব কঠিন।

অপ্রা উইনফ্রে

বিস্ময়কর ব্যাপারটা।

পাওলো কোয়েলো

কিন্তু অপ্রা, আপনি জানতে চান, দ্য আলকেমিস্ট আমি লিখেছিলাম কিনা? আমি নিশ্চিত না। আমি নিশ্চিত যে, কাজ সম্পাদনের জন্যে আমি একটা ভালো যন্ত্র। মানে আমাকে অভিজ্ঞতা দেয়া হলো, নির্বাসিত করা হলো, উদ্দীপনা দেয়া হলো, তারপর একটা বই লিখলাম। আমি লিখেছি না বলে এভাবে বলাটা ঠিক মনে করি। এভাবে আপনি আপনার অন্তরের ডাকে সাড়া দিন, একদিন আপনার হাতের দ্বারা অনবদ্য কিছুর দেখা মিলতে পারে। এই-ই হলো আসল আলকেমি—এটাই দারুন কিছু—এটাই আসল জাদু।

অপ্রা উইনফ্রে

হ্যাঁ।

পাওলো কোয়েলো

এবং সকলের দ্বারা এমন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

অপ্রা উইনফ্রে

ওয়াও!

পাওলো কোয়েলো

বছরের পর বছর গেছে দ্য আলকেমিস্ট থেকে একটা উপমা ব্যবহারের স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। আমার একটা স্বপ্ন ছিল, কিন্তু তা পুরা করবার সাহস এখনও হয় নি। কিন্তু পরে আপনি মনোযোগ দিলেন, এখানে একটা ওখানে একটা প্রতীক, আপনি যদি একত্রে মিলান, ধাঁধাটা আপনার বুঝে আসবে।

অপ্রা উইনফ্রে

আলকেমিস্ট সান্তিয়াগোকে শেখান, “তোমার অন্তর কী বলে শোন, অন্তর জানে সব…”

[নেপথ্যে তুমুল হাততালি; একটা ঝড়ো হাওয়ার আওয়াজ।]

পাওলো কোয়েলো

এটা একটা উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত। সাক্ষাৎকার থেকে এটুকু বাদ দিবেন না!

অপ্রা উইনফ্রে

[হাসি] না না বাদ দেবো না। খোদা নিশ্চয়ই অই উদ্ধৃতি পছন্দ করেছেন। ঠিক আছে। তো আলকেমিস্ট শেখায় সান্তিয়াগোকে যে, “হৃদয় জানে সব। কারণ ওটা এসেছে বিশ্ব-আত্মা থেকে, এবং একদিন ওটা ফিরে যাবে বিশ্ব-আত্মার কাছে।”

পাওলো কোয়েলো

হ্যাঁ।

অপ্রা উইনফ্রে

কিন্তু সান্তিয়াগো যখন তার ‘পার্সোনাল লিজেন্ড’ খুঁজতেছিল, তার নিয়ন্ত্রণের বাইরের শক্তির সাথেও দেখা হয়েছে। আমার পছন্দ হয়েছে যেভাবে আপনি লিখেছেন যে, যখন মরুভূমির মধ্যিখানে দিশাহারা, সে বাধা এড়িয়ে, মানে বালিয়াড়ির দিকে গিয়ে, যুদ্ধে লিপ্ত উপজাতিদের দিকে না যাওয়া। তবে যখন সে ফিরে আসে ঠিক পথে, সে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে। আমাদের জীবনও সেরকম।

পাওলো কোয়েলো

বরাবর।

অপ্রা উইনফ্রে

বাধাবিঘ্ন কখনও আমাদেরকে আপন পথ থেকে সরায়। কিন্তু যখন আপনি বুঝতে পারবেন আপনার কোথায় যাওয়া উচিত আর কোথায় যাচ্ছেন…

পাওলো কোয়েলো

হ্যাঁ।

অপ্রা উইনফ্রে

তাহলে আপনাকে আমি জিগ্যেস করি, সান্তিয়াগো কি তার তকদির নিয়ন্ত্রণ করছিল?

