হোম অনুবাদ আপলিন্যার-এর বাছাই আট

আপলিন্যার-এর বাছাই আট

আপলিন্যার-এর বাছাই আট
997
0

ক্যালাইডোস্কোপের মতো বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব তার, একেক দিকে ঝাঁকালে একেক রঙের, নকশার মানুষ—ভিন্ন ভিন্ন গিয়ম আপলিন্যারকে দেখতে পাওয়া যায়; কিংবা কিউবিজমের মতোই তিনি ছিলেন বহুর সমন্বয়—তিনি সবগুলোই ছিলেন কিংবা ছিলেন না কোনোটাই, সব মিলে একটা সত্তা ছিলেন। আপলিন্যার কী কী ছিলেন তার একটা তালিকা করেছিলেন পূর্ণেন্দু পত্রী—

১. কবি ২. নাট্যকার ৩. শিল্প সমালোচক ৪. সম্পাদক (অন্যের লেখার এবং লিটল ম্যাগাজিনের) ৫. গৃহশিক্ষক ৬. পর্নো উপন্যাস লেখক ৭. গ্রন্থাগারিক ৮. চিত্রকলায় অর্ফিজম-এর প্রবক্তা ৯. কিউবিজম-এর প্রধান পুরুষ ১০. সুররিয়ালিজমের জনক ১১. ক্যালিগ্রামের উদ্ভাবক, প্রবর্তক ১২. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের একজন লেফটেন্যান্ট ১৩. প্রেমিক পুরুষ ১৪. পণ্ডিত ১৫. বন্ধু-বৎসল ১৬. প্রথাবিরোধী ভাবনার প্রচারক ১৭. অবৈধ সন্তান ১৮. বিষণ্ণ ১৯. মদ্যপ ২০. দাবাড়ু (লেনিনের সাথে দাবা খেলেছেন, লেনিন যখন সুইজারল্যান্ডে) ২১. আঁভাগার্দ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।

আপলিন্যার য‌দি ১০০ বছর প‌রে জন্মাতেন তাহ‌লে এ বছরে তি‌নি মাথায় গোলার আঘাত নি‌য়ে বিশ্বযুদ্ধ থে‌কে ফির‌তেন আর বছর দু‌য়েক প‌রে হিস্পা‌নিক ইনফ্লুয়েঞ্জার মহামারীতে মারা যেতেন; ত‌বে মারা যাবার ৮ দিন আগে পে‌তেন ফরা‌সি নাগ‌রিকত্ব আর দুদিন আগে যুদ্ধজয়ের সংবাদ!

১০৩ বছর আগে আপলিন্যার তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ অ্যালকোহলস-এর ফাইনাল প্রুফ দেখ‌তে দেখ‌তে সমস্ত য‌তি‌চিহ্ন মুছে দি‌লেন! তি‌নি বল‌তেন, লাইনের শে‌ষে মিল দেখ‌লে ম‌নে প‌ড়ে কুকু‌রের লে‌জের কথা, যে লেজটা আবার দৃষ্টি-আকর্ষণী ভঙ্গিতে নড়‌ছেও! আপলিন্যার দ্য গ্রেট আসলে ভুল করেই এবং ভুল সময়ে জন্মেছিলেন বোহেমীয় মায়ের গর্ভে। ১৯৮০ সালে জন্মালেই বরং সমসাময়িক পাঠক পেতেন। এই কথাটি তার সাথে যায়—“পৃথিবীর সব মহৎ কবিতাই জন্মে যায় আগাম, আর আপন অবিবেচনায় পৃথিবীরই দেরি হয়ে যায় তার কাছে পৌঁছতে।”

