হোম অনুবাদ আন্তোনিও পোর্কিয়ার স্বর

আন্তোনিও পোর্কিয়ার স্বর

আন্তোনিও পোর্কিয়ার স্বর
815
0

আন্তোনিও পোর্কিয়া (১৩ নভেম্বর ১৮৮৫—৬ নভেম্বর ১৯৬৮) আর্জেন্টিনার কবি। জন্ম ইতালিতে। বাবার মৃত্যুর পর ১৯০০ সালে আর্জেন্টিনায় চলে যান। স্প্যানিশ ভাষায় তিনি একটা বই রচনা করেন, প্রবচনের বই। ইংরেজিতে বইটির নাম `Voices’। আমরা বলছি ‘স্বর’। অতলছোঁয়া/ গভীরতাগামী এই প্রবচনগুলি ইতালিয়ান ও ইংলিশ ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন ডব্লিউ. এস. মারউইন। তাছাড়া ফরাসি ও জর্মন ভাষাতেও অনুবাদ হয়েছে। অনেক সমালোচক তাঁর লেখাকে দেখতে চান জাপানি হাইকুর সমান্তরালে। আবার কেউ কেউ তাঁর লেখাতে খুঁজে পান ‘জেন’ চিন্তা-দর্শনের সাদৃশ্য। বাংলা ভাষায় প্রথম (আমাদের জানামতে) কিছু প্রবচনের অনুবাদ করেছিলেন কবি লোকনাথ ভট্টাচার্য। প্রকাশিত হয়েছিল শিবনারায়ণ রায় সম্পাদিত ‘জিজ্ঞাসা’ পত্রিকায়।

এখানে পরস্পরের পাঠকদের জন্য আমার হাতে বইটির আংশিক অনুবাদ…

– মুহম্মদ ইমদাদ


● আমি স্বর্গে যাব কিন্তু একা যাব না। আমার দোজখকেও সঙ্গে নিয়ে যাব।

● আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করতে পারি দীর্ঘ দীর্ঘকাল, কারণ তুমি এসে গেছ।

● সরল পথ শুধু দূরত্ব কমায় না, জীবনকেও সংক্ষিপ্ত করে।

● রাস্তাটি যদি তোমার নিজের রাস্তা হয় তাহলে তারা তোমাকে বলবে যে তুমি ভুল পথে আছ।

● খুব বেশি নিই অথবা খুব কম নিই, আমি উপযুক্ত পরিমাণে কিছু নিই না। উপযুক্ত পরিমাণ কিছুর প্রয়োজন নেই আমার।

● সবচেয়ে ছোট সৃষ্টির চোখও সূর্যকে বহন করে।

● ঘুম থেকে জেগে যে স্বপ্ন দেখি, ঘুমিয়ে-ঘুমিয়ে সেই স্বপ্নটাই দেখি। এ এক অনন্ত অবিরল স্বপ্ন।

● না-ভাঙলে কিছুই শেষ হয় না, কারণ সবকিছুই অন্তহীন।

● যখন মরব, তখনই প্রথম আমি আমার মৃত্যুকে দেখব না।

● ভাবছ আমাকে খুন করছ, আমি ভাবছি তুমি আত্মহত্যা করছ।

● একমুহূর্তে মারা যায় একশ বছর, যেমন একমুহূর্তে মারা পড়ে একটি মুহূর্ত।

● ভ্রমণের আগে আমিই ছিলাম আমার পথ।

● সংঘে থাকার অর্থ কারো মধ্যে থাকা, কারো সঙ্গে থাকা নয়।

● যে ভালোবাসার কারণ জানতে ভালোবাসে সে কাউকে ভালোবাসে না।

● সত্যের বন্ধু খুব অল্প এবং তারা একদিন আত্মহত্যা করে।

● পরিপূর্ণ হৃদয়ে সবকিছুরই জায়গা হয়, জায়গা হয় না খালি হৃদয়ে।

● ভুলের সমালোচনা হচ্ছে আরো এক ভুল।

● যে হৃদয় বিশাল তা সামান্যতেই ভরে যায়।

● মানুষ যখন বুঝতে পারে সে হাসির পাত্র, তখন আর হাসে না।

● যে ‘অসম্ভব’কে ভালোবাসে না, সে কোনোকিছুকেই ভালোবাসে না।

● তোমাকে কী দিয়েছি সেটা জানি, জানি না তুমি কী পেয়েছ।

● মানুষ স্মৃতি হওয়ার জন্যে বাঁচে।

● যে শিশুকে কেউ হাত ধরে হাঁটায় না সে-ই প্রকৃত শিশু, কারণ সে জানে, সে শিশু।

● হে প্রভু, কখনোই তোমাতে আমার বিশ্বাস ছিল না। কিন্তু সবসময় আমি তোমাকে ভালোবেসেছি।