পাওলো কোয়েলো

অল্পবিস্তর।

অপ্রা উইনফ্রে

[হাসি]

পাওলো কোয়েলো

আপনার দরকার… আচ্ছা, ইয়ে, কখনও আপনার দরকার সুশৃঙ্খলভাবে চলা, কখনও জীবন যেদিকে নেয় সেদিকে যেতে হয়।

অপ্রা উইনফ্রে

নিদর্শনসমূহের দিকে মনোযোগ দিয়ে।

পাওলো কোয়েলো

আপনাকে আপনার ইচ্ছাশক্তির ভারসাম্য রাখতে হবে। বেসামাল না হওয়া। দড়ি ঢিলা দিতে হবে আবার টানতে পারতে হবে এবং প্রবাহে থাকতে হবে।

অপ্রা উইনফ্রে

ওটা খুব দরকার।

পাওলো কোয়েলো

জেন প্রবাদ একটা আছে—মূলত যদি তুমি কিছু চাও, সরে দাঁড়াও, তোমার আকাঙ্ক্ষার জিনিসটা তোমার কাছে আসতে দাও।

অপ্রা উইনফ্রে

মানে, আমাদের দরকার ইচ্ছাশক্তি আর উদ্দীপনা, এরপর আমাদের দরকার সমর্থন।

পাওলো কোয়েলো

বরাবর।

অপ্রা উইনফ্রে

বইটিতে আপনি লিখেছেন, “স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগে, পথটিতে চলতে চলতে যা কিছু শিখা হয়েছে, ওসবের পরীক্ষা নেন বিশ্ব-আত্মা। এটা করা হয় না স্বপ্নটি মন্দ বলে, করা হয় যাতে আমরা স্বপ্ন ভালো করে বুঝে নিতে পারি, যাতে শেখাটা পাক্কা হয়ে ওঠে যখন আমরা বাস্তবায়নের দিকে যাই।” আপন লিখেছে যখন আসল পরীক্ষা আসে, “ওটা এমন একটা পর্যায় যেখানে গিয়ে বেশিরভাগ মানুষ পিছিয়ে পড়ে, থেমে যায়—স্বপ্ন পূরণের আশা ত্যাগ করে।

পাওলো কোয়েলো

সেটাই। যখন স্বপ্ন পূরণ খুব নিকটবর্তী, যখন অই প্রকাশক আমাকে বললেন দ্য আলকেমিস্ট চলবে না, দৃষ্টান্ত বলছি। ওয়াও। আমি যে সিদ্ধান্ত নিলাম লেখক হওয়ার, সকল যোগসূত্র জ্বালিয়ে দিলাম, আর ফ্রান্স থেকে স্পেন ৫ শ মাইল হাঁটলাম কেমিনো ডি সান্তিয়াগো ধরে, মানে তীর্থযাত্রার পথ ধরে। আর আপনি বলছেন এই বই ভালো না? আমি সহজে বলতে পারতাম, “তার কথা ঠিক, আরেকটা বই লিখি তাহলে।”


আমি সাধারণ একটা চাপের ব্যাপারে টেস্ট করতে গিয়েছিলাম। ডাক্তার হঠাৎ বলে বসলেন, ত্রিশ দিনের মধ্যে আমি মারা যাব।


অপ্রা উইনফ্রে

তাহলে কখন একটা না আসলেই না? কারণ কখনও একটা না হলো “না”।

পাওলো কোয়েলো

এটা নির্ভর করে….[হাসি]

অপ্রা উইনফ্রে

হতে পারে, যদি আপনি হৃদয়ের ডাক শুনেন, ওটা আসলে কখনও একটা ‘না’ না। অথবা অন্তত, এটা একটা ভালো ‘না’, মানে ঐ ‘না’টি সেই দিকে পাঠাবে যেদিকে আপনি আসলে যেতে চান।

পাওলো কোয়েলো

বরাবর বলেছেন। আমি কি একটা ব্যক্তিগত গল্প বলতে পারি অপ্রা?

অপ্রা উইনফ্রে

অবশ্যই।

পাওলো কোয়েলো

তিন বছর আগে, আমার হার্ট সার্জারি হয়। আমি সাধারণ একটা চাপের ব্যাপারে টেস্ট করতে গিয়েছিলাম। ডাক্তার হঠাৎ বলে বসলেন, ত্রিশ দিনের মধ্যে আমি মারা যাব।

অপ্রা উইনফ্রে

ও আল্লাহ!