আপলিন্যারের জন্মের ৫ দিন পর অভিজাত সামরিক অফিসার ইতালীয় বাবার পরিচয় ছাড়াই পোলিশ পরিবার থেকে আসা মা এঞ্জেলিকা কস্ত্রোভিতস্কি শিশুটির জন্ম রেজিস্ট্রেশন করেন ‘গিয়ম এলবার্ট ভ্লাদিমির আলেকজান্দ্রে আপলিন্যার কস্ত্রোভতস্কি’ নামে! মাথার ওপর বাবা ছিলেন না, মা ঘুরে বেড়াতেন এ শহর থেকে সে শহর; আপলিন্যারও এই অস্থিরতার সাথে অপরিচয়ের সঙ্কট নিয়ে বড় হচ্ছিলেন। পড়াশোনায় ভালো করলেও বাবার পরিচয় না থাকায় সামান্য কেরানি হিশেবে জীবিকা শুরু হলো। লেখালিখিটা শুরু থেকেই ছিল, যত না কবিতা লিখতেন তার চেয়ে পিকাসো ও অন্যান্য শিল্পীর সাথে বন্ধুত্বের সুবাদে শিল্প-আলোচনায় অংশ নিতেন। টাকা রোজগারের জন্য তিনি পর্নোগ্রাফি লিখতে শুরু করেন।

বোদলেয়ার আর র‍্যাবোর পরে ফ্রান্সে তিনিই স্থলবর্তী কবিপুরুষ—জীবিত ও মরণোত্তর। অগ্রজদের ক্লাসিক্যাল, গীতল ধারা এবং প্রতীকবাদ থেকে বেরিয়ে এসে কিউবিজমের অন্যতম প্রবক্তা এবং সুররিয়ালিজমের পূর্বসূরি হিশেবে আপলিন্যারের আত্মপ্রকাশ। বলা হয়ে থাকে তিনি বোদলেয়ারের চেয়েও ‘ক্লেদজ’তর ‘কুসুম’ চয়ন করেছিলেন আরো গহিন নাগরিক চোখে। নিত্যদিনের শব্দ ও ভাষাকে কবিতার পঙ্‌ক্তিতে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বলেছিলেন :

যেসব শিল্পী তাদের নিজ যুগে বাস করে না আমি তাদের ঘৃণা করি।

মালার্মে গীতিকবিতাকে শেষ গন্তব্য মানতেন, আপলিন্যারের অনেক কবিতাই গীতিময়, কিন্তু তা জটিল আধুনিক কবিমানসের সৃষ্টি, শেষাবধি তা গান নয়, কবিতাই এবং অভূতপূর্ব। বলেছিলেন :

প্রতিটি প্রজন্মকেই গীতিময়তার নবজন্ম দিতে হবে এবং আমি সেই গীতিময়তার অনুসন্ধান করি, যা একই সঙ্গে নতুন এবং মানবতাবাদী।

‘টাইরেসিয়াসের স্তন’ নাটকে যে সুররিয়ালিস্টিক উপাদান ছিল, পরবর্তীতে তা পথ দেখিয়েছে উত্তরকালের সুররিয়ালিস্টদের। ১৯০৫ সালে পিকাসোকে নিয়ে প্রথম বড় ধরনের শিল্প-আলোচনা লিখে রাতারাতি আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসেন শিল্পীকে। সমকালীন শিল্প-সাহিত্য সাময়িকীগুলোতে (যেমন, ফিগারো) তার সরব উপস্থিতি ছিল। প্রথম কাব্যগ্রন্থ অ্যালকোহলস ছেপেছিলেন ১৫ বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর।

ক্যালিগ্রাফি শব্দ থেকে ক্যালিগ্রাম শব্দটি আবিষ্কার করেন। তার অ্যালকোহলস পরবর্তী কবিতায় আগের মতো নাগরিক জীবনের সাথে যুদ্ধের মাঠকে নিয়ে এসেছেন, অক্ষর দিয়ে ছবি বানাতেন। ঘড়ি কিংবা টাই নিয়ে লেখা কবিতা কিংবা বৃষ্টি নিয়ে লেখা কবিতাগুলো দেখতে হতো ঘড়ি, নেকটাই কিংবা বৃষ্টিধারার মতো। ক্যালিগ্রামস-এর কিছু কিছু কবিতা দেখতে এমনই ছবির মতো।