● যে আগুনের ভিতর হাঁটে, সে মরে ঠান্ডায়।

● পতিত ফুলেই আমি দেখেছি ফুলের সুন্দরতম দিক।

● সে-ই প্রকৃত পতিত, পুনরায় ধূলিসাৎ না-হওয়ার জন্যে যে উঠে দাঁড়ায় না।

● আমার হাতে-পায়ে বাঁধা শেকলকে ভাঙতে গেলে মনে হয়, আমি নিজেকে আরো ছোট করে ফেলছি।

● গাছ নিঃসঙ্গ, মেঘ নিঃসঙ্গ, সবই নিঃসঙ্গ, যখন আমি একা।

● একমাত্র আমার শরীর। সকল জীব ও জড় থেকে আমাকে বিচ্ছিন্ন করেছে আমার শরীর।

● আমার অস্তিত্বকে আমি আমার মধ্যে খুঁজি না।

● আমি যা খুঁজছি তা আমি চাই না; আমি খুঁজতে চাই।

● যে তার ভালো’র মধ্যে আরো বড় ভালো’কে খুঁজে, সে তার ভালো’কে হারায়।

● হৃদয়কে আহত করা মানে তাকে সৃষ্টি করা।

● ক্ষুধার নরক বানায় যে, সেই তৈরি করে রুটির বেহেশত।

● ‘একজন’ হতে চাওয়া মানে নিঃসঙ্গ হওয়া। ব্যক্তি মানেই একাকিত্ব।

● আত্মার দুঃখকষ্টই আত্মাকে গড়ে তোলে। কারণ আত্মা মৃত্যু দিয়েই জয় করে তার কষ্টকে।

● বিচ্ছিন্নতার ভয় থেকেই জন্ম হয় সংঘের।

● জীবনে আমরা যদি কিছু না-হারাতাম তাহলে জীবনকেই হারাতাম।

● চোখের স্বাধীনতার দাম পরিশোধ করতেই আমি পৃথিবীতে শৃঙ্খলিত, আসামি।

● যে তার পৃথিবীকে ভূতপ্রেত দিয়ে ভরে রাখে না, সে একা।

● একটা দরজা খোলে। আমি প্রবেশ করি ভিতরে আর মুখোমুখি হই একশটা বন্ধ দরজার।

● চলে যাওয়ার সময় বাবা আমার শৈশবকে পরিণত করে যান অর্ধ শতাব্দীর একটা উপহারে।

● একশ লোক একসঙ্গে একটা লোকের একশতম অংশ।

● শিশু তার খেলনা দেখায়, মানুষ তার খেলনা লুকায়।

● তোমার হাতের ফুলটি আজকে জন্ম নিয়েও তোমার সমবয়সী।

● কাউকে কাঁদতে দেখলে তুমি কান্নার তুলনায় অধিক অশ্রুসিক্ত হও।

● শূন্যে খুব কম লোক পৌঁছায়, কারণ পথটা দীর্ঘ ।

● মানুষ কোথাও যায় না। সবকিছু তার কাছে আসে। যেমন আগামীকাল।

● সবাই দুঃখিত হলে কেউ কারো দুঃখকে শোনে না।

● ওটা ছিল সমুদ্র আর আমি। আমি ছিলাম একা। সমুদ্র ছিল একা। দুইটার থেকে একটা হারিয়ে গেছিল।

● অন্ধ তার কাঁধে একটা তারকা বহন করে।

● প্রত্যেকের আত্মা মিলেই হয় সবার আত্মা।

● মানুষ দুর্বল। যখন সে তার পেশাকে সবল করে ফেলে, তখন আরো দুর্বল হয়ে পড়ে।

● তুমি অসীমের হাতের পুতুল। তোমার নিজের অসীমতা।

● আমি গতকালে আছি, আজকেও আছি। আগামীকালেও ছিলাম।

● মৃত্যুকে জানার জন্য চলে যায় একটি জীবন।

◙   ◙   ◙  

মুহম্মদ ইমদাদ

মুহম্মদ ইমদাদ

জন্ম ৬ জানুয়ারি ১৯৭৮, মৌলভীবাজার। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি ও লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর। পেশায় শিক্ষক।

প্রকাশিত বই :
কবিতা—
অন্ধ পৃথিবীর জানলাগুলি ● নদীমাতৃক পৃথিবী মেঘমাতৃক আকাশ ● প্রেগন্যান্ট পাগলি ও অন্যান্য কবিতা

অনুবাদ—
দূরাগত স্বর ● চূর্ণচিন্তন ● আর্থার শোপেনহাওয়ারের কথাগুলি

প্রবন্ধ—
আধুনিক কবিতা বিষাদবৃক্ষের ফুল ও অন্যান্য প্রবন্ধ

ই-মেইল : esthetic00@yahoo.com
মুহম্মদ ইমদাদ

Latest posts by মুহম্মদ ইমদাদ (see all)