পাওলো কোয়েলো

কিন্তু আমি বাড়িতে গেলাম আর খুব শান্ত, নিশ্চিন্ত ছিলাম। আমি ভাবছিলাম, আমার হার্ট সার্জারি হবে। আমি আগামীকাল মরে যেতে পারি। আমি অর্ধেকের বেশি জীবন কাটিয়েছি সেই নারীর সাথে যাকে আমি ভালোবাসি। এই গ্রহের কত জন মানুষ তা বলতে পারবে? ঐ নারী আমার চতুর্থ বার বিয়ে করা বউ, কিন্তু একসাথে কাটালাম ৩৫ বছর। প্রতিদিন তাকে বলেছি “আমি তোমাকে ভালোবাসি”। দ্বিতীয় যে বিষয়টা ভেবেছি, সেটা হলো, আমি সবকিছু করেছি। আমি রগচটা ছিলাম, সীমা লঙ্ঘন করেছি। সুতরাং আমার পস্তাবার কিছু নাই। কারণ আমি সবকিছু করেছি।

অপ্রা উইনফ্রে

আপনি ছিলেন গ্রেহন্ড বাসে এক বিদ্রোহী যাত্রী।

পাওলো কোয়েলো

হ্যাঁ। তৃতীয় যে ব্যাপারটা আমার বুঝে আসলো, সেটা, আমি আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যে লড়েছি। আমি ‘না’ গ্রহণ করি নি উত্তর পেতে। আমি চেয়েছিলাম লেখক হতে, আমি লিখতে পেরেছি। সুতরাং, যদি আগামীকাল মারা যাই, ঠিক আছে, কোনো অভিযোগ নাই।

অপ্রা উইনফ্রে

ওয়াও।

পাওলো কোয়েলো

২০১১ সালের ৩০ নভেম্বরের কথা। আমি জানি শেষমেষ তো মারা যাবই। মরব যখন সেই রাতের অনুভূতি নিয়েই যেন মরি, আমি খুব ভালো লড়েছি, আর আমার বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হই নি।

অপ্রা উইনফ্রে

সুন্দর গল্প। ধন্যবাদ ওটা শেয়ার করার জন্যে। এবং ধন্যবাদ আমাকে আপনার বাড়িতে দাওয়াতের জন্যে।

পাওলো কোয়েলো

অপ্রা উইনফ্রে, ধন্যবাদ আপনাকে আসার জন্যে। আল্লাহ আপনার সহায় হোন।

সারওয়ার চৌধুরী

জন্ম ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৬৬; চট্টগ্রাম। নানাবাড়িতে। কবি, গল্পকার, প্রবন্ধিক ও অনুবাদক। প্রাক্তন সদস্য, সিলেট প্রেসক্লাব। পড়াশোনা করেছেন ‘ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ’-এ (বিকম পরীক্ষা দেন নি)। সহকারী সম্পাদক হিশেবে কাজ করেছেন ‘দৈনিক জালালাবাদ’-এ (১৯৯৩- ১৯৯৭)। বিশ বছর ধরে প্রবাসে। একটি পারফিউম কোম্পানিতে সেলস এগজিকিউটিভ হিশেবে কর্মরত আছেন।

প্রকাশিত বই—

একমুঠো ল্যাবিরিন্থমাখা মায়াবী জীবন তৃষ্ণা [উপন্যাস; শুদ্ধস্বর, ২০০৬]
অচিন মানুষটির নানা রঙের গল্প [উপন্যাস; শুদ্ধস্বর, ২০০৭]
বচনে বন্ধনে ঘ্রাণে প্রশ্নোত্তর ফোটে [প্রবন্ধ; আদর্শ, ২০১২]
শিশির ও ধূলিকণা মায়া [গল্প; শুদ্ধস্বর, ২০১৪]
হারুকি মুরাকামির গল্প ও বচনামৃত [অনুবাদ গল্প; চৈতন্য, ২০১৫]
ভালবাসার চল্লিশ নিয়ম [অনুবাদ উপন্যাস; চৈতন্য, ২০১৬]

ই-মেইল : sarwarch@gmail.com

Latest posts by সারওয়ার চৌধুরী (see all)