স্বল্পায়ু জীবন। ভরপুর জীবন। কবিতায় ভরপুর। নাগরিক জীবনযন্ত্রণা, প্রেম, যুদ্ধ, গীতিময় কবিতা, শিল্পকলা। একই সময়ে নজরুলও ছিলেন মহাযুদ্ধের ময়দানে—ভরপুর, ভরপুর! তরুণ নজরুলের সাথে অবশ্য মধ্যযৌবনের আপলিন্যারের দেখা হবার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। দুজনই সমালোচকদের নিষ্ঠুর তূণে আক্রান্ত হয়েছেন; ভালোবেসেছেন নারীকে, কিন্তু সঙ্গী হয়তো সব সময় তাকে বিশ্বস্ত মনে করে নি। রোগশয্যায় রবীন্দ্রনাথ লিখে গেছেন, “কে তুমি?/ পেল না উত্তর” (১৯৪১)। আপলিন্যার তিন দশক আগেই নিজের প্রতি এই মৌলিক প্রশ্নটি করেছিলেন, “কে আমি?”

পিকাসো আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন শিল্পী মারি লোঁর সিয়াঁর সঙ্গে। প্রথম দেখায় প্রেম। আপলিন্যার বলেছিলেন, ও যেন আমারই নারী সংস্করণ! দুজনের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও ছিল অনেক মিল। সম্পর্কটা চলছিল ভালোই। মাঝে এক দুর্ঘটনা। ল্যুভর মিউজিয়াম থেকে ‘মোনালিসা’ চুরি হয়ে গেল, কিছু ভাস্কর্যও চুরি গেল। এতে সন্দেহের বশে আপলিন্যারকে এক সপ্তাহ হাজতবাস করতে হলো, পিকাসোও সন্দেহের তালিকায় ছিলেন! মারির মা তাকে কয়েদখাটা ছেলের সাথে মেলামেশা করতে নিষেধ করে দিলেন। মুদ্রার অন্য পিঠ হচ্ছে, কবির মাও মারীর পরিবারকে পছন্দ করতেন না, ওরা অতটা অভিজাত নয় বলে। হাজত-ফেরত কবিকে প্যারিস ছাড়তে হয় কিনা সেও ছিল এক শঙ্কা। এই মানসিক অবস্থাতেই রচিত হয়েছিল মীরাবো সেতু—প্রেম, বিরহ আর শহরের ইতিকথা—মারি, মীরাবো, সেন নদী আর পারী একাকার।

জীবদ্দশায় কবিতার বই ছিল দুটি মাত্র—অ্যালকোহলস আর ক্যালিগ্রামস। মার্টিন সরেল অনূদিত আপলিন্যারের নির্বাচিত কবিতার বই থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে কবির অন্যান্য বইগুলো—দ্য বেস্টিয়ারি অর অরফিউস, লাইফ ডেভোটেড টু লাভ, দেয়ার ইজ, পোয়েমস টু লোউ, দ্য মেলাঙ্কলি ওয়াচার, পোয়েমস টু ম্যাডেলিন, অগ্রন্থিত কবিতা ইত্যাদি। অনেক কবিতা, ক্যালিগ্রাম জাতীয় কবিতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল বন্ধুদের কাছে, চিঠিপত্রে। শেষ কবিতা ছিল ‘দ্য প্রেটি রেড হেড’—লিখেছিলেন মৃত্যুর ৬ মাস আগে যাকে বিয়ে করেছিলেন সেই জ্যাকেলিনকে নিয়ে। এই প্রেম তাকে পূর্ণতা দিয়েছিল। প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘জোন’ও আলোড়ন তুলেছিল নতুনত্বে; কেননা পূর্বজদের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে আনকোরা পথের পথিকৃৎ হয়েছিলেন সূচনাতেই। তার একদা কঠোর সমালোচক পরে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন :

আপলিন্যার হচ্ছে গত ১২ বছরে ফ্রান্সের একমাত্র কবি!

