হোম অনুবাদ আমার জীবন : পর্ব-৭

আমার জীবন : পর্ব-৭

আমার জীবন : পর্ব-৭
158
0
৬ষ্ঠ পর্বের লিংক

ওই বয়সে ছেলেরা সব-বয়সী মেয়েরই প্রেমে পড়ে

আমার মা সব সময়ই ছিলেন শান্তি স্থাপনকারী। বাবা ছিলেন সহমর্মী। স্কুলে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে বাড়িতে দৃঢ়তার সাথে লড়াই করে যাওয়ার আমার যে অনমনীয় মনোভাব সেটা সম্ভবত তাঁর পছন্দ হয়েছিল। যাই হোক, শেষ পর্যন্ত মা-বাবা আমাকে স্কুলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। তখন ছিল গরমকাল। তারা আমাকে অন্য যাত্রীদের সাথে গরুর গাড়িতে করে ধুলোমাখা পথে সানতিয়াগোতে পাঠিয়ে দিলেন। সেটা ১৯৩৮ সাল। এর কিছুদিন পরই কংগ্রেস নির্বাচন হয়েছিল। তারা আমাকে পাঠিয়ে দিলেন মাজোরা নামে এক কাপড়ের দোকানের ব্যবসায়ীর বাড়িতে। তিনি ছিলেন গেলিসিয়ান, বিয়ে করেছিলেন সানতিয়াগোর এক নারীকে—যার নাম ছিল কারমেন ভেগা। পেশিবহুল নারী ছিলেন ভেগা। লম্বায় তিনি ছিলেন মাজোরার চেয়ে দুইগুণ। তারপরও কিন্তু তিনি স্বামীর ওপর কর্তৃত্ব কিংবা তাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতেন না।

কোনো নির্বোধ লোককে তার বাসায় রাখতেন না মাজোরা। প্রয়োজনে তিনি কাউকে জুতাপেটা করতেও দ্বিধা করতেন না। তুলকালাম কাণ্ড বাধিয়ে দিতেও তার মনে বাধত না। কারো কর্তৃত্ব মেনে নেওয়ার মতো লোক ছিলেন না তিনি। ডোনা কারমেন নামে তার আরো একজন স্ত্রী ছিলেন। দ্বিতীয় স্ত্রী ডোনার আগের ঘরের একটি ছেলেও ছিল। ওই সময় ছেলেটি একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত ছিল। চিকিৎসক তাকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মাজোরার ঘরেও মার্টিন সিটো নামে ডোনার একটি ছেলে ছিল। মার্টিন সিটো তখন পড়াশোনা করছিল যুক্তরাষ্ট্রে বিমান চালক হওয়ার জন্য।

একদিন দুর্ভাগ্যজনক একটা ঘটনা ঘটে গেল। প্রশিক্ষণ-বিমানে সমস্যা দেখা দিল। ছেলেটি সেদিন প্যারাসুট ব্যবহার করে বিমান থেকে শূন্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের জীবন রক্ষা করে। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে একটি মেয়ে ছিল। ওর নাম ছিল রিসেট। সে তখন হাইস্কুলে তৃতীয় বর্ষে পড়ত। মেয়েটি শ্যামলা, কিন্তু খুবই সুন্দরী। আমি তো ওই মেয়ের প্রেমে পড়ে গেলাম। ওই বয়সে ছেলেরা সব-বয়সী মেয়ের প্রেমেই পড়ে। এমনকি বয়সে বড়, শিক্ষিকা, রাস্তার যেকোনো মেয়ে—বলা চলে জীবিত সব মেয়েরই তারা প্রেমে পড়ে। আমারও তা-ই হয়েছিল। যাই হোক, ওই বাড়িতেই আমার ছেলেবেলার শেষ বিদ্রোহটা করেছিলাম। ওই বাড়িটার প্রতি আমার প্রচণ্ড বিতৃষ্ণা জন্ম নিয়েছিল।