জর্জ ব্রাকুর ছবি দেখে ১৯০৮ সালে মাতিস বলে উঠেছিলেন, “ঠু মেনি কিউবস!” উচ্চারিত হয়ে গেল কিউবিজমের নাম! আপলিন্যার কিউবিজমকে প্রতিষ্ঠিত করেন। কবির মৃত্যুসংবাদ যখন পিকাসো পেলেন, বন্ধু-বিয়োগের  শোককে ধরে রাখলেন ভাঙা আয়নায় ভেঙে চুরে যাওয়া প্রতিবিম্বে—“এ ফেয়ারওয়েল টু ইয়ুথ”। এই আত্মপ্রতিকৃতি উৎসর্গ করলেন বন্ধুকে। অবিস্মরণীয় এই কিউবিক বন্ধুকৃত্য। ৩৮ বছর বয়সে কবির অকালমৃত্যুর পর প্যারিসের রাস্তায় তার শবদেহ বহন করেছিলেন পিকাসো, মাতিস, গেরট্রুড স্তাইন, আঁদ্রে ব্রেঁতো, জাঁ ককঁতো, মার্ক শাগাল প্রমুখ।

 


টি   ক বি তা


মীরাবো সেতু

মীরাবো সেতুর নিচে সেন নদী ধীরে বয়
আর আমাদের ভালোবাসা
মনে পড়ে কষ্টানন্দে বয়ে চলা দিন

এসো রাত্রি এসো বাজাও প্রহর
দিন চলে যায় স্থাণু বসে থাকি

হাত ধরাধরি করে মুখোমুখি বসে থাকি এসো
আমাদের গড়া ছোট্ট ছাদের নিচে
বইছে দ্যাখো না শাশ্বত মুখের সারি

এসো রাত্রি এসো বাজাও প্রহর
দিন চলে যায় স্থাণু বসে থাকি

জলের স্রোতের মতো প্রেম বয়ে যায়
প্রেম চলে যায়
জীবন ঝিমিয়ে পড়ে
আশারা উদ্বেল

এসো রাত্রি এসো বাজাও প্রহর
দিন চলে যায় স্থাণু বসে থাকি

দিনেরা যায় সপ্তাহ ঘোরে
সময় অতীতকাল
ভালোবাসা ফেরে না তো
মীরাবো সেতুর নিচে সেন নদী ধীরে বয়

এসো রাত্রি এসো বাজাও প্রহর
দিন চলে যায় স্থাণু বসে থাকি

 

THE MIRABEAU BRIDGE

Under the Mirabeau Bridge flows the Seine
And our loves
Must I recall
Joy ever followed pain

Come night strike the hour
Days go I remain

Face to face hands entwined let’s stay
While under arch
Of  arms these pass
Tides of slow eternal faces

Come night strike the hour
Days go I remain

Love leaves like those waters moving
Love leaves
How slow life is
How violent hope

Come night strike the hour
Days go I remain

Days pass and weeks
Time past
Nor love return
Under the Mirabeau Bridge flows the Seine

Come night strike the hour
Days go I remain


জিপসি বলেছিল

সেই কবে জিপসিটা বলেছিল হাত দেখে
তু‌মি আমি ডু‌বে যাব রা‌ত্রির গাঢ় ছায়ায়
বিদায় নেবার পর থেকে সেই নারী
নৈরাশ্যের ভেতর জ‌মি‌য়ে দিল ভোর

ভালুকের মতো ভারি ভালোবাসা
আমাদের সুরেই নাচল ঘিরে ঘিরে
গানের পাখির পালক খসল কত
অন্ধ গায়ক হারাল তার পুঁথি

আমরা তো চলেছি নরক গুলজারে
কম্পাস রেখেছি পুণ্য প্রেমের রাস্তায়
না‌চের নেশায় শিস দি‌য়ে ধ‌রো হাত
যে হা‌তে আমা‌দের নিয়তি লেখা আছে

 

THE GYPSY

The gypsy foretold
Night would darken our two lives
We bade  her farewell and then
From that gloom Hope welled up

Love heavy as a bear
Danced at our command
The bluebird shed its plumage
Beggars their Aves

We know we’re on our way to Hell
But the hope of love en route
Makes us muse hand in hand
On what the gypsy knew


রাইনের জলে রাত

মোমের শিখা হয়ে কাঁপছে সুরা পাত্র,
মাঝি গায় গান গায় শুনি—
চাঁদনি রাতে সাতটি নারী কবেকার
মেলেছে সবুজ কেশ আজানুলম্বিত!
ঘুরে ঘুরে নাচো গাও আরো জোরে আরো—
মাঝির দূরাগত গান দাও ডুবিয়ে দাও জলে,
সুন্দর চুলের মেয়েদের ডাকো দেখি এইবার
পাথুরে মূর্তির মুখ কিন্তু চূড়া—খোঁপা!
আঙুর গাছের বিম্ব গিলে রাইনের জল টাল—
সোনালি ঝিকমিক ন‌দী রাতের আয়নাতে
কণ্ঠে নিল পুরুষেরা ‌শেষ পারা‌নির গান;

উচ্চহাস্যের নাদে মরি মরি গেলাস ফেটে গেল!

 

* Rhenish শব্দটি অনেক অর্থবোধক—মদ উৎপাদনের এলাকা সংক্রান্ত, মাতাল, রাইননদী সংশ্লিষ্ট ইত্যাদি

 

RHENISH NIGHT

My glass is full of wine that trembles like a flame
Hear the boatman’s easy song
Of seven women in the moonlight
Whose green hair they plait down to their ankles

Up Up perform your circle dance sing louder
To drown out the boatman’s song
Bring me every fair-haired girl
With statue face coiled braids

The Rhine the Rhine is tipsy with reflected vines
Night’s gold falls trembling in its mirrors
The voice still sings death-rattle songs
Of green-haired sprites casting summer spells

My glass  has burst like sudden laughter


স্বপ্নে দেখি নিজের শবযাত্রা…
(অগ্রন্থিত কবিতা)

স্বপ্নে দেখি নিজের শবযাত্রায় নিজেই শ্মশানবন্ধু
তুমি তো আসো নি অথচ কানে এসেছিল হাসির শব্দ
মুখোশের আড়ালে লুকানো ভ্যাম্পায়ারের উদ্যত দাঁত
রক্তরঙ হাসি তোমার বিস্ময় ছড়াল কল্পনাতীত
ছলনাময়ী হাসি দেখে মরেই গেলাম দ্বিতীয়বার

 

I DREAMT I WAS GOING…

I dreamt I was going to my funeral
You hadn’t come I heard you laugh
But your mouth was there its vampire suck
Rolled red hoops beneath my wild gaze
And when you laughed I died again


নিশিকন্যা

কোলোনের সদর রাস্তায়
সন্ধ্যাকে রেকি করছিল সে
আত্মবিক্রয়ে দিলদরিয়া
মাতলামো যার পরিণতি

গোলাপি উতলা নিশিকন্যা
খড়কুটোতে বেঘোর ঘুম
গন্ধমাদন ইহুদি ব্যাটা
ফরমোজা থেকে ফিরছিল
মিলে গেল শেষে সস্তা চীনা রে‌স্তোরাঁয়

সাত রকমের মানুষ চিনি
আজন্ম হতভাগা বন্ধুরা
উড়ছে হাওয়ায় ঝরাপাতা

নিভন্ত উনুন থাকলেও চোখেমুখে
হৃদয়ের নিয়তি ভাসমান ছাড়া কী

 

MARIZIBILL

She patrolled the evening
On Cologn’s main street
For sale accommodated all
Then tired of pavements
Drank late in louche bars

For her pink-faced ginger pimp
She lay down on the straw
He was a Jew he reeked of garlic
On his way out of Formosa
He’d snatched her from a Shanghai stew

I know folk of every kind
They don’t match their fate
They float like dead leaves
Their eyes are dying fires
Their hearts move like their doors


নক্ষত্রের বিষাদ

করোটিতে পয়দা হলো সুন্দরী মিনার্ভা
আমৃত্যু থাকবে মাথায় রক্তলাল মুকুট
রহস্য কে না জানে আরও জেনে রাখো
নীলাকাশ পাঠিয়েছে এই শক্তিরূপেণ সংস্থিতা

আমার এই বেদনা মন্দ কী এমন
খুলির আঘাত পেল নক্ষত্রের ছাপ
গহিন বিষাদেরা জোগায় মতিভ্রম
আত্মা রূপ নিল মহৎ শিল্পালয়ের

এই উদ্দাম বেদনা বয়ে যাই একা
জোনাকির মতো আলোকিত রেখে দেহ
সিপাহি-হৃদয়কে নাড়ায় মাতৃভূমি
লিলির বুকে সুগন্ধ আনে বিবাগী পরাগ