ব্যবসায়ী মাজোরা সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে সমাজের ওপরতলায় উঠছিলেন। তার সেই পেশিবহুল ও দীর্ঘদেহী প্রথম স্ত্রীর সহযোগিতায় এরই মধ্যে সে পরিণত হয়েছিল একজন মধ্যবিত্তে। বাড়ি বানাচ্ছিল ভিস্তা অ্যালেগ্রিতে। অ্যালেগ্রি ছিল তাদের এলাকার পাশে উচ্চবিত্তের এলাকা। আমাকে ভর্তি করে দেওয়া হল জেজুইটদের পরিচালিত স্কুল কলেজ দ্য ডোলারসে। সেখানে পড়ত অভিজাত শ্রেণির ছেলেরা। মাজোরার দ্বিতীয় স্ত্রী ডোনা কারমেন তার বাড়িতে থাকা একজনকে ওই স্কুলে পাঠাতে পেরে খুশিই হয়েছিলেন। ওখানে আমার ভর্তির সুবাদে ধনী লোকদের সাথে তার ওঠাবসার একটা সুযোগ তৈরি হলো। তারা চেয়েছিলেন আমি হব স্কুলের সেরা ছাত্র। আমার ছোট বোন অ্যাঞ্জেলিটা তখন হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্যে এমিলিয়ানা নামে একজন নিগ্রো শিক্ষিকার কাছে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খুবই ভালো শিক্ষিকা ছিলেন তিনি। অ্যাঞ্জেলিটা তখন প্রস্তুতি নিচ্ছিল সপ্তম শ্রেণির। ছুটিতে আমি গ্রামের বাড়ি বিরানে যাই নি। আমি পঞ্চম শ্রেণি থেকে সোজা ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হলাম, কিন্তু ষষ্ঠ শ্রেণিতে পাস করার পর হাইস্কুলে ভর্তি হতে পারলাম না। আমার বয়স ছিল মাত্র ১১। হাইস্কুলের জন্য তখন বয়স লাগত ১৩। আমি তখন খুব মনোযোগী ছাত্র। যে কারণে এমিলিয়ানা আমাকে পড়াতে চাইলেন। হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য যে বইটা পড়া দরকার ছিল সেই মোটা বইটা তখন আমি মুখস্থই করে ফেলেছিলাম। এমিলিয়ানা ছিলেন প্রবল উৎসাহী একজন মানুষ। তিনি আমার জীবনের প্রথম মানুষ যিনি আমার মধ্যে কোনো বিষয়ে আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে পেরেছিলেন। তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন যে পড়াশোনা করলে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি এবং হাইস্কুলের প্রথম বর্ষও আমি একসাথে শেষ করে ফেলতে পারব।


আমাকে স্কুলের যে অগ্রগতি রিপোর্ট দেওয়া হলো, জালিয়াতি করে ওখানে সব বিষয়ে আমি সর্বোচ্চ গ্রেড দিয়ে অভিভাবক হিশেবে ডোনা কারমেনের স্বাক্ষর করিয়ে নিলাম।


আমি তখন প্রচণ্ড উৎসাহিত ও উত্তেজিত। পর্বান্তের (সেমেস্টার) ঠিক শুরুতেই আমার জীবনে একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেল। আমার অ্যাপেনডিসাইটিস ধরা পড়ল। অস্ত্রোপচার হলো। তিন মাস থাকতে হলো হাসপাতালে। এমিলিয়ানার কথাও ভুলে গেলাম। ক্লাস শুরু করলাম কলেজ দ্য ডোলারসে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে। ষষ্ঠ শ্রেণির প্রথম তিন মাস আমাকে হাসপাতালেই থাকতে হলো। তিন মাস স্কুলে যেতে না পারা, স্কুল বদল, নতুন শিক্ষক, নতুন ক্লাস এবং সর্বোপরি পাঠ্যপুস্তকের পরিবর্তন—এত কিছুর পর আমি সর্বোচ্চ গ্রেড থেকে বঞ্চিত হলাম। ফলাফল তো ভালো হলো না, কিন্তু আমার অভিভাবক ব্যবসায়ীর স্ত্রী—যার বাসায় আমি থাকতাম—সেই ডোনা কারমেন উঁচু সামাজিক মর্যদার দাম্ভিকতা রক্ষার জন্য দাবি করে বসলেন, সর্বোচ্চ গ্রেড আমাকে পেতেই হবে। তা না পেলে আমার প্রিয় আর্জেন্টাইন কমিক বই কেনার জন্য প্রতি সপ্তাহে যে পাঁচ সেনটাভো দেওয়া হতো তা আর দেবেন না বলে জানিয়ে দিলেন। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে আমাকেও ভিন্ন পথ বেছে নিতে হলো।

আমি একটা ফন্দি আঁটলাম। আমাকে স্কুলের যে অগ্রগতি রিপোর্ট দেওয়া হলো, জালিয়াতি করে ওখানে সব বিষয়ে আমি সর্বোচ্চ গ্রেড দিয়ে অভিভাবক হিশেবে ডোনা কারমেনের স্বাক্ষর করিয়ে নিলাম। স্কুলে গিয়ে বললাম ফলাফলের রিপোর্ট কার্ড হারিয়ে ফেলেছি। স্কুল আমাকে নতুন একটি রিপোর্ট কার্ড দিল যা আমি আমার কাছে রেখে দিলাম এবং পুরনোটা স্কুলে জমা দিয়ে দিলাম। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হই নি আমি, কিন্তু ডোনা কারমেন আমার কাছে যে রকম ফল আশা করেছিলেন তা পাই নি।