 

A STAR’S SADNESS

A beautiful Minerva born on my head
A star of blood will be my crown forever
Reason’s keeping low and the sky crowns
The head where for so long Goddess you drew strength

That’s why of all my ills this wasn’t the worst
This near-fatal hole which has become a star
But the secret misery that feeds my delirium
Is greater than any hidden by a soul

And I bear this ardent suffering in me
The way the glow-worm keeps itself lit
The way France stirs in a soldier’s heart
And in the lily’s heart the fragrant pollen


বৃষ্টি নেমেছে

নিরুদ্দেশ নারীর
কণ্ঠস্বরের মতো
বৃষ্টি নামছে
স্মৃতির করোটিতে
.
তুমিও ঝরছ
বৃষ্টির ছদ্মবেশে
বু‌ঝে‌ছি জলকণার
দুরন্ত সাক্ষাতে
.
ঘনায়মান মেঘরাজি
উল্লাস এনে দিল
জগৎজোড়া
শহরের কানে কানে
.
কান পেতে শোনো
বৃষ্টির গান বরং
ফেলে রাখো পাশে
প্রাচীন সংগীত
.
অলৌকিক
সেতার শোনো আজ
উদারা-মুদারা-
তারায়

 

IT’S RAINING

It’s raining women’s voices as if they were dead even in memory
It’s raining you as well marvelous meetings of my life o droplets
And those rearing clouds start to neigh a whole universe of auricular cities
Listen out for rain while regret and disdain weep an ancient music
Listen to the strings fall which attach you high and low


হেমন্ত

ভোরের কুয়াশায় নুয়ে নুয়ে পথ চলে রাখাল
হেমন্তের এই কুয়াশায়
গরুটিকে সাথে নিয়ে
শোচনীয় মাথাল আবছায়া

রাখালের বুলি শুধু নয় ‘হটহট’
বিরহী মইষালবন্ধুর গান ঠোঁটে
হৃদয়ভাঙা আহাজারি লো

হেমন্তের পায়ে পায়ে বসন্ত আসছে
কুয়াশায় হারিয়ে যাবে আবছায়ারা

 

AUTUMN

In the mist a knock-kneed peasant goes
And his ox slowly in the autumn mist
That hides wretched hamlets

As he goes the peasant hums
A song of love betrayed
About a ring a broken heart

Ah autumn’s smothered summer
In the mist two grey shapes go


পাঠ-সহায়িকা : 
১. গীয়ম আপলিন্যার, সিলেক্টেড পোয়েমস, অনুবাদ- মার্টিন সরেল (অক্সফোর্ড ওয়ার্ল্ড ক্লাসিকস, ২০১৫)
২. পূর্ণেন্দু পত্রী, কবিতার ঘর ও বাহির (দে’জ পাব্লিশিং , ১৯৮৩)
৩. গিয়োম আপলিন্যার কবিতা, অশ্রুভেজা চোখে করাঘাত। অনুবাদ : মনজুরুল হক ও হায়দার আলী খান (প্রথমা, জুন ২০১২)

মোশতাক আহমদ

জন্ম ৪ জানুয়ারি ১৯৬৮; টাঙ্গাইল।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্নাতক, জনস্বাস্থ্যে স্নাতকোত্তর। বর্তমানে একটি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত।

প্রকাশিত বই :
কবিতা—
সড়ক নম্বর দুঃখ/ বাড়ি নম্বর কষ্ট [দিনরাত্রি, ১৯৮৯]
পঁচিশ বছর বয়স [সড়ক প্রকাশ, ১৯৯৪]
মেঘপুরাণ [পাঠসূত্র, ২০১০]
ভেবেছিলাম চড়ুইভাতি [পাঠসূত্র, ২০১৫]
বুকপকেটে পাথরকুচি [চৈতন্য, ২০১৭]

প্রবন্ধ—
তিন ভুবনের যাত্রী [এ লিটল বিট, ২০১৬]

ই-মেইল : mostaque.aha@gmail.com

Latest posts by মোশতাক আহমদ (see all)