বছর শেষে ভালো ফলের জন্য যখন স্কুলছাত্রদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের সময় এল তখনই বাধল ঝামেলা। ডোনা কারমেন ভেবেছিলেন ওই স্কুলে এযাবৎকালের সেরা প্রতিভাবান ছাত্র আমি। সুতরাং পুরস্কার বিতরণের দিন স্কুলে যাওয়ার জন্য তিনি কালো কাপড়ের লম্বা ও সুন্দর একটা পোশাক তৈরি করিয়ে নিলেন। ওই স্কুলেই তো তার ভিস্তা অ্যালেগ্রির ধনী প্রতিবেশীদের সন্তানেরা পড়াশোনা করত। ওইদিন বিকেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিষয়ে ভালো ফলের জন্য ছাত্রদের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছিল। এক একজনের নাম ঘোষণার সাথে সাথেই আমি আমার চোখ-মুখে বিস্ময়ের ভাব ফুটিয়ে বোঝাতে চাইলাম—এ পুরস্কারটি তো আমার পাওয়ার কথা, ওকে দিচ্ছে কেন? আমি প্রথম হলাম না, দ্বিতীয় হলাম না, এমনকি তৃতীয়ও না। যখন এ বিষয়ে কথা বলার সময় এল, আমার উত্তরও তখন প্রস্তুতই ছিল। বললাম যে আমি এখন বুঝতে পারছি আসলে কী ঘটেছে। প্রথম তিন মাসের নাম্বার আমার ফলের সাথে যোগ হয় নি, কারণ আমি এসেছিলাম তিন মাস পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর। যে কারণে কোনো বিষয়েই পুরস্কার পাই নি। প্রত্যেকেই আমার এই উত্তরে সন্তুষ্ট হয়েছিল। জীবনে কখনো ভুলব না কত দ্রুত এই পুরো গল্পটা আমি আবিষ্কার করেছিলাম।

ওই স্প্যানিশ বাড়িতে বারবার একই গল্প বলতে বলতে আর সব সময় সর্বোচ্চ গ্রেড পেতে পেতে আমি প্রচণ্ড অসুস্থ এবং বিরক্ত হয়ে গেলাম। আমার ওইসব দম্ভ আর লোক দেখানো আচরণ আমাকে অসুস্থ করে তুলল। আমি ওই বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। এমনকি পড়াশোনাও বন্ধ করে দিলাম। ওই রকম পরিবেশে পড়া যায় না, কারণ ওরা যখন আমাকে বিকেল বেলা ঘণ্টার পর ঘণ্টা জোর করে পড়াত তখন দিবাস্বপ্নের ঘোরে থাকতাম, মন বিক্ষিপ্ত হয়ে যেত। ফলে আমিও একই কাজ করতাম। তারা তখন আমাকে বোর্ডিং স্কুলে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিত। আমি বিদ্রোহ শুরু করলাম। ওদের বেঁধে দেওয়া প্রতিটি নিয়ম ভাঙতে শুরু করলাম, তাদের কারো কথাই মানতাম না। তারা বিনা বাক্যে আমাকে বিদায় করে দিল। তখন বোর্ডার হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা বরং বেশ ভালোই হলো। ফলেও আমি ভালো গ্রেড পাওয়া শুরু করলাম এবং সপ্তম শ্রেণি শেষ হওয়ার আগেই আমি একজন মেধাবী ছাত্র হয়ে গেলাম।

 

রুজভেল্টের চিঠি

খেলাধুলা বন্ধ না করে, কঠিন পরিশ্রম না করে এবং সামান্য মনোযোগ দিয়েই আমি সাধারণভাবে একজন ভালো ছাত্র ছিলাম। এর মধ্যে আমি ইংরেজি পড়া শুরু করলাম। আমার মনে পড়ে ওটা ছিল ১৯৩৯ সাল। যুদ্ধ তখন ঘনিয়ে আসছিল। রুজভেল্টকে একটা চিঠি পাঠালাম তখন। চিঠিতে আমি রুজভেল্টের কাছে ১০৬ ডলার চাইলাম। কারণ হিসেবে বলেছিলাম যে আমি কখনো ১০ ডলারের সবুজ নোটটা দেখি নি। ওই রকম সবুজ একটা নোট তখন চাই। আমি এ-ও বলেছিলাম যে যুদ্ধজাহাজ তৈরির জন্য তার লোহা লাগলে আমাদের এখানে মায়ারি ওরিয়েন্ট কিউবাতে যে লোহার খনি আছে আমি তাকে সেখানে নিয়ে যাব। রুজভেল্টকে লেখা সেই চিঠির উত্তরও পেয়েছিলাম। একদিন শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তুমুল একটা হৈচৈয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলাম। রুজভেল্ট ফিদেলের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। বুলেটিন বোর্ডে চিঠির একটা কপি প্রদর্শনের জন্যে সেঁটে দেওয়া হলো। কিউবান বিপ্লবের পরে আমেরিকানরা আমার চিঠিটা সংগ্রহ করে এবং সেটি ওরা ছেপে দেয়। পরে লোকজন প্রায়ই আমাকে বলত, রুজভেন্ট তখন আমাকে ওই ১০টি ডলার পাঠালে হয়তো আমি আমেরিকার এত মাথাব্যথার কারণ হতাম না।

 

জীবনসংগ্রাম থেকে শিক্ষা

প্রকৃতিগতভাবে আমি বিপ্লবী হিশেবে জন্ম নিই নি। খুব শৈশবে স্কুলে এবং বাড়িতে অন্যায় ও অবিচার দেখা শুরু করেছি। গ্রামে পুঁজিবাদের অমোচনীয় স্মৃতি আমার আছে। বিরানের অসংখ্য সহজ-সরল, কঠিন আর পরিশ্রমী গরিব মানুষের প্রতিচ্ছবি কখনো আমার মন থেকে মুছে যাবে না। ক্ষুধার্ত আর নগ্ন পায়ের মানুষেরা এখনে-সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। তখন আমেরিকার বিশাল চিনিকলে যারা কাজ করত তাদের অবস্থা ছিল আরো খারাপ। তারা আমার বাবার কাছে আসত সাহায্যের জন্য। আমার বাবা স্বার্থপর জমির মালিক কিংবা কৃপণ মানুষ ছিলেন না। তিনি তাদের সাহায্য করতেন। অল্প অল্প করে আমি ন্যায়বিচার, মর্যাদা এবং কিছু মৌলিক মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে থাকলাম। ফলে আমার চরিত্র গড়ে উঠল কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে, যেসব পরীক্ষায় আমাকে কৃতকার্য হতে হয়েছিল সমস্যার মধ্য দিয়ে, যে পরীক্ষা পার হতে হয়েছিল বিরুদ্ধ পরিবেশের মধ্য দিয়ে, যে পরীক্ষার মোকাবেলা করতে হয়েছিল সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্য দিয়ে, যা আমি নিয়েছিলাম বিদ্রোহের মাধ্যমে।

আমার অভ্যাস ছিল নিজের মতো করে নিশ্চিত যুক্তি এবং বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে গোটা সমাজ সম্পর্কেই প্রশ্ন উত্থাপন করা। সত্যিকার অর্থে কেউই আমাকে এ বিষয়ে সহযোহিতা করে নি। খুবই অল্প বয়সে এসব অভিজ্ঞতা আমাকে মানুষের অপমান এবং লাঞ্ছনাকে অভাবনীয় অন্যায় হিসেবে বুঝতে শিখিয়েছে। আস্তে আস্তে আমার মধ্যে সচেতনতা তৈরি হলো। কখনো নিজেকে অপমানের কাছে সমর্পণ করি নি। সমতা, নৈতিকতা এবং ন্যায়পরায়ণতা সম্পর্কে আমার মধ্যে গভীর ধারণার জন্ম হয়। এসব কিছু এবং আমার মধ্যে সন্দেহাতীতভাবে যে বিদ্রোহী মেজাজ ছিল তা নিশ্চিতভাবে আমার রাজনৈতিক এবং বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে প্রবলভাবে প্রভাব ফেলেছে।

বাচ্চা বয়সেই আমি অনেক সমস্যা মোকাবেলা করেছি এবং আস্তে আস্তে বেড়ে উঠেছি—সম্ভবত এটিই আমার বিদ্রোহী মানসিকতা গড়ে ওঠার কারণ। লোকে প্রায়ই ‘বিনা কারণে বিদ্রোহী’ হওয়ার কথা বলে, কিন্তু আমার মনে হয়, আমার বিদ্রোহী হয়ে ওঠার পেছনে অসংখ্য কারণ আছে। আমি জীবনের কাছে কৃতজ্ঞ যে আমি এখনো বিদ্রোহী আছি এবং সব সময়ই তা থাকতে চাই। আমি এখনো যে বিদ্রোহী আছি তার কারণ সম্ভবত এই যে আমার ধারণা এখনো অনেক বেশি শানিত। আমি এখন অনেক বেশি অভিজ্ঞ। এর কারণ আমি আমার নিজ জীবনের সংগ্রাম থেকে অনেক কিছু শিখেছি। যেখানে আমরা জন্মেছি, যেখানে আমাদের বসবাস এবং ইতিহাসের চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণে উপনীত এই মুহূর্তের বিশ্বায়িত এই পৃথিবী সম্পর্কে আমার ধারণা এখন অনেক বেশি পরিষ্কার।

৮ম পর্বের লিংক

মাকসুদ ইবনে রহমান

জন্ম ১৯৬৪, নারায়ণগঞ্জ। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। পেশা সাংবাদিকতা।

Latest posts by মাকসুদ ইবনে রহমান (